ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম

বাণী

ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম বনে বনে লাগল দোল্।
কুসুম-সৌখিন দখিন হাওয়ার চিত্ত গীত-উতরোল।।
অতনুর ঐ বিষ-মাখা শর নয় ও-দোয়েল শ্যামার শিস্,
ফোটা ফুলে উঠ্‌ল ভ’রে কিশোরী বনের নিচোল।।
গুল্‌বাহারের উত্তরী কার জড়াল তরু-লতায়,
মুহু মুহু ডাকে কুহু তন্দ্রা-অলস, দ্বার খোল।
রাঙা ফুলে ফুল্ল-আনন দোলে কানন-সুন্দরী,
বসন্ত তার এসেছে আজ বরষ পরে পথ-বিভোল্।

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী

বাণী

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী (হে বন-লক্ষ্মী)।
তব অপাঙ্গে হইব ভ্রুভঙ্গি।।
মোরে জ্বালায়ে জ্বালো
তব বাসরে আলো,
মোরে নূপুর করি’ বাঁধ চরণে তারি —
	নাচে তোমার সভায় যে কুরঙ্গী।।
তব রূপের দেশে
এনু বাউল বেশে,
যেন ফিরে নাহি যাই
আঁখি-প্রসাদ পাই —
	হব কেশে তব বেণীর ভুজঙ্গী।।

উচ্ছে নহে ঝিঙে নহে নহে সে পটল

বাণী

		উচ্ছে নহে, ঝিঙে নহে, নহে সে পটল ব্রজের আলু
		পিয়া হতে জনম তাই পি’য়াজ সুডোল ব্রজের আলু।।
		রসঘন রসুনের সে গন্ধতুত দাদা, ও দাদা
		রস কিছু কম হলে হতো আম আদা, ও দাদা
সে		আরো খানিক ডাগর হলে ঐ হতো ওল, ব্রজের আলু।।
		পরম বৈষ্ণব সে যে ফল-দল মাঝে — ও দাদা
		হের তার শিরে চৈতন-চুট্‌কী বিরাজে — ও দাদা
আবার	মাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচাছোলা গোল
তার		মাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচা ছোলা গোল, ব্রজের আলু।।
কাঁদে		ছল ক’রে সব বিরহিণী ইহাকে থ্যাত্‌লাতে — ও দাদা
		চক্ষু বুজে পন্ডিতে খান, বলেন ‘আলুভাতে’ — ও দাদা
ওরে		পাতে তুলেছি তুলব জাতে ব’দলে এবার ভোল, ব্রজের আলু।।

নাহি ভয় নাহি ভয়

বাণী

নাহি ভয় নাহি ভয়।
মৃত্যু সাগর মন্থন শেষ আসে মৃত্যুঞ্জয়।।
কৃষ্ণাতিথির তিমির হরণ
আসিল কৃষ্ণ তিমির বরণ,
দিকে দিকে ঐ গাহে জনগণ —
জয় হে জ্যোতির্ময়।।
দলিত হৃদয়-শতদলে তাঁর
আঁখি-জল-ঘেরা আসন বিথার,
ব্যথা-বিহারীরে দেখিবি কে আয়।
ধ্বংসের মাঝে বংশী বাজায়,
নিখিলের হৃদি বেদনা-আভায় —
নবীন অভ্যুদয়।।

কোন্ বিদেশের নাইয়া তুমি

বাণী

স্ত্রীঃ		কোন্ বিদেশের নাইয়া তুমি আইলা আমার গাঁও
		কুল-বধূর সিনান ঘাটে বাঁধলে তোমার নাও॥
পুরুষঃ		বাণিজ্যেরই লাইগ্যা কন্যা বেড়াই ভেসে স্রোতে
		(ওগো) তোমার রূপের হাট দেখলাম যাইতে এই পথে।
স্ত্রীঃ		বুঝি তাই বাঁশের বাঁশি, তাই দিয়ে কি হে বিদেশি
		অমূল্য এই মনের মানিক, কিনতে তুমি চাও॥
পুরুষঃ		তোমায় পাবো বলে আজো শূন্য আমার তরী (রে কন্যা)
স্ত্রীঃ		অমন করে চাই ও না গো আমি ভয়ে মরি।
পুরুষঃ		ভয়ে মরার চেয়ে কন্যা ডুবে মরা ভালো
স্ত্রীঃ		আমার মন ডুবেছে দেখে তোমার নয়ন কাজল কালো (রে বন্ধু)
উভয়েঃ	নূতন প্রেমের যাত্রী দু’জন ছোট্ট মোদের নাও
		ওরে গহীন জলের আকুল জোয়ার অকূলে ভাসাও 
		মোদের অকূলে ভাসাও॥

পরমাত্মা নহ তুমি মোর

বাণী

পরমাত্মা নহ তুমি মোর (তুমি) পরমাত্মীয় মোর।
হে বিপুল বিরাট! মোর কাছে তুমি, প্রিয়তম চিতচোর॥
তোমারে যে ভয় করে হে বিশ্বত্রাতা
তার কাছে তুমি রুদ্র দন্ডদাতা,
প্রেমময় বলে তোমারে যে বাসে ভালো
তার কাছে তুমি মধুর লীলা কিশোর॥
দ্যাখে ভীরু চোখ আষাঢ়ের মেঘে বজ্র তব বিপুল,
মোর মালঞ্চে সেই মেঘে হেরি, ফোটায় নবমুকুল।
আকাশের নীল অসীম পদ্ম পরে
চরণ রেখেছ, হে মহান লীলা ভরে
সেই অনন্ত জানি না কেমন ক’রে
আমার হৃদয়ে খেল দিবানিশি ভোর॥