ব্যথা দিয়ে প্রাণ ব্যথা না পায়

বাণী

ব্যথা দিয়ে প্রাণ ব্যথা না পায় — 
ওগো, অকরুণ, লহ বিদায়।।
এ পথে যায় না পথিক, ভুল করে রূপ-সন্ধানে,
এ মেঘে নাই বরিষণ, চম্‌কে চিকুর বাজ হানে।
কাঁটা-নিকুঞ্জে এ মোর আর না মুকুল মুঞ্জরে,
উদাসীর মন বেঁধে না আর নয়নের ফুল-শরে।
ভুলে গেছে পাখি তার সুর-সাধায়।।
আমারে চাও না যদি চাও মালিকার বন্ধনে,
পূজারীর প্রাণ না চাও খালি ধূপ-চন্দনে।
ফিরে যাও যাও মধুকর, আর নিলাজের গুঞ্জনে,
ছলনার জাল বুনো না এই বেদনার-ফুল-বনে।
মিছে চেয়ে থাকা মোর মন কাঁদায়।।

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে

বাণী

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
জানালা পাশে চাঁপার শাখে
‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।

আজিকে তোমারে স্মরণ করি

বাণী

আজিকে তোমারে স্মরণ করি’
মৃত্যু আড়ালে জীবন তোমার
	ওঠে অপরূপ মহিমায় ভরি’।।
জীবন তোমার তটিনীর মত
বয়ে গেছে বাধা উপল-আহত
আত্মারে রাখি চির জাগ্রত
	অম্বরে শির রেখেছিলে ধরি’।।
তোমার এ স্মৃতি বাসরে আমরা
	তোমারে শ্রদ্ধা তর্পণ দানি,
তোমার ধর্ম তোমার কর্ম
	দিক অভিনব মহিমা আনি।
এসো আমাদের করুণ স্মৃতিতে
নয়নের জলে বিষাদিত চিতে
জীবনের পরপার হতে
	পড়ুক আশিস সান্ত্বনা বারি।।

কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী

বাণী

কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী।
চির-কিশোর আরাধিকা শ্রীমতী।।
	কমলা গোলোকে
	গোপিনী ভুলোকে,
সেবিকা প্রকৃতি পরমা তপতী।।
	শ্যাম ভুবন কালো
	রাই অরুণ আলো,
হরি পূজারিণী প্রেম মূর্তিমতী।।
	ব্রজধাম বাসিনী
	লীলা বিলাসিনী,
শ্যাম নাম ভাষিণী বিরহ ভারতী।।
	শ্যাম মেঘ গলে
	রাই বিজলি দোলে,
শ্যাম পত্র কোলে রাই ফুল আরতি।।
	লয়ে যাঁহার নাম
	হরি হন রাধা শ্যাম,
সুর নর অবিরাম করে যাঁর প্রণতি।।

খেলত বায়ু ফুলবন-মে আও প্রাণ-পিয়া

বাণী

খেলত বায়ু ফুলবন-মে, আও প্রাণ-পিয়া।।
আও মন-মে প্রেম-সাথি আজ রজনী, গাও প্রেম-পিয়া।।
মন-বন-মে প্রেম মিলি দোলত হ্যয় ফুল কলি
বোলত হ্যয় পিয়া পিয়া বাজে মুরলীয়া, আওয়ে শ্যাম পিয়া।।
মন্দির মে বাজত হ্যয় পিয়া তব মুরতি
প্রেম পূজা লেও পিয়া, আও প্রেম-সাথি।
চাঁদ হাসে তারা সাথে আও পিয়া প্রেম-রথে
সুন্দর হায় প্রেম-রাতি আও মোহনীয়া, আও প্রাণ পিয়া।।

দৃষ্টিতে আর হয় না সৃষ্টি

বাণী

দৃষ্টিতে আর হয় না সৃষ্টি আগের মত গোলাপ ফুল।
কথায় সুরে ফুল ফুটাতাম, হয় না এখন আর সে-ভুল।।
	বাসি হাসির মালা নিয়ে
	কি হবে নওরোজে গিয়ে,
চাঁদ না দেখে আঁধার রাতি বাঁধে কি গো এলোচুল।।
	আজো দখিন হাওয়ায় ফাগুন আনে
	বুল্‌বুলি নাই গুলিস্তানে,
দোলে না আর চাঁদকে দেখে’ বনে দোলন-চাঁপার দুল্‌।।
	কী হারালো! নাই কি যেন
	মন হয়েছে এমন কেন,
কোন্ নিদয়ের পরশ লেগে’ হয় না হৃদয় আর ব্যাকুল।।