খোদার রহম চাহ যদি

বাণী

	খোদার রহম চাহ যদি নবীজীরে ধর।
	নবীজীরে মুর্শিদ কর নবীর কলমা পড়।।
		আল্লা যে ভাই অসীম সাগর
		কয়জন জানে তাঁহার খবর,
(যদি)	এ সাগরে যাবে, নবী নামের নায়ে চড়।।
	নবীর সুপারিশ বিনা আল্লার দরবারে কেউ যেতে নাহি পারে,
	ও ভাই আল্লা যেন সুর সেই সুরে সুমধুর বাজে নবীর বীণা তারে।
	আল্লা নামের ঝিনুকে ভাই মুক্ত যেন নবী
	আল্লা নামের আসমানে ভাই নবী যেন রবি,
	প্রিয় মোহাম্মদের নামরে ভাই আল্লা তালার চাবি
	খোদা দয়া করবেন সদা নবীরে সার কর।।

আমার শ্যামা মায়ের কোলে চড়ে

বাণী

আমার	শ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি শ্যামের নাম
		মা হলেন মোর মন্ত্র-গুরু ঠাকুর হলেন রাধা-শ্যাম।।
			ডুবে শ্যামা-যমুনাতে
		মা 	খেলবো খেলা শ্যামের সাথে
		শ্যাম যবে মোরে হানবে হেলা মা পুরাবেন মনস্কাম।।
		আমার মনের দোতারাতে শ্যাম ও শ্যামা দুটি তার,
		সেই দোতারায় ঝঙ্কার দেয় ওঙ্কার রব অনিবার।
			মহামায়া মায়ার ডোরে
			আনবে বেঁধে শ্যাম-কিশোরে
আমি		কৈলাসে তাই মাকে ডাকি দেখবো সেথা ব্রজধাম।।

আমার বিছানা আছে বালিস আছে

বাণী

শ্যালিকা: জামাইবাবু, বলি ও জামাইবাবু ।
জামাইবাবু: কে? ও, আমার বিরহতুত শালী বুঝি?
শ্যালিকা: আহা হা, দিদির বিরহে তোমার চাঁদ মুখ যে অমাবস্যার চাঁদের মত হয়ে উঠেছে । তা, তার বিরহের
একটা গান শোনাও?
জামাইবাবু: হ্যাঁ, তা মন্দ বলিস নি ভাই, তা মন্দ বলিস নি। তোর মারফতে যদি আমার দুষ্কের কথা তার কাছে
গিয়ে পৌঁচয় । শোন্‌ ভাই, শোন্‌।

আমার বিছানা আছে বালিস আছে বৌ নাই মোর খাটে
(ওগো) তার বিরহে বারোটা মাস কেমন ক'রে কাটে ও দাদা গো।।
আ, হাহাহা, বিরহে, বিরহে খাট আমার আধখানা হয়ে গেছে
বৈশাখ মাস, বৈশাখে প্রাণ ভ'য়সা যেন ধুকে রোদের তাতে (বাবু গো)
হাত-পাখা আর নড়ে না ভাই রাতে পিয়ার হাতে
জৈষ্ঠি মাস, জৈষ্ঠি মাসের গরমে হিয়ার গুষ্ঠি শুদ্ধু ফাটে ও দাদা গো।।
আষাঢ় মাস, আষাঢ় মাসে কট্‌কটে ব্যাঙ ছট্‌ফটিয়ে কাঁদে, উহুহুহুহুহু — বাবা রেএএএ
ওগো চুলকানি যে উঠলো বেড়ে প্রেমের মইষা দাদে
শ্রাবণ মাস, শ্রাবণ মাসে রাবুণে প্রেম জাগে জলের ছাটে, ও দাদা গো।।
ভাদ্র মাস, ভাদ্র মাসে আপনার বৌ হলো ভাদ্র বধূ (বাবু গো)
আশ্বিন মাসে চাখলাম না হায় পূজার মজার মধু
আমার পরাণ লাফায় পাঁঠা যেমন দাপায় হাঁড়িকাঠে ও দাদা গো।।

শ্যালিকা: তারপর কি?
জামাইবাবু: তারপর? তারপর আর নেই!
শ্যালিকা: বা-রে! এই তো মাত্র ভাদ্র-আশ্বিন হলো। আর ছ'মাস যে বাকি রইলো।
জামাইবাবু: না-রে ভাই, আর বাকি নেই, আর বাকি নেই, আর বাকি নেই।
শ্যালিকা: বলবে না? বলবে না তো? আহা ভাল লাগলো কিনা, তাই এতো খোসামুদি করছি। না গাইবে তো
যাও, তোমার সঙ্গে আর আমি কখখনো ...
জামাইবাবু : ওরে ওরে ওরে ওরে, শোন্‌ শোন্‌ শোন্‌ শোন্‌, ও ভাবে যাস্‌ নি, যাস্‌ নি। ওরে তুই রাগ করিস নে
রে ভাই, তুই রাগ করিস নে। দ্যাখ, এই বার মাস বিরহে বিরহে আমার কাটছে। ওরে তুই আমার
একমাত্র শান্ত্বনা। তুই যদি রাগ করে চলে যাস তাহলে আমার অবস্থাটা কি হবে একবার বোঝ্‌।
আচ্ছা, গাইছি শোন্‌।

কার্তিক মাস, হ্যাঁ? কার্তিকে মোর ময়ূরী এই কার্তিককে ফেলে (ওরে)
ও তার দাদার ঘরের রাধা হয়ে বেড়ায় পেখম মেলে

শ্যালিকা: যাঃ, ভারি দুষ্টু!
জামাইবাবু: না, না, সত্যি, সত্যি, সত্যি, শোন্‌ না, শোন্‌ না।

অঘ্রাণ, অঘ্রাণে ধান কাটে চাষা আমার কেঁদে কাটে ও দাদা গো।।
পৌষ মাস, পৌষে আমার বৌ সে কোথায় গুড়ের পিঠা খায় (বাবু গো)
আর হেথায় আমার জিহ্বা দিয়া নাল ঝরিয়া যায়
মাঘ মাস, ওরে মাঘ মাসে যার মাগ নাই সে যাক না শ্মশান ঘাটে ও বাবু গো।।
ফাল্গুন মাস, ফাল্গুনে ছাই ডাল-নুনে কি মেটে প্রেমের খিদে
হাতের কাছে কাকে খুঁজি রাতের বেলায় নিদে (আমি)
চৈত্র মাস, চৈত্র মাসে মধু খুঁজি হায়রে কদুর বাটে।।

তুই জগত-জননী শ্যামা

বাণী

তুই জগত-জননী শ্যামা আমি কি মা জগত ছাড়া,
কোন দোষে মা তুই থাকিতে আমি চির মাতৃহারা।।
পুত্র অপরাধী ব'লে মা কি তারে নেয় না কোলে,
মা শাসন করে মারে-ধরে তবু কাছ ছাড়া করে না তারা।
কোন দোষে মা তুই থঅকিতে আমি চির মাতৃহারা।।
ছেলের চোখে ঠুলি দিয়ে কি মা নিজেরে লুকিয়ে রাখে
ছেলের দুঃখে মা উদাসীন দেখিনি তো এমন মাকে।
মাতৃস্নেহ পেলে শ্যামা এমন মন্দমতি হতেম না মা
তুই যাহারে হানিস হেলা তার কে মোছাবে নয়ন-ধারা
কোন দোষে মা তুই থাকিতে আমি চির মাতৃহারা।।

কোথায় তখত তাউস কোথায় সে বাদশাহী

বাণী

কোথায় তখত তাউস, কোথায় সে বাদশাহী।
কাঁদিয়া জানায় মুসলিম ফরিয়াদ ইয়া ইলাহী।।
কোথায় সে বীর খালিদ, কোথায় তারেক মুসা
নাহি সে হজরত আলী, সে জুলফিকার নাহি।।
নাহি সে উমর খত্তাব, নাহি সে ইসলামী জোশ
করিল জয় যে দুনিয়া, আজি নাহি সে সিপাহি।।
হাসান হোসেন সে কোথায়, কোথায় বীর শহীদান —
কোরবানি দিতে আপনায় আল্লার মুখ চাহি'।।
কোথায় সে তেজ ঈমান, কোথায় সে শান-শওকত,
তকদীরে নাই সে মাহতাব, আছে প'ড়ে শুধু সিয়াহি।।

কেন মনে জাগে উদাসিনী গৌরী

বাণী

কেন	মনে জাগে উদাসিনী গৌরী উমার স্মৃতি!
আর	কত দূরে কত দেরি আনন্দময়ীর আসার তিথি।।
	কেন	পদ্মদীঘি দুলে ওঠে হৃদয়ে
	মোর	নন্দিনী মা আসে কি রাঙা চরণ ল’য়ে?
কেন	নয়নের বাতায়নে উতলা হ’ল, অশ্রুর ভ্রমর-বীথি।।
	তার মন নাই, উন্মনা চিন্ময়ী সে, তাই ছেলের কথা মনে নাই,
	শারদ-শ্রী এলো, পরমা-শ্রী কই — কাঁদি আর পথ-পানে চাই।
	ওকি	ঘরে এসে, নাম ধরে, ডেকে চ’লে যায়
		শিউলির অঞ্জলি ফেলে আঙিনায়,
	ভোরের ভৈরবী বুকে মোর কাঁদে গো, ওকি তার করুণ-গীতি।।

গীতিচিত্রঃ শারদ-শ্রী