এলে তুমি কে কে ওগো

বাণী

পুরুষ	:	এলে তুমি কে, কে ওগো
		তরুণা অরুণা করুণা সল চোখে।
স্ত্রী	:	আমি তব মনের বনের পথে
		ঝিরি ঝিরি গিরি-নির্ঝরিণী
		আমি যৌবন-উন্মনা হরিণী মানসলোকে।।
পুরুষ	:	ভেসে যাওয়া মেঘের সজল ছায়া
		ক্ষণিক মায়া তুমি প্রিয়া
		স্বপনে আসি' বাজায়ে বাঁশি স্বপনে যাও মিশাইয়া।
স্ত্রী	:	বাহুর বাঁধনে দিই না ধরা —
		আমি স্বপন-স্বয়ম্বরা
		সঙ্গীতে জাগাই ইঙ্গিতে ফোটাই
		তোমার প্রেমের যুঁই-কোরকে।
পুরুষ	:	আধেক প্রকাশ 
স্ত্রী	:	আধেক গোপন
পুরুষ	:	আধো জাগরণ 
স্ত্রী	:	আধেক স্বপন
উভয়ে	:	খেলিব খেলা ছায়া-আলোকে।।

জাগো মালবিকা জাগো মালবিকা

বাণী

জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা!
ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।।
বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো,
বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।।
তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো,
তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।

কোয়েলা কুহু কুহু ডাকে

বাণী

কোয়েলা কুহু কুহু ডাকে।
নব মুকুলিত আমের শাখে।।
	যাহার দরশ লাগি’
	একেলা কুটীরে জাগি,
মোর সাথে পাখিও কি ডাকিছে তাহাকে।।
চাঁদিনী নিভে যায় আমার চোখে,
চাঁদে মনে পড়ে চাঁদের আলোকে।
	কুহু স্বর প্রাণে মম
	বাজিতেছে তার সম,
চাঁদিনী নিশীথ মোর বিষাদ-মেঘে ঢাকে।।

আসিলে কে গো বিদেশি

বাণী

আসিলে কে গো বিদেশি দাঁড়ালে মোর আঙিনাতে।
আঁখিতে ল’য়ে আঁখি-জল লইয়া ফুল-মালা হাতে।।
জানি না চিনি না তোমায় কেমনে ঘরে দিব ঠাঁই
অমনি আসে তো সবাই হাতে ফুল, জল নয়ন-পাতে।।
কত সে প্রেম-পিয়াসি প্রাণ চাহিছে তোমার হাতের দান
কাঁদায়ে কত গুলিস্তান আমারে এলে কাঁদাতে।।
ফুলে আর ভোলে না মোর মন, গলে না নয়ন-জলে,
ভুলিয়া জীবনে একদিন আজিও জ্বলি জ্বালাতে।।

তুমি নামো হে নামো শামো

বাণী

[কেডারে? কেডা? উ-কেলিকদম্ব গাছে এই ডাল ঐ ডাল কইরা লাফ দিয়া বেড়াইত্যাছ? ও — ঘোষ পাড়ার হেই বখাইট্রা পোলাটা না? 
উ-হুঁ-হুঁ, আবার পিরুক কইরা বাঁশি বাজান হইত্যাছে ? নাম্যা, আসো। ভরদুপুর বেলা মাইয়াগো সান ঘাটের কাছে — অ্যাঁ-হ্যাঁ-হ্যাঁ আবার কিষ্ট সাজাছেন?
বলি কেষ্ট সাজছো? নামো শিগগিরে নামো পোড়া কপাইল্যা নামো —]
তুমি নামো হে নামো শামো হে শামো কদম্ব ডাল ছাইড়া নামো। দুপরি রৌদ্রে বৃথাই ঘামো ব্যস্ত রাধা কাজে, ওহে শামো হে শামো॥ আরে তোমার ললিতাদেবী কি করতেয়াছে জাননি? তোমার ললিতাদেবী? আরে ললিতাদেবী সলিতা পাকায়, বিশাখা ঝোলে হিজল শাখায়। আর বৃন্দাদুতী কি করছে জান? বৃন্দাদুতী? বৃন্দাদুতী পিন্দা ধুতি গোষ্টে গেছেন তোমার ‘পোস্টে’ সাজিয়া রাখাল সাজে আর চন্দ্রা গ্যাছেন অন্ধ্র দেশে মান্দ্রাজী জাহাজে॥ আবার ইতি উতি চাও ক্যা? ইতি উতি চাইবার লাগছ ক্যা? এ্যা? আমি কমুনা কোন্‌খানে তোমার যমুনা - তা আমি কমু না? আরে (তুমি) ইতি উতি চাও বৃথাই আমি কমু না কোথায় তোমার যমুনা কইলকাতা আর ঢাকা রমনার লেকে পাবে তার নমুনা। আরে তোমার যমুনা লেক হইয়া গ্যাছে গিয়া! বুঝ্‌লা? হালার যমুনা ল্যাক হইয়া গ্যাছে গিয়া। কলেজে ফিরিছে শ্রীদাম সুদাম শ্রীদাম সুদাম কলেজে যাইতেয়াছে, আর তুমি এখানে বাঁশি বাজাইতেয়াছ অ্যাঁ! পোড়া কপাইল্যা — কলেজে ফিরিছে শ্রীদাম সুদাম, মেরে মাল কোঁচা খুলিয়া বোতাম লাঙ্গল ছাড়িয়া বলরাম ডাম্বেল মুঘার ভাঁজে। ওহে শামো হে শামো আরে তুমি নামো, পোড়া কপাইল্যা নামো॥

দেশ গৌড়-বিজয়ে দেবরাজ গগনে

বাণী

দেশ গৌড়-বিজয়ে দেবরাজ গগনে এলো বুঝি সমর-সাজে।
তাহারি মেঘ-মৃদঙ্গ গুরু গুরু আষাঢ়-প্রভাতে সহসা বাজে।।
	গহন কৃষ্ণ ঐরাবত-দল
	রবিরে আবরি’ ঘিরিল নভতল,
হানে খরশর বৃষ্টি ধারা জল — পবন-বেগে প্রতি ভবন-মাঝে।।
	বনের এলোকেশ বিজলি-পাশে
	বাঁধিয়া দেব্-সেনা অট্রহাসে।
	শ্যামল গৌড়ের অমল হাসি
	শস্যে-কুসুমে ওঠে প্রকাশি’,
অঙ্গে তাহার আঘাত-রাশি — দেব-আশীর্বাদ হয়ে বিরাজে।।