আজ শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে

বাণী

আজ	শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে মন চলে মোর ভেসে',
	রেবা নদীর বিজন তীরে মালবিকার দেশে।।
		মন ভেসে যায় অলস হাওয়ায়
		হালকা-পাখা মরালী-প্রায়
	বিরহিনী কাদেঁ যথা একলা এলাকেশে।।
	কভু মেঘের পানে কভু নদীর পানে চেয়ে,'
	লুকিয়ে যথা নয়ন মোছে গায়েঁর কালো মেয়ে,
	একলা বধূ বসে থাকে যথায় বাতায়নে
				বাদল দিনের শেষে।।

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে

বাণী

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে।
প্রখর রবির তাপে রে।।
চাহিয়া তৃষ্ণার বারি
চাতক ওঠে ফুকারি’
করুণ-শান্ত বিলাপে রে।।
রুদ্রযোগী ও-কে দূর বিমানে,
নিমগ্ন রহিয়াছে যেন ধ্যানে।
শকুন্তলা সম ভয়ে
কাঁপে ধরা র’য়ে র’য়ে,
অগ্নি-ঋষির অভিশাপ রে।।

মহুয়া বনে লো মধু খেতে সই

বাণী

মহুয়া বনে লো মধু খেতে, সই,
বাহিরে চাঁদ এলো, ঘরে মোর চাঁদ কই।।
আমার নাচের সাথী কোথা পাইনে দেখা
সরে না পা ওলো নাচতে একা
সে বিনে সখী লো আমি আমার নই।।
মিছে মাদলে তাল হানে মাদলিয়া,
সে কি গেল বিদেশ, মোরে না বলিয়া।
দূরে বাঁশি বাজে পলাশ পিয়াল বনে,
বুঝি ঐ বঁধু মোর, যেন লাগে মনে
সে মোরে ভুলে নাচে কাহার সনে?
সে যে জানতো না সজনী কভু আমি বৈ।।

কোকিল সাধিলি কি বাদ

বাণী

কোকিল, সাধিলি কি বাদ।
নিশি অবসান হল না মিটিতে সাধ।।
	মিলনের মোহ কেন
	ডাকিয়া ভাঙিলি হেন,
তুই রে সতিনী যেন — চন্দ্রাবলীর ফাঁদ।।
	সারা নিশি অভিমানে
	চাহিনি শ্যামের পানে,
জেগে দেখি কুহু-তানে — নাহি শ্যামচাঁদ।।
	ননদিনী কুটিলা কি
	পাঠায়েছে তোরে পাখি,
সুরের বাসরে ডাকি’ — আনিলি বিষাদ।।

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে

বাণী

মরালী-গমনশ্রী মদ-অলস চরণে।
কে পূর্ণ-যুবতী গো চল নীর-ভরণে।
	বেণী-বিলম্বিতা
	উন্‌মনা অসম্বৃতা,
দেশকার লোভাতে চল মুনি-মন হরণে।।
পূর্বাচল-বিভাসিত গো তব গৌরী অঙ্গে,
ব্রজে তুমি কি বিরাজ কর গোপী-মাধব সঙ্গে।
	পঞ্চমে পাপিয়া বোলে
	চমকি’ থাম তরুতলে,
সরসী-নীরে কমল রাঙে তব অরুণ-বরণে।

পরদেশী বঁধু ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি

বাণী

পরদেশী বঁধু! ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি
যদি গো নিশীথে গো ঘুমাইয়া থাকি।
	আমি ঘুমাইয়া থাকি
	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।
যদি দীপ নেভে গো কুটিরে
বাতায়ন-পানে চাহি' যেয়ো না গো ফিরে',
নিভেছে আঁখি শিখা প্রাণ আছে বাকি
	আজো প্রাণ আছে বাকি
	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।