গগনে প্রলয় মেঘের মেলা

বাণী

গগনে প্রলয় মেঘের মেলা জীবন-ভেলা দোলে টলমল
নীর অপার ভব পারাবার তীর না হেরে পরান বিকল
	তীর না হেরে নয়নে পরান বিকল।।
	দীন দয়াল ভীত দীন জনে
	মাগে শরণ তব অভয় চরণে
দুস্তর দুর্গম দুঃখ জলধি তরিতে চরণ-তরী ভরসা কেবল।।

বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়

বাণী

বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়
কাজল-পরা চোখ নিয়ে আয় আমার আঙিনায় রে।।
(দেখ্‌) নেই বনে কেউ এক্‌লা দুপুর
আয় ঝরা পাতায় বাজিয়ে নুপুর, ঝুমুর ঝুমুর
তোরে ডাকে নোটন পায়রার দল ডাকে মেঘের ঝরোকায় রে।।
কি দেখে তুই ধীরি ধীরি চাস্‌ রে ফিরি ফিরি,
বন্‌-শিকারির তীর নহে ও, ঝরনা ঝিরি ঝিরি।
	মাদল বাজে ঈশান কোণে
	ঝড় উঠেছে আমার মনে
সেই তুফানের তালে তালে নাচ্‌বি চপল পায় রে।।

জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস্ মা

বাণী

জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস্ মা, শ্যামা কি তুই জেলের মেয়ে।
(তোর) মায়ার জালে মহামায়া, বিশ্বভুবন আছে ছেয়ে॥
	প’ড়ে মা তোর মায়ার ফাঁদে 
	কোটি নরনারী কাঁদে;
তোর মায়াজাল ততই বাঁধে পালাতে চায় যত ধেয়ে॥
চতুর যে-মীন সে জানে মা জাল থেকে যে মুক্তি আছে;
(তাই)	জেলে যখন জাল ফেলে মা সে লুকায় জেলের পায়ের কাছে।
	জাল এড়িয়ে তাই সে বাঁচে।
	তাই মা আমি নিলাম শরণ
	তোর ও দুটি রাঙা চরণ,
এড়িয়ে গেলাম মায়ার বাঁধন মা তোর অভয়-চরণ পেয়ে॥

চল মন আনন্দ-ধাম

বাণী

চল	মন আনন্দ-ধাম।
	চল মন আনন্দ-ধাম রে,
	চল আনন্দ-ধাম।।
	লীলা-বিহার প্রেম লোক
	নাই রে সেথা দুঃখ শোক,
সেথা	বিহরে চির-ব্রজ-বালক — 
	বন্‌শিওয়ালা শ্যাম রে
	চল আনন্দ-ধাম।।
	নাহি মৃত্যু নাহি ভয়
	নাহি সৃষ্টি, নাহি লয়,
খেলে	চির-কিশোর চির-অভয় —
	সঙ্গীত ওম্ না রে
	চল আনন্দ ধাম।।
	নাহি চরাচর নাহি রে ব্যোম
	লীলা-সাথী গ্রহ রবি ও সোম,
	সঙ্গীত ‘ওম্’ নাম রে
	চল আনন্দ ধাম।।

১. অবাঙ্‌মনস-গোচরম্‌

আমি গিরিধারী সাথে মিলিতে যাইব

বাণী

আমি 	গিরিধারী সাথে মিলিতে যাইব, সুন্দর সাজে মোরে সাজায়ে দে।
	লাখ যুগের পরে শুভদিন এলো, মেহেদী রঙে হাত রাঙায়ে দে।।
	চন্দন টিপ, গলে মালতীর মালা, নয়নে কাজল পরায়ে দে,
	অধর রাঙায়ে দে তাম্বুল রাগে, চরণে আল্‌তা মাখায়ে দে।।
	প্রেম নীল শাড়ি প্রীতির আঙিনা, অনুরাগ ভূষণে বধূ সাজিয়া
	হৃদয়-বাসরে মিলিব দোঁহে — কুসুমের শেজ সখি বিছায়ে দে।।

এসো মুরলীধারী বৃন্দাবন-চারী

বাণী

এসো মুরলীধারী বৃন্দাবন-চারী গোপাল গিরিধারী শ্যাম।
তেমনি যমুনা বিগলিত-করুণা কুলু কুলু কুলু স্বরে ডাকে অবিরাম।।
	কোথায় গোকুল-বিহারী শ্রীকৃষ্ণ
	চাহিয়া পথ পানে ধরণী সতৃষ্ণ,
ডাকে মা যশোদায় নীলমণি আয় আয় ডেকে যায় নন্দ শ্রীদাম।।
ডাকে প্রেম-সাধিকা আজো শত রাধিকা গোপ-কোঙারি,
এসো নওল-কিশোর কুল-লাজ-মান-চোর ব্রজ-বিহারী।
পরি’ সেই পীতধড়া, সেই বাঁকা শিখী চূড়া বাজায়ে বেণূ
আরবার এসো গোঠে, খেল সেই ছায়া-বটে চরাও ধেনু
কদম তমাল-ছায়ে এসো নূপুর পায়ে ললিত বঙ্কিম ঠাম।।