সুনয়না চোখে কথা ক’য়ে যায়

বাণী

সুনয়না চোখে কথা ক’য়ে যায়
বনের রানী, দুটি ফুলে শুনি
নয়ন ফাঁকে প্রাণ লুকিয়ে চায়॥
দেহ দেউলে, দুটি দীপ দুলে
হেরি সারা অন্তর তায়॥

আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

বাণী

আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।

রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

এত দিনে ধরা দিলে বনের পাখি

বাণী

এত দিনে ধরা দিলে বনের পাখি।
কেথায় রাখি, কোন্ প্রিয় নামে ডাকি।।
সদাই জাগে ভয়, দুরু দুরু হিয়া
কখন উড়ে যাবে বনের পাপিয়া
জেগে থাকি তাই সদা ঘুমহারা আঁখি।।
নয়নে রাখিলে, হিয়া কাঁদে অভিমানে
হিয়ায় রাখিলে, বারি ঝরে নয়নে,
তুমি ব’লে দাও প্রিয় কোথায় রাখি।।

নাটক : ‘অর্জুন-বিজয়’

শূন্য আজি গুল-বাগিচা যায় কেঁদে দখিন হাওয়া

বাণী

শূন্য আজি গুল-বাগিচা যায় কেঁদে দখিন হাওয়া।
রাঙা গুলের বাজার আজি স্মৃতির কাটায় ছাওয়া।।
ধূলি ঢাকা ফুল সমাধি আজি সে গুলিস্তানে
ছিল যথায় খুশির জলসা বুলবুলির গজল গাওয়া।।
শুকনো পাতায় ছেয়েছে আজ সাকির চরণ রেখা
নাহি সেথায় বঁধুর লাগি বঁধূর আসা-যাওয়া।।
নাহি মিঠা পানির নহর আছে প'ড়ে বালুচর
এ যেন গো হৃদয়ের ভরা-ডুবির পথ বাওয়া।।

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা

বাণী

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা
মেঘের এলোকেশে ওড়ে পুবালি বায়
দোলে গলায় বলাকার মালিকা।।
চপল বিদ্যুতে হেরি' সে চপলার
ঝিলিক হানে কণ্ঠের মণিহার,
নীল আঁচল হতে তৃষিত ধরার পথে
ছুড়ে ফেলে মুঠি মুঠি বৃষ্টি শেফালিকা।।
কেয়া পাতার তরী ভাসায় কমল-ঝিলে
তরু-লতার শাখা সাজায় হরিৎ নীলে।
ছিটিয়ে মেঠো জল খেলে সে অবিরল
কাজলা দীঘির জলে ঢেউ তোলে
আনমনে ভাসায় পদ্ম-পাতার থালিকা।।

বেসুর বীণায় ব্যথার সুরে

বাণী

বেসুর বীণায়	ব্যথার সুরে বাঁধ্‌ব গো
পাষাণ-বুকে	নিঝর হয়ে কাঁদব গো।।
কুলের কাঁটায়	স্বর্ণলতার দুল্‌ব হার,
ফণীর ডেরায়	কেয়ার কানন ফাঁদ্‌ব গো।।
ব্যাধের হাতে	শুনব সাধের বঙশী-সুর,
আস্‌লে মরণ	চরণ ধ’রে সাধব গো।।