আমি পথ-মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে

বাণী

আমি পথ-মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে। 
গোপন অশ্রু-সম রাতের নয়ন-পাতে।। 
দেবতা চাহে না মোরে 
গাঁথে না মালার ডোরে, 
অভিমানে তাই ভোরে শুকাই শিশির-সাথে।। 
মধুর সুরভি ছিল আমার পরাণ ভরা, 
আমার কামনা ছিল মালা হয়ে ঝ’রে পড়া। 
ভালোবাসা পেয়ে যদি 
আমি কাঁদিতাম নিরবধি, 
সে-বেদনা ছিল ভালো, সুখ ছিল সে-কাঁদাতে।। 

প’রো প’রো চৈতালি-সাঁজে কুস্‌মি শাড়ি

বাণী

প’রো প’রো চৈতালি-সাঁজে কুস্‌মি শাড়ি।
আজি তোমার রূপের সাথে চাঁদের আড়ি॥
প’রো ললাটে কাঁচপোকার টিপ,
তুমি আলতা প’রো পায়ে হৃদি নিঙাড়ি’॥
প্রজাপতির ডানা-ঝরা সোনার টোপাতে,
ভাঙা ভুরু জোড়া দিও বাতুল শোভাতে।
বেল-যূথিকার গ’ড়ে মালা প’রো খোঁপাতে
দিও উত্তরীয় শিউলি-বোঁটার রঙে ছোপাতে,
রাঙা সাঁঝের সতিনী তুমি রূপ-কুমারী॥

আল্লার নাম মুখে যাহার বুকে আল্লার নাম

বাণী

আল্লার নাম মুখে যাহার বুকে আল্লার নাম।
এই দুনিয়াতেই পেয়েছে সে বেহেশ্‌তের আরাম।।
সে সংসারকে ভয় করে না নাই মৃত্যুর ডর
দুনিয়াকে শোনায় শুধু আনন্দেরি খবর
দিবানিশি পান করে সে কওসরেরি জাম —
		পান করে কওসরেরি জাম।।

ইসলামী নক্সা : ‘আল্লার রহম’

মরণ ডাকে আয় রে চ’লে

বাণী

মরণ ডাকে — ‘আয় রে চ’লে!’ জীবন বলে — ‘যাই গো যাই।’
জীবনে হায় পায়নি ব’লে (আমার) মরণে তাই চাই গো চাই।।
	জীবন শুধু কাঁটায় ভরা
	তাই বুঝি সে দেয়নি ধরা,
ফুল-বিছানো কবরে তার মধুর পরশ পাই গো পাই।
মরণ-বঁধূর ডাক শুনে আর জীবনে সাধ নাই গো নাই।।

নাটকঃ ‘কাফন চোরা’

ঢালো মদিরা মধু ঢালো

বাণী

ঢালো মদিরা মধু ঢালো, (ঢালো আরো)
মদ রঞ্জিত হোক পান্‌সে চাঁদের আলো।।
সারা দিনমান গেল বিফল কাজে,
জাগে হৃদয়ে আনন্দ তৃষ্ণা সাঁঝে।
চাহে পরান বিধুর সুরা আর সুর —
আর অনুরাগ রাঙা দু’টি নয়ন কালো।।

নাটক : ‘দেবী দুর্গা’

আনারকলি! আনারকলি!

বাণী

আনারকলি! আনারকলি!
স্বপ্নে দেখে’ কোন্ ডালিম-কুমারে
এসেছিলে রেবা ঝিলামের’ পারে,
দিতে তব রাঙা হৃদয়ের অঞ্জলি।।
মরুর মণিকা বাদশাহী নওরোজে
এসেছিলে কোন্ হারানো হিয়ার খোঁজে,
তব রূপ হেরি’ হেরেমের দীপ-মালা উঠেছিল চঞ্চলি’।।
পতঙ্গ সম পাপড়ির পাখা মেলি’ আনারকলি গো — 
সেলিমের অনুরাগ-মোমের প্রদীপে পড়িলে ঢলি’ গো — 
মিলায়েছে মাটিতে মোগলের মসনদ, আনারকলি।
তুমি আজো দুলিতেছ ফুলের হাসিতে
বিরহীর বাঁশিতে, আনারকলি;
তব জীবন্ত সমাধির বিগলিত পাষাণে
আজও প্রেম-যমুনার ঢেউ ওঠে উথলি’।।

সঙ্গীতালেখ্য: ‘পঞ্চাঙ্গনা’