তুমি ফুল আমি সুতো গাঁথিব মালা

বাণী

পুরুষ	:	তুমি ফুল আমি সুতো গাঁথিব মালা
স্ত্রী	:	সহিতে হবে মোরে সুচির জ্বালা॥
পুরুষ	:	দুলিবে গলে মোর বুকের’ পরে
স্ত্রী	:	ফেলে দিবে বাসি হলে নিশি-ভোরে
		বন-কুসুম ঝরি বনে নিরালা॥
পুরুষ	:	তব কুঞ্জ-গলি আসে দখিন-হাওয়া আসে চপল অলি
স্ত্রী	:	তা’রা রূপ-পিয়াসি তা’রা ছিঁড়ে না কলি।
		তা’রা বনের বাহিরে মোরে নেবে না কালা।
পুরুষ	:	তবে চলিয়া যাই আমি নিরাশা ল’য়ে
স্ত্রী	:	না, না, যেয়ো না যেয়ো না, থাক গো বুকে শিশির হয়ে।
পুরুষ	:	এসো নব প্রেমে করি বন উজালা।
দ্বৈত	:	এসো নব প্রেমে করি বন উজালা।

জনম জনম তব তরে কাঁদিব

বাণী

জনম জনম তব তরে কাঁদিব।
যত হানিবে হেলা ততই সাধিব।।
	তোমারি নাম গাহি’ 
	তোমারি প্রেম চাহি’,
ফিরে ফিরে নিতি তব চরণে আসিব।।
জানি জানি বঁধু, চাহে যে তোমারে,
ভাসে সে চিরদিন নিরাশা-পাথারে।
	তবু জানি হে স্বামী
	কোন্ সে-লোকে আমি,
তোমারে পাব বুকে বাহুতে বাঁধিব।।

১. যত করিবে, ২. ফিরে ফিরে আমি তব চরণে আসিব, ৩. জীবন-স্বামী

অসীম বেদনায় কাঁদে মদিনাবাসী

বাণী

অসীম বেদনায় কাঁদে মদিনাবাসী।
নিভিয়া গেল চাঁদের মুখের হাসি।।
শোকের বাদল আছড়ে প’ড়ে
কাঁদছে মরুর বুকের পরে,
ব্যথার তুফানে আরব গেল ভাসি’।।
গোলাব-বাগে গুল্‌ নাহি আজ
			কাঁদিছে বুল্‌বুলি,
ছাইল আকাশ অন্ধকারে
			মরু সাহারার ধূলি।
তরুলতা বনের পাখি,
‌‘কোথায় হোসেন?’ কইছে ডাকি’,
পড়ছে ঝরে তারার রাশি।।

পরদেশী বঁধু ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি

বাণী

পরদেশী বঁধু! ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি
যদি গো নিশীথে গো ঘুমাইয়া থাকি।
	আমি ঘুমাইয়া থাকি
	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।
যদি দীপ নেভে গো কুটিরে
বাতায়ন-পানে চাহি' যেয়ো না গো ফিরে',
নিভেছে আঁখি শিখা প্রাণ আছে বাকি
	আজো প্রাণ আছে বাকি
	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।

তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো কভু

বাণী

তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো কভু।
আমরা অবোধ, অন্ধ মায়ায় তাই তো কাঁদি প্রভু।।
তোমার মতই তোমার ভুবন
চির পূর্ণ, হে নারায়ণ!
দেখতে না পায় অন্ধ নয়ন তাই এ দুঃখ প্রভু।।
ঝরে যে ফল ধূলায় জানি, হয় না তাহা (কভু) হারা,
ঐ ঝরা ফলে নেয় যে জনম তরুণ তরুর চারা —
তারা হয় না কভু হারা।
হারালো (ও) মোর প্রিয় যারা,
তোমার কাছে আছে তারা;
আমার কাছে নাই তাহারা — হারায়নিক’ তবু।।

মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ

বাণী

মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ এলোমেলো
মাতলা হাওয়া এলো বনে।
ময়ূরী নাচে কালো জামের গাছে
পিয়া পিয়া বন-পাপিয়া
ডাকে গো আপন মনে।।
বেত-বনের আড়ালে ডাহুকী ডাকে,
ডাকে না এমন দিনে কেহ আমাকে,
বেণীর বিনুনী খুলে পড়ে
একলা মন টেকে না ঘরের কোণে।।
জঙ্গল পাহাড় কাঁপে বাজের আওয়াজে,
বুকের মাঝে তবু নূপুর বাজে।।
ঝিঁঝিঁ তার ডাক ভুলে
ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ বৃষ্টির বাজ্‌না শোনে।।