শেষ হ’ল মোর এ জীবনে

বাণী

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
	শুকালো যে আশার মুকুল,
তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।

গোধূলির শুভ লগন এনে

বাণী

গোধূলির শুভ লগন এনে সে কেন বিদায়ের বাঁশি বাজায়।
ওর মিলনের মালা ভালো লাগে না বুঝি গো, ও-শুধু বিরহের অশ্রু চায়।।
	কে জানিত ও-বিরহ-বিলাসী
	সকালের ফুল চায়, সন্ধ্যায় উদাসী,
দিনে যে ধরা দেয় দীনের মতন রাতে সে শূন্যে কেন মিশে যায়।।
	ঘরে এনে কেন ভোলাতে চায় ঘর
	আত্মা জড়ায়ে কাঁদে, আত্মীয়ে করে পর,
প্রেম-কৃপা-ঘন সে নাকি সুন্দর — কেন তবে অসহ দুঃখ দিয়ে কাঁদায়।।

বনমালার ফুল জোগালি বৃথাই বন-লতা

বাণী

বনমালার ফুল জোগালি বৃথাই বন-লতা
বনের ডালায় কুসুম শুকায়, বনমালি কোথা।।
	শুকনো পাতার গুনে নূপুর
	চমকে ওঠে বনে ময়ূর,
রাস নাই আজ নিরাশ ব্রজে গভীর নীরবতা।।
যমুনা-জল উজান বেয়ে কদম-তলে আসি’
ভাটিতে যায় ফিরে, নাহি শু’নে শ্যামের বাঁশি।
	তমাল-ডালে ঝুলনা আর
	গোপীরা বাঁধেনি এবার,
শ্রাবণ এসে কেঁদে শুধায় ঘনশ্যামের কথা।।

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
বন্ধু, ওগো বন্ধু;
তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।

কিশোরী মিলন-বাঁশরি

বাণী

	কিশোরী, মিলন-বাঁশরি
শোন	বাজায় রহি’ রহি’ বনের বিরহী —
	লাজ বিসরি’ চল জল্‌কে।
তার	বাঁশরি শুনি’ কথার কুহু
	ডেকে ওঠে কুহুকুহু - মুহুমুহু;
	রস-যমুনা-নীর হ’ল অধীর, রহে না থির;
ও তার 	দু-কূল ছাপায়ে তরঙ্গদল ওঠে ছল্‌কে॥    
	কেন লো চম্‌কে দাঁড়ালি থম্‌কে —
পেলি	দেখতে কি তোর প্রিয়তম্‌কে!
পেয়ে	তারি কি দেখা নাচিছে কেকা,
হ’ল	উতলা মৃগ কি দেখে চপল্‌কে॥

নাটকঃ ‘চক্রব্যূহ’

তোমার সজল চোখে লেখা মধুর গজল

বাণী

তোমার সজল চোখে লেখা মধুর গজল গান।
চেয়ে চেয়ে তাই দেখে গো আমার দু’নয়ান।।
	আমার পুঁথির আখর যত
	তোমার মালার মোতির মত,
তাই দেখি আর পাঠ ভুলে যাই, আকুল করে প্রাণ।।
যেমন	বুলবুলি আর রঙিন গোলাব
	লায়লী-মজনু দুইজনে ভাব,
ওদের প্রেমে ধূলির ধরা হল গুলিস্তান।।

নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’