পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া

বাণী

		পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া
		যাও রে বইয়া এই গরিবের সালামখানি লইয়া।।
		কাবার জিয়ারতের আমার নাই সম্বল ভাই
		সারা জনম সাধ ছিল যে মদিনাতে যাই (রে ভাই)
		মিটল না সাধ, দিন গেল মোর দুনিয়ার বোঝা বইয়া।।
(তোমার)	পানির সাথে লইয়া যাও রে আমার চোখের পানি
		লইয়া যাও রে এই নিরাশের, দীর্ঘ নিশাসখানি।
		নবীজীর রওজায় কাঁদিও ভাই রে আমার হইয়া।।
		মা ফাতেমা হজরত আলীর মাজার যথায় আছে
আমার	সালাম দিয়া আইস তাদের পায়ের কাছে (রে ভাই!)
		কাবায় মোনাজাত করিও আমার কথা কইয়া।।

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে

বাণী

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে জাগায়ো না জাগায়ো না,
সারা জীবন যে আলো দিল ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না।।
	যে সহস্র করে রূপরস দিয়া
	জননীর কোলে পড়িল ঢলিয়া
তাঁহারে শান্তি-চন্দন দাও ক্রন্দনে রাঙায়ো না।।
যে তেজ শৌর্য-শক্তি দিলেন, আপনারে করি ক্ষয়
			তাই হাত পেতে নাও।
বিদেহ রবি ও ইন্দ্র মোদের নিত্য দেবেন জয়
			কবিরে ঘুমাতে দাও।
	অন্তরে হের হারানো রবির জ্যোতি
	সেইখানে তারে নিত্য কর প্রণতি
	আর কেঁদে তাঁরে কাঁদায়ো না।।

হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই ভারতের

বাণী

হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই ভারতের দুই আঁখি-তারা।
এক বাগানে দুটি তরু — দেবদারু আর কদমচারা।।
	যেন গঙ্গা সিন্ধু নদী
	যায় গো ব’য়ে নিরবধি,
এক হিমালয় হতে আসে, এক সাগরে হয় গো হারা।।
	বুলবুল আর কোকিল পাখি
	এক কাননে যায় গো ডাকি’,
ভাগীরথী যমুনা বয় মায়ের চোখের যুগল-ধারা।।
পেটে-ধরা ছেলের চেয়েও চোখে ধরার মায়া বেশি,
অতীতে ছিল অতিথি, আজ সে সখা প্রতিবেশী।
	ফুল পাতিয়ে গোলাপ বেলি
	এক সে-মায়ের বুকে খেলি,
পাগল তারা — ভিন্ন ভাবে আল্লা ভগবানে যারা।।

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর

বাণী

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর।
প্রশান্ত সন্ধ্যার উদার শান্তি দাও —
শ্রান্ত মনের ভার হর, হে গিরিধর।।
যে নিবিড় সমাধির গভীর আনন্দে
হিমালয় লীলায়িত নীরব ছন্দে,
সেই মহাযোগে কর মোরে মগ্ন —
যে মহাভাবে ভোর মৌন নীলাম্বর।। 
অপগত-দুখশোক নিশীথ সুষুপ্তির মাঝে,
নিথর সিন্ধুর অতল তলে যে শান্ত বিরাজে।
যে সুধা লভিয়া ঋষি মধুছন্দা
আনিল বেদবাণী অলকানন্দা
অন্তরে বাহিরে সেই অমৃত দাও —
কর পুরুষোত্তম অজর অমর।।

কত সে-জনম কত সে-লোক

বাণী

কত সে-জনম কত সে-লোক পার হয়ে এলে, হে প্রিয় মোর।
নিভে গেছে কত তপন-চাঁদ তোমারে খুঁজিয়া, হে মন চোর।।
	কত গ্রহে, প্রিয়, কত তারায়
	তোমারে খুঁজিয়া ফিরেছি, হায়!
চাহ এ নয়নে হেরিবে তায়, সে-দূর স্মৃতির স্বপন-ঘোর।।
	আজো অপূর্ণ কত সে-সাধ
	অভিমানী তাহে সেধো না বাদ!
না মিটিতে সাধ, স্বপন-চাঁদ, মিলনের নিশি ক’রো না ভোর।।

মোরা ছিলাম একা আজি মিলিনু দুজন

বাণী

উভয়	:	মোরা ছিলাম একা আজি মিলিনু দুজন।
		পাপিয়ার পিয়া বোল্ কপোত-কূজন।।
বর	:	তুমি সবুজের স্রোত এলে ঊষর দেশে
বধূ	:	তুমি বিধাতার-বর এলে বরের বেশে,
বর	:	তুমি গৃহে কল্যাণ
বধূ	:	তুমি প্রভু মম ধ্যান,
উভয়	:	সুন্দরতর হ’ল সুন্দর ত্রিভুবন।।

নাটিকাঃ ‘প্রীতি-উপহার’