আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে

বাণী

আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে?
প্রতি নিঃশ্বাসে নয়ন প্রদীপ মোর আসিছে নিভে।।
		ফুল ঝরে যায় হায়, পুন ফুল ফোটে
		কৃষ্ণা তিথির শেষে চাঁদ হেসে ওঠে
আমারি নিশীথের অসীম আঁধার ওগো চাঁদ কবে নাসিবে।।
শীত যায় মনোবনে ফাল্গুন আসে গো আসিল না আমারই ফাল্গুন
চাঁদের কিরণে পৃথিবী শীতল হায় মোর বুকে জ্বালে সে আগুন।
		নিশীথে বকুল শাখে
		পিয়া পিয়া পাপিয়া ডাকে
আমারই প্রিয়তম ‘জাগো পিয়া’ বলে কবে ডাকিবে।।

ওরে অবোধ গরম জলে

বাণী

ওরে অবোধ! গরম জলে ঘর কি কভু পোড়ে?
আপন জনের আঘাত কি কেউ রাখে মনে করে (রে)?
	তুই বিদায় নিলি অভিমানে
	শেষে ফিরতে হল প্রাণের টানে (রে)।
ওরে এ স্নেহ-ডোর ছিন্ন করে কোথায় যাবি সরে।।

আকুল ব্যাকুল ঢুঁড়ত ফিঁরু

বাণী

আকুল ব্যাকুল ঢুঁড়ত ফিঁরু শ্যাম তুম বিনা রহন না জায়।
তুম হারে কারণ সব কুছ ছোড়ি প্রীতি ছোড়ন না যায়॥
	ক্যিউ তরসাও অন্তরযামী
	আওয়ো মিলো কির্‌পা কর স্বামী
নিঁদ নাহি র‍্যয় না দিন নাহি চ্যয় না, বিরহ কী আগ জ্বালায়॥

বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু

বাণী

	বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু
আমি	সুর শুনে তা'র বাউল হয়ে এনু (গো)।।
	ঐ সুরে পড়ে মনে কোন সুদুর বৃন্দাবনে
যেত	নন্দ-দুলাল ব্রজ-গোপাল বাজিয়ে বেণু বনে
পথে	লুটতো কেঁদে গোপাবালা, ভূরতো তৃণ-ধেণু গো
		কেঁদে ভুলতো তৃণ-ধেণু।।
কবে	নদীয়াতে গোরা
ও ভাই	ডেকেছিল এমনি সুরে এমনি পাগল-করা।
কেঁদে	ডাকতো বৃথাই শচীমাতা, সাধতো বসুন্ধরা,
প্রেমে	গ'লে যত নর-নারী যাচতো পদ-বেণু গো
		তারা যাচতো পদ-রেণু।।

নবীন বসন্তের রানী তুমি

বাণী

পুরুষ		: 	নবীন বসন্তের রানী তুমি গোলাব-ফুলী রঙ।
স্ত্রী		: 	তব অনুরাগের রঙে আমি উঠিয়াছি আজ রেঙে
						প্রিয় এই অপরূপ ঢঙ।।
পুরুষ		: 	পলাশ কৃষ্ণচূড়ার কলি
			রাঙা ও-পায়ে এলে কি দলি’?
স্ত্রী		:	বেয়ে প্রেমের পথের গলি
			এলাম কঠোর হৃদয় দলি’,
			হের পায়ে তাহারি রঙ।।
পুরুষ		:	হায়, হৃদয়-হীনা হৃদয়-সাথি হয় না তা জানি,
			অবুঝ হৃদয় তবু চাহে তায় জানে সে-পাষাণী।
স্ত্রী		:	ধরিয়া পায়ে প্রেম জানায়ে
			যাও পালায়ে শেষে কাঁদায়ে
			কাঁদাই যতই, কাঁদি যে ততই;
পুরুষ		:	বায়ু কেঁদে যায় ফুল ঝরায়ে।
স্ত্রী		:	না, না, যাও যাও মন চেয়ো না
			গন্ধ লহ, ফুল চেয়ো না;
			আছে কাঁটা ফুলের সঙ্গ।।
উভয়ে		:	যাই চল সেই কাননে
			নাই কাঁটা ফুলের সনে
			যথা নাই বিরহ, শুধু মিলন।।

মেঘলা নিশি ভোরে

বাণী

মেঘলা নিশি ভোরে মন যে কেমন করে
তারি তরে গো মেঘ-বরণ যার কেশ।
বুঝি তাহারি লাগি’ হয়েছে বৈরাগী
গেরুয়া রাঙা গিরিমাটির দেশ।।

মৌরি ফুলের ক্ষেতে, মৌমাছি ওঠে মেতে
এলিয়েছিল কেশ কি গো তার এই পথে সে যেতে।
তার ডাগর চোখের ঝিলিক লেগে রাত হয়েছে শেষ (গো)।।

শিরিষ পাতায় ঝিরিঝিরি, বাজে নূপুর তারি
সোনাল ডালে দোলে তাহার কামরাঙা রঙ শাড়ি।
হয়েছি মন-ভিখারি কোন্‌ শিকারি আমি
উঠি পাহাড় চূড়ায়, ঝর্না জলে নামি
কালো পাথর দেখে জাগে কার চোখের আবেশ গো।।