চরণে দলিয়া গিয়াছে চলিয়া

বাণী

চরণে দলিয়া গিয়াছে চলিয়া
			তবু কেন তারে ভালোবাসি।
বলিতে পারি না বোঝাতে পারি না
			আঁখি-জলে যায় বুক ভাসি’।।
কেন সে বিরাজে		হৃদয়েরি মাঝে
তার স্বর যেন 		সদা প্রাণে বাজে
কি বাঁধনে মোরে		বেঁধেছে বল সে
			দিয়ে গেছে গলে প্রেম-ফাঁসি।।

স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা

বাণী

স্নিগ্ধ-শ্যাম-বেণী-বর্ণা এসো মালবিকা
অর্জুন-মঞ্জরি-কর্ণে গলে নীপ-মালিকা, মালবিকা।।
ক্ষীণা তন্বী জল-ভার-নমিতা
শ্যাম জম্বু-বনে এসো অমিতা
আনো কুন্দ মালতী যুঁই ভরি থালিকা, মালবিকা।।
ঘন নীল বাসে অঙ্গ ঘিরে
এসো অঞ্জনা রেবা-নদীর তীরে।
পরি’ হংস-মিথুন আঁকা শাড়ি ঝিল্‌মিল্‌
এসো ডাগর চোখে মাখি সাগরের নীল
ডাকে বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দিগ্‌-বালিকা, মালবিকা।।

মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে

বাণী

মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে এসো রূপকুমার ফর্‌হাদ্‌।
(মোর)ঘুম যবে ভাঙিল, প্রিয়, গগনে ঢলিয়া পড়িল চাঁদ।।
আমি শিঁরি – হেরেমের নন্দিনী গো
ছিনু অহঙ্কারের কারা-বন্দিনী গো,
ভেবেছিনু তুমি শুধু রূপের পাগল —
বুঝি নাই কা’রে বলে প্রেম-উন্মাদ।।
গিরি-পাষাণে আঁকিলে তুমি যে ছবি মম, দিলে যে মধু,
সেই মধু চেয়ে, সেই শিলা বুকে ল’য়ে কাঁদি,
ফিরে এসো, ফিরে এসো বঁধু।
ল’য়ে যাও সেই প্রেম-লোকে, বিরহী
কাঁদিছে যথায় ‘শিঁরি শিঁরি’ কহি’—
আজ ভরিয়াছে বিষাদের বিলাপে গোলাপের সাধ।।

১. বাদশাহ

আমি কেমন ক’রে কোথায় পাব

বাণী

আমি	কেমন ক’রে কোথায় পাব কৃষ্ণ চাঁদের দেখা।
	অন্ধকারে খুঁজি তাঁহার ব্রজের পথ-রেখা।।
		মেঘে ঢাকা আকাশ সম
		পাপে মলিন হৃদয় মম
	সে-আকাশে উঠবে কি সে কৃষ্ণ-শশী-লেখা।।
		অশান্ত তার বেণু বাজে
		আমার ব্যাকুল বুকের মাঝে,
	(আমি) শুনেছি, সে ডাকে তা’রেই যে বিরহী একা।।

নাটক : ‘বিল্বমঙ্গল’ (বিল্বমঙ্গলের গান)

গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল

বাণী

গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল যুগে যুগে হ’য়ো প্রিয়
জনমে জনমে বঁধু তব প্রেমে আমারে ঝুরিতে দিও॥
	তুমি চির চঞ্চল চির পলাতকা
	প্রেমে বাঁধা প’ড়ে হ’য়ো মোর সখা
মোর জাতি কুল মান তনু মন প্রাণ হে কিশোর হ’রে নিও॥
রাধিকার সম কুব্জার সম রুক্সিণী সম মোরে
গোকুল মথুরা দ্বারকায় নাথ রেখো তব সাথী করে।
	গোপনে চেয়ো সব শত গোপীকায়
	চন্দ্রাবলী ও সত্যভামায়
তেমনি হে নাথ চাহিও আমায় লুকায়ে ভালেবাসিও॥

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে

বাণী

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে’।
দেবতা চাহে কি ফুল মরে যবে পদমূলে।।
	ভুলে গেছি স্বপন-ঘোরে
	তুমি যে ভুলেছ মোরে,
তবু খুঁজি স্মৃতির রেখা ভাঙন-ধরা মনের কূলে।।
নাহি মনে — ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে
বিশ্ব আমার শূন্য ক’রে কবে বঁধু বিদায় নিলে,
হাসি-মুখখানি শুধু মনে ওঠে দুলে’ দুলে’।।
আমার স্মৃতির চিতা পুড়িয়ে সে-কত বাকি
দেখিয়া চলিয়া যাব যে দেশে নাই তোমার আঁখি,
তুমি থাক হাসির দেশে, আমি হতাশার কূলে।।