মদালস ময়ূর-বীণা কার বাজে

বাণী

মদালস ময়ূর-বীণা কার বাজে।
অরুণ-বিভাসিত অম্বর মাঝে।।
কোন্ মহামৌনীর ধ্যান হ’ল ভঙ্গ?
নেচে’ ফেরে অশান্ত মায়া-কুরঙ্গ,
তপোবনে রঙ্গে অনঙ্গ বিরাজে।।
নিদ্রিত রুদ্রের ললাট-বহ্নি,
পাশে তা’র নেচে ফেরে বনবালা তন্বী।
বিজড়িত জটাজুটে খেলে শিশু শশী
দেয় মালা-চন্দন ভীরু উর্বশী,
শঙ্কর সাজিল রে নটরাজ-সাজে।।

যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী

বাণী

পুরুষ	:	যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী
		কাহার আশে কাহার অনুরাগিনী।
স্ত্রী	:	আমি কনক চাঁপার দেশের মেয়ে
		এনু ঊষার রঙের গান গেয়ে
		আমি মল্লিকা গো পল্লীবাসিনী।
পুরুষ	:	চিনি চিনি ওই চুড়ি কাঁকনের রিনিকি রিনি
		তুমি ভোর বেলা দাও স্বপনে দেখা।
স্ত্রী	:	তোমার রঙে কবি আঁক আমারি ছবি
		তুমি দেবতা রবি আমি তব পূজারিণী।
পুরুষ	:	এসো ধরণীর দুলালী আলোর দেশে
		যথা তারার সাথে চাঁদ গোপনে মেশে
স্ত্রী	:	আনো আলোক তরী আমি যাই গো ভেসে
দ্বৈত	:	চলো যাই ধরণী ধূলির ঊর্ধে
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
স্ত্রী	:	প্রেম মন্দারিণী
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
দ্বৈত	:	প্রেম মন্দারিণী॥

চাঁদের নেশা লেগে ঢুলে নিশীথিনী

বাণী

চাঁদের নেশা লেগে ঢুলে নিশীথিনী।
মদির হাওয়ার তালে নাচন লাগে ডালে ডালে —
ঝিল্লি নূপুর পরি’ পায় নাচে কানন বিহারিণী।।
নেশার ঘোর লাগে বনে পাপিয়া জাগে
‘চোখ গেল চোখ গেল’ গেয়ে ওঠে গুল-বাগে,
একেলা বাতায়নে হায় জাগে বিরহিণী।।
মহুয়া বকুল ফুলে মদির সুবাস ঘনায়,
চাঁদের ওই মুখ মদের ছিটে লাগে কনক চাঁপায়।
শান্ত হৃদয় মম দুলিছে সাগর সম,
এমন রাতে সে কোথায় আমি যার অনুরাগিণী।।

বৈঁচি মালা রইল গাঁথা

বাণী

বৈঁচি মালা রইল গাঁথা পিয়াল পাতা ঢাকা (লো)।
সে এলো না, সয় না লো আর এক্‌লা ঘরে থাকা (লো)।।
	সে বর্শা ধনুক নিয়ে হাতে
	ঘুরে বেড়ায় কাহার সাথে?
(সে) আসবে কবে, চাঁচর কেশে বেঁধে পাখির পাখা (লো)।।
(সে) বলেছিল, ডাগর হবে টগর-চারা যবে
লুকিয়ে এসে আমার হাতের বৈঁচি-মালা লবে (লো)।।
	আজ টগর গাছে ফুল ফুটেছে
	ফাগুন মাসের চাঁদ উঠেছে।
আঙিনাতে ফুল ছড়িয়ে কাঁদে পলাশ-পাখা (লো)।।

ও ভাই কোলা-ব্যাঙ

বাণী

ও ভাই কোলা-ব্যাঙ, ও ভাই কোলাব্যাঙ।
সর্দি তোমার হয় না বুঝি, ও ভাই কোলাব্যাঙ,
সারাটি দিন জল ঘেঁটে যাও, ছড়িয়ে দুটি ঠ্যাঙ।।
	লক্ষ্মী মেয়ে মা তোর বুঝি
	খেল্‌লে বেড়ায় নাকো খুঁজি’,
কেউ বকে না, মজাসে তাই গাইছো ঘেঙর ঘ্যাঙ।।
	দিবানিশি জল ঘাঁটো তাও
	চোখ ওঠে না, কি ওষুধ খাও?
জলদানোটা আসলে, ফেলে দাও কি মেরে ল্যাঙ।।
	ব্যাঙ দাদা! তোর মায়ের মত
	মা যদি মোর লক্ষ্মী হ’ত,
তোর সাথে ভাই থাকতাম জলে ছ্যাড্যাং ড্যাড্যাং ড্যাং।।

আমার হৃদয়-শামাদানে জ্বালি’

বাণী

আমার হৃদয়-শামাদানে জ্বালি’ মোমের বাতি।
নবীজী গো! জেগে’ আমি কাঁদি সারা রাতি।।
	আস্‌মানেরই চাঁদোয়া-তলে
	চাঁদ-সেতারার পিদিম জ্বলে,
ওরাও যেন খোঁজে তোমায় আমার দুঃখের সাথি।।
দিনের কাজে পাই না সময় যাই নিরালা রাতে,
তোমায় পাওয়ার পথ খুঁজি গো কোরানের আয়াতে।
	তোমায় পেলে পাব খোদায়
	তাই শরণ যাচি তোমারি পায়,
পাওয়ার আশে জেগে থাকি প্রেমের শয্যা পাতি’।।
	ঝর্‌লে পাতা, ডাক্‌লে পাখি,
	চম্‌কে ভাবি, তুমি নাকি?
মস্‌জিদে যাই গভীর রাতে খুঁজি আঁতিপাঁতি।।
রোজ-হাশরে দেখা পাব মোরে সবাই বলে;
তোমার বিহনে আমার ঘুম নাই নয়নে,
মোর জীবনে রোজ-কিয়ামত আসে প্রতি পলে।
বিষের সমান লাগে আমার দুনিয়ার যশ-খ্যাতি।।

১. চেরাগ ২. ওরা আমার দুখের সাথি