পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে

বাণী

	পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে।
	বলিও আমার পরদেশী রে।।
	সে দেশে যবে বাদল ঝরে
	কাঁদে নাকি প্রাণ একেলা ঘরে,
বিরহ-ব্যথা নাহি কি সেথা বাজে না বাঁশি নদীর তীরে।।
বাদল-রাতে ডাকিলে ‘পিয়া পিয়া পাপিয়া’,
বেদনায় ভ’রে ওঠে নাকি রে কাহারো হিয়া।
	ফোটে যবে ফুল, ওঠে যবে চাঁদ
	জাগে না সেথা কি প্রাণে কোন সাধ,
দেয় না কেহ গুরু গঞ্জনা সে দেশে বুঝি কুলবতী রে।।

ও কে সোনার চাঁদ কাঁদে রে

বাণী

ও কে সোনার চাঁদ কাঁদে রে হেরা গিরির ’পরে।
শিরে তাঁহার লক্ষ কোটি চাঁদের আলো ঝরে।।
কী অপরূপ জ্যোতির ধারা নীল আসমান হ’তে
			নামে বিপুল স্রোতে,
হেরা পাহাড় বেয়ে বহে সাহারা মরু পথে,
সেই জ্যোতিতে দুনিয়া আজি ঝলমল করে।।
আগুন বরণ ফেরেশ্‌তা এক এসে,
‘খোদার হাবিব, জাগো জাগো’, বলে হেসে হেসে।
নবুয়তের মোহর দিল বাজুতে তাঁর বেঁধে
তাজিম ক’রে কদমবুসি করে কেঁদে কেঁদে,
সেই নবীরই নামে আজি দুনিয়া দরুদ পড়ে।।

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না

বাণী

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না দীপ নিভিতে দাও।
নিবু-নিবু প্রদীপ নিবুক হে পথিক ক্ষণিক থাকিয়া যাও॥
ঢুলিয়া পড়িতে দাও ঘুমে অলস আঁখি ক্লান্ত করুণ কায়,
সুদূর নহবতে বাঁশরি বাজিতে দাও উদাস যোগিয়ায়।
	হে প্রিয় প্রভাতে ও-রাঙা পায়
	বকুল ঝরিয়া মরিতে চায়,
তব হাসির আভায় তরুণ অরুণ প্রায় দিক রাঙিয়ে যাও॥

বল রাঙা হংসদূতি তা’র বারতা

বাণী

		বল রাঙা হংসদূতি তা’র বারতা।
		দাও তা’র বিরহ-লিপি, বল সে কোথা।।
		কেমনে কাটে তা’র অলস বেলা
		আজো কি গাঙের ধারে কাঁদে একেলা,
		দু’জনের আশা-তরী ডুবিল যথা।।
		দীপ জ্বালেনি কি কেউ তাহার ঘরে,
		ভাঙা ঘর বেঁধেছে কি নূতন ক’রে।
		দেখা হ’লে তা’রে কহিও নিরালায়
		আমি মরিয়াছি — মোর প্রেম মরেনি, হায়!
(মোর)	অন্তরে সে আজো অন্তর-দেবতা।।

দরিয়ায় ঘোর তুফান

বাণী

দরিয়ায় ঘোর তুফান, পার কর নাইয়া।
রজনী আঁধার ঘোর, মেঘ আসে ছাইয়া।।
যাত্রী গুনাহ্গার, জীর্ণ তরুণী,
অসীম পাথারে কাঁদি পথ হারাইয়া।।
হে-চির কাণ্ডারী, পাপে তাপে বোঝাই তরী
তুমি না করিলে পার, পার হব কেমন করি’,
সুখ-দিনে ভুলে’ থাকি, বিপদে তোমারে স্মরি –
ডুবাবে কি তব নাম আমারে ডুবাইয়া।।
মা’র কাছে মার খেয়ে শিশু যেমন মাকে ডাকে
যত দাও দুখ শোক, ডাকি ততই তোমাকে,
জানি শুধু তুমি আছ, আসিবে আমার ডাকে –
তোমারি এ তরী প্রভু, তুমি চল বাহিয়া।।

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

বাণী

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে —
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।