আমার কালিবাঞ্ছা কল্পতরুর ছায়াতলে আয় রে

বাণী

আমার কালিবাঞ্ছা কল্পতরুর ছায়াতলে আয় রে,
এই তরুতলে যে যাহা চায় তখনি তা পায় রে॥
	তুই চতুর্বর্গ ফল কুড়াবি
	যোগ পাবি, ভোগ পাবি
এমন কল্পতরু থাকতে - কেন মরিস্ নিরাশায় রে॥
দস্যু ছেলের আবদারে সে সাজে ডাকাত কালির বেশে,
কত রামপ্রসাদের কন্যা হয়ে বেড়া বেঁধে যায় রে।
	ওরে পুত্র-কন্যা বিভব-রতন,
	চেয়ে নে যার ইচ্ছা যেমন,
ওরে আমার এ মন থাকে যেন বাঞ্ছাময়ীর পায় রে॥
	সে আর কিছু না চায়
	চেয়ে চেয়ে বাসনা তার শেষ হল না হায়!
এবার খালি হাতে তালি দিয়ে (আমি) চাইব কালিকায় রে॥

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি

বাণী

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি
আকাশ কাঁপে সে সুর শুনে সর্বনাশী।।
	বন ঢেলে দেয় উজাড় ক'রে
	ফুলের ডালা চরণ' পরে,
নীল গগনে ছুটে আসে মেঘের রাশি।।
বিপুল ঢেউয়ের নাগর-দোলায় সাগর দুলে
বান ডেকে যায় শীর্ণা নদীর কুলে কূলে
	তোমার প্রলয় মহোৎসবে
	বন্ধু ওগো, ডাকবে কবে?
ভাঙবে আমার ঘরের বাঁধন কাঁদন হাসি।।

চক্র সুদর্শন ছোড়কে মোহন

বাণী

চক্র সুদর্শন ছোড়কে মোহন তুম ব্যনে বনওয়ারী।
ছিন লিয়ে হ্যয় গদা-পদম্‌ সব মিল করকে ব্রজনারী।।
	ছার ভুজা আব দো বনায়ে
	ছোড়কে বৈকুণ্ঠ ব্রিজ মে আয়ে,
রাস রচায়ে ব্রিজ্‌কে মোহন ব্যন্ গ্যয়ে মুরলী-ধারী।।
	সত্যভামাকো ছোড়কে আয়ে
	রাধা প্যারী সাথমে লায়ে,
বৈতরণী কো ছোড়কে ব্যন গ্যয়ে যমুনাকে তটচারী।।

গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম

বাণী

গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম কৃষ্ণনাম।
মহাকাল যে নামের করে প্রাণায়াম।।
যে নামের গুণে কংস কারার খোলে দ্বার।
বসুদেব যে নামে যমুনা হ’ল পার।
যে নাম মায়ায় হল তীর্থ ব্রজধাম।।
দেবকীর বুকের পাষাণ গলে,
যে নাম দোলে যশোদার কোলে।
যে নাম লয়ে কাঁদে রাই রসময়ী,
কুরুক্ষেত্রে যে নামে হল পান্ডব জয়ী।
গোলকে নারায়ণ, ভূলোকে রাধাশ্যাম।।

কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী

বাণী

কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী
নীল রেশমি রুমাল বেঁধে তার চারু-চাঁচর কেশে।
তাঁর রাঙা পদতলে পুলকে ধরা টলে
তাঁর রূপ -লাবনির ঢলে মরুভূমি গেল ভেসে।।
তাঁর মুখে রহে চাহি মেষ-শিশু তৃণ ভুলি‌'
বিশ্বের শাহানশাহ আজ মাখে গোঠের ধূলি,
তাঁর চরণ-নখরে কোটি চাঁদ কেঁদে মরে
তাঁর ছায়া ক'রে চলে আকাশে মেঘ এসে।।
কিশোর নবী গোঠে চলে
তাঁর চরণ-ছোঁয়ায় পথের পাথর মোম হয়ে যায় গ'লে
তসলিম জানায় পাহাড় চরণে ঝুকে তাঁহার।
নারাঙ্গি,আঙুর,খরজুর,পায়ে নজরানা দেয় হেসে।।

দোলে বন-তমালের ঝুলনাতে

বাণী

দোলে	বন-তমালের ঝুলনাতে কিশোরী-কিশোর
চাহে	দুঁহু দোঁহার মুখপানে চন্দ্র ও চকোর,
যেন	চন্দ্র ও চকোর প্রেম-আবেশে বিভোর।।
	মেঘ-মৃদঙ বাজে সেই ঝুলনের ছন্দে
	রিম ঝিম বারিধারা ঝরে আনন্দে
	হেরিতে যুগল শ্রীমুখ চন্দে
	গগনে ঘেরিয়া এলো ঘন-ঘটা ঘোর।।
	নব নীরদ দরশনে চাতকিনী প্রায়
	ব্রজ-গোপিনী শ্যামরূপে তৃষ্ণা মিটায়
গাহে	বন্দনা-গান দেব-দেবী অলকায়
	ঝরে বৃষ্টিতে সৃষ্টির প্রেমাশ্রু-লোর।।