প্রেমের হাওয়া বইল যখন

বাণী

প্রেমের হাওয়া বইল যখন মুকুল গেল ঝ’রে।
প্রদীপ নিভে রইল, যখন তুমি এলে ঘরে।।
	তোমার আসার লগ্ন এলো
	যে-দিন আশা ফুরিয়ে গেল,
মন গিয়াছে ম’রে যখন পেলাম মনোহরে।।
আঘাত দিয়ে দিয়ে যে-দিন করলে পাষাণ মোরে,
সেদিন নিয়ে বসালে হায়! তোমার ঠাকুর ঘরে।
	তোমার শুভ দৃষ্টি লাগি’
	বহু সে-যুগ ছিলাম জাগি’
আজি কি বেলা-শেষে তুমি এলে স্বয়ম্বরে।।

নমো নমঃ রাম-খুঁটি

বাণী

নমো নমঃ রাম-খুঁটি!
তুমি গাদিয়া বসেছ আমাদের বুকে, সাধ্য নাই যে উঠি।।
	তুমি নির্বিকার হে পরম পুরুষ
	আপনাতে আছ আপনি বেহুঁশ,
তব বাঁধন ছিঁড়িতে বৃথা টানাটানি এই বৃথা মাথা কুটোকুটি।।
	এই আইন কানুন আচার বিচার
	বিধি ও নিষেধ স্ত্রী পরিবার
	(বাংলায় যাকে বলে Wife)
শত নামে তুমি জগৎ মাঝার চাপিয়া আছ যে টুটি।।
	কত রূপে তব লীলার প্রকাশ (রাম খুঁটো হে!)
	কভু হও খুঁটো কভু হও বাঁশ,
কভু হাঁড়ি-কাঠ কভু ঘানি-গাছ ঘোরাও ধরিয়া ঝুঁটি।।
কখনো পাঁচনী-রুপে পিঠে পড় (ওরে বাবারে)
	কখনো জোয়াল রূপে কাঁধে চড়,
	কখনো কঞ্চি, বাঁশ চেয়ে দড়
কভু গুঁতো কভু লাঠি (ওরে বাবারে)।
ঠুঁটো ত্রিভঙ্গ হে প্রভু, তোমার এই ভয়ে মোরা গুটিসুটি।।

‘খুঁটোর ভয়’

তরুণ প্রেমিক প্রণয় বেদন জানাও

বাণী

তরুণ প্রেমিক প্রণয় বেদন জানাও জানাও বেদিল প্রিয়ায়।
ওগো বিজয়ী নিখিল হৃদয় কর কর জয় মোহন মায়ায়।।
নহে ঐ এক হিয়ার সমান হাজার কাবা হাজার মস্‌জিদ;
কি হবে তোর কাবার খোঁজে, আশয় খোঁজ তোর হৃদয় ছায়ায়।।
প্রেমের আলোয় যে দিল্‌ রোশন, যেথায় থাকুক সমান তাহার —
খোদার মস্‌জিদ মুরত–মন্দির ঈসাই–দেউল ইহুদ–খানায়।।
অমর তার নাম প্রেমের খাতায় জ্যোতির্লেখায় রবে লেখা,
দোজখের ভয় করে না সে, থাকে না সে বেহেশ্‌ত্‌ আশায়।।

এসো এসো এসো ওগো মরণ

বাণী

	এসো এসো এসো ওগো মরণ!
এই	মরণ-ভীতু মানুষ-মেষের ভয় কর গো হরণ।।
	না বেরিয়েই পথে যা’রা পথের ভয়ে ঘরে
	বন্ধ-করা অন্ধকারে মরার আগেই মরে,
তাতা	থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ তাদের বুকের ’পরে —
ভীম	রুদ্রতালে নাচুক তোমার ভাঙন-ভরা চরণ।।
		দীপক রাগে বাজাও জীবন-বাঁশি
		মড়ার মুখেও আগুন উঠুক হাসি’।
	কাঁধে পিঠে কাঁদে যথা শিকল জুতোর ছাপ
	নাই সেখানে মানুষ সেথা বাঁচাও মহাপাপ,
সে	দেশের বুকে শ্মাশান মশান জ্বালুক তোমার শাপ,
সেথা	জাগুক নবীন সৃষ্টি অবার হোক নব নাম-করণ।।
		হাতের তোমার দণ্ড উঠুক কেঁপে’,
		এবার দাসের ভুবন ভবন ব্যেপে’।
	মেষগুলোকে শেষ ক’রে দেশ-চিতার বুকে নাচো!
	শব ক’রে আজ শয়ন, হে শিব, জানাও তুমি আছ।
	মরায় ভরা ধরায়, মরণ! তুমিই শুধু বাঁচো —
এই	শেষের মাঝেই অশেষ তুমি, করছি তোমায় বরণ।।
		জ্ঞান-বুড়ো ঐ বলছে জীবন মায়া,
		নাশ কর ঐ ভীরুর কায়া ছায়া!
	মুক্তি-দাতা মরণ! এসো কাল-বোশেখীর বেশে;
	মরার আগেই মরলো যারা, নাও তাদেরে এসে।
	জীবন তুমি সৃষ্টি তুমি জরা-মরার দেশে,
তাই	শিকল বিকল মাগ্‌ছে তোমার মরণ-হরণ-শরণ।।

‘মরণ-বরণ’

ভেঙো না ভেঙো না বঁধু তরুণ চামেলি

বাণী

ভেঙো না ভেঙো না বঁধু তরুণ চামেলি-শাখা।
ফুলের নজ্‌রানা এর আজিও পাতায় ঢাকা।।
	কুঞ্জ-দ্বারে থাকি’ থাকি’
	বৃথা এত ডাকাডাকি,
আজিও এ বনের পাখি ঘুমায় হের গুটিয়ে পাখা।।
	অসময়ে হে রসময়
	ভাঙিয়ো না লতার হৃদয়,
তনুতে এলে অনুরাগ হেরিবে না ফাঁকা ফাঁকা।।
	আসছে-ফাগুন মাসে
	আসিও ইহার পাশে,
আজ যে-লতা কয় না কথা, সেদিন তা'য় যাবে না রাখা।।

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে

বাণী

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে
হে কিশোর বেণুকা বাজাও।
মোর অনুরাগ যায় সেথা, তনু যেতে নারে,
তুমি সেই ব্রজের পথ দেখাও।।
মোর অন্ধ আঁখি কাঁদে চাঁদের তৃষায়
তব পানে হাত তুলে রাত কেটে যায়,
বঁধু, এই ভিখারিনী সেই মাধুকরী চায় –
মধুবনে, গোপীগণে যে মধু দাও।।
প্রেমহীন-নীরস জীবন ল’য়ে
পথে পথে ফিরি বৈরাগিনী হয়ে,
বুঝি আমি চাই তব প্রেম নাহি পাই –
কৃপা কর প্রেমময়, তুমি মোরে চাও।।