জাগে না সে জোশ ল'য়ে আর মুসলমান

বাণী

জাগে না সে জোশ ল'য়ে আর মুসলমান। 
হায় করিল জয় যে তেজ ল'য়ে দুনিয়া জাহান।। 
যাহার তক্‌বির-ধ্বনি, তক্‌দির বদলালো দুনিয়ার
না-ফরমানের জামানায় আনিল ফরমান খোদার,
হায় পড়িয়া বিরান আজি সে গুল্‌-গুলিস্তান।।
নাহি সাচ্চাই সিদ্দিকের, উমরের নাহি সে ত্যাগ আর
নাহি আর বেলালের ঈমান, নাহি আলীর জুল্‌ফিকার,
হায় নাহি আর সে জেহাদ-লাগি' বীর শহীদান।।
নাহি আর বাজুতে কুওত, নাহি খালেদ, মুসা, তারেক
নাহি বাদ্‌শাহি তখ্‌তে তাউস, ফকির আজ দুনিয়ার মালেক
হায় ইসলাম কিতাবে শুধু মুসলিম গোরস্তান।।

ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে

বাণী

	ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে যে-চোখ তোরে দেখতে পায়।
	সে নয়ন-তারায় কাজ কি তারা যে-তারা লুকায় মা তারায়।।
আমি 	চাইনে সে-চোখ যে-চোখ দেখে মায়া
	অনিত্য এই সংসারেরই ছায়া,
	যে-দৃষ্টি দেখে নিত্য তোরে সেই দৃষ্টি দে আমায়।।
ওমা 	নিবিয়ে দে এই নয়ন-প্রদীপ দেখায় যাহা দুঃখ শোক,
	এই আলেয়া পথ ভুলিয়ে যায় মা নিয়ে নরক-লোক।
	তোর সৃষ্টি চির-আনন্দময় নাকি
	দেখব সে-লোক, দে মোরে সেই আঁখি,
	দেখে না রোগ-মৃত্যু-জ্বরা তোর সন্তান সেই দৃষ্টি চায়।।

ফাগুন ফুরাবে যবে

বাণী

ফাগুন ফুরাবে যবে —
উঠিবে দীরঘ শ্বাস চম্পার বনে
কোয়েলা নীরব হবে।।
আমারে সেদিন যদি স্মরণে আসে
বেদনা জাগে ঝরা ফুল সুবাসে
আমার স্মৃতি যত ঝরা পাতার মত
ফেলিয়া দিও নীরবে।।
যবে বাসর নিশি ফুরাবে
রাতের মিলন-মালা প্রভাতে মলিন হবে;
সুখ শশী অস্ত যাবে —
আসিবে জীবনে তব বৈশাখী মলিন হবে;
লুটাবে পথের' পরে ভেঙে যাবে ঘর
সেদিন স্মরণে তব আসিবে কি তাহারে
গৃহহীন করিয়াছ যাহারে ভবে।।

কে এলো ওরে কে এলো

বাণী

কে এলো ওরে কে এলো শুকানো মানস-মাধবী-কুঞ্জে।
জানাইতে মোরে কার আগমনী চরণে নূপুর-মুঞ্জে।।
	তারি সাথে জাগে নব কিশলয়
	ধীরি ধীরি ধীরি বহিল মলয়,
ফোটা ফুলে ফুলে সুখে দুলে দুলে অলিকুল মধুগুঞ্জে।।
	গেছে কত যুগ-যুগান্ত,
	এলো ফিরে ফিরে হৃদয়প্রান্ত।
	পিক সুকণ্ঠে গায় আবাহন
	বন-শোভা-গণ করিছে বরণ,
মিলনের তরে খুঁজিছে পিয়ারে ফুটিল কুসুম কুঞ্জে কুঞ্জে।।

কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্

বাণী

কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্, আদি আকাশ বাণী।
কোন্ মহামৌনীর ধ্যান ভাঙে কোন্ বিরহের বীণাপাণি —
			নাহি জানি নাহি জানি।।
	নিথর শূন্য অসীমে কোথায়
	কে সে প্রণব-শঙ্খ বাজায়,
সেই ধ্বনি বুঝি জ্যোতির্জ্জগতে বাহিরে আনিছে টানি।।
কোন্ অজানার অলখ-জটায় কথার গঙ্গা কাঁদে
কোন্ মায়াতীত সুন্দর হ’ল পড়িয়া মায়ার ফাঁদে।
	কার সাথে এত কথা কহিবার
	এত সে-গোপন সাধ ছিল তার,
তাহারি বাঁশরি-ধ্বনির কথা কি ব্রজে হয় কানাকানি।।

কী হবে জানিয়া কে তুমি বঁধু

বাণী

কী হবে জানিয়া কে তুমি বঁধু, কি তব পরিচয়?
আমি জানি তুমি মোর প্রিয়তম, সুন্দর প্রেমময়।।
	জগৎ তোমার পায়ে প’ড়ে আছে
	তুমি এসে কাঁদ’ এ দাসীর কাছে,
	হে বিজয়ী! আমার বিজয়ী!
আমি শুধু জানি, তুমি হার মানি’ আমারে করেছ জয়।।
কত যে বিপুল মহিমা তোমার জানতে দিয়ো না প্রিয়,
জনমে জনমে প্রিয়া ব’লে মোরে বক্ষে টানিয়া নিয়ো।
	প্রভাত-সূর্য ভাবি নারায়ণ
	বিশ্ব-প্রণাম করে গো যখন,
একমুঠো কমলিনী হেসে বলে, ‘আমি চিনি
ও-যে মোর প্রিয়, ও-তোর নারায়ণ নয়’।।

গীতি-চিত্র : ‘সে কি তুমি’