তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ

বাণী

তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ, আধখানি ঐ আকাশে।
তুমি হাস যবে মোর বুকে থাকি’ ঝলকে জোছনা হাসে।।
	কত বেদনায় মোর হিয়াতল
	ঘন হয়ে আসে যেন দীঘিজল,
তারি বুকে তুমি অমল কমল — দুলিছ দখিনা বাতাসে।।
আমি যে বাঁধিনু খেলাঘরখানি, তুমি যে পুতুল তারি,
বাহিব সেথায় তরণী আমার — তুমি যে অসীম বারি।
	পথগুলি মোর মিশিল যেথায়
	আসিনু ফিরিয়া সেই মোহনায়,
ভালোবাসা তব জীবনে আমার সৌরভ হ’য়ে ভাসে।।

আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী

বাণী

আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী
চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি (আহা)।।
দুলে আলোছায়া বন-দুকূল
ওড়ে প্রজাপতি কলকা ফুল
কর্ণে অতসী স্বর্ণ-দুল
	আলোক-লতার সাতনরি।।
সোনার গোধূলি নামিয়া আয়
আমার রূপালি ফুল-শোভায়
আমার সজল আঁখি-পাতায়
	আয় রামধনু রঙ ধরি'।
কবি, তোর ফুলমালী কেমন
ফাগুনে শুষ্ক পুষ্প-বন
বরিবি বঁধুরে এলে চ্যমন (আহা)
	রিক্ত হাতে কি ফুল ভরি'।।

আজি মধুর গগন মধুর পবন

বাণী

আজি মধুর গগন মধুর পবন মধুর ধরতীধাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
বাজত বনমে মধুর মুরলী বোলাতা রাধা নাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
আজ থির যমুনা আধীর ভায়ি
আয়ে গোকুলকে চাঁদ অন্ধেরি গ্যয়ি,
বোলে কোয়েলিয়া ময়ূর পাপিহা পিয়া পিয়া অবিরাম।।
ব্রিজকে কোঁয়ারি বনকে যোগিনী রোতি থী বিরহ মে,
আজ লেকে গাগরি ওড়ে নীল শাড়ি চলে ফের নীর ভরণে।
	আজ হরিকে সাথ হরিভি আয়ে
	রাঙা আবিরমে গোকুল ছায়ে,
বনশী বাজাওয়ে রসিয়া গারে বিভোর ব্রিজধাম।।

কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ

বাণী

		কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
ওরে		আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
		পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
ওরে		রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
আমি		তারি লাগি রে
		আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
		পিছ্‌লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
ওরে		সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্‌তা হতে পায়ে রে।
ও সে		রয় না ঘরে রে
ও সে		রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
তা’রে		দেখ্‌লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
ও সে		জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।

কেন আসিলে ভালোবাসিলে

বাণী

কেন আসিলে ভালোবাসিলে দিলে না ধরা জীবনে যদি।
বিশাল চোখে মিশায়ে মরু চাহিলে কেন গো বে–দরদী।।
		ছিনু অচেতন আপনা নিয়ে
		কেন জাগালে আঘাত দিয়ে
তব আঁখিজল সে কি শুধু ছল একি মরু হায় নহে জলধি।।
ওগো কত জনমের কত সে কাঁদন করে হাহাকার বুকেরি তলায়
ওগো কত নিরাশায় কত অভিমান ফেনায়ে ওঠে গভীর ব্যথায়।
মিলন হবে কোথায় সে কবে কাঁদিছে সাগর স্মরিয়া নদী।।

চঞ্চল সুন্দর নন্দকুমার

বাণী

চঞ্চল সুন্দর নন্দকুমার।
গোপী চিতচোর প্রেম-মনোহর নওল কিশোর
অন্তর মাঝে বাজে বেণু তার নন্দকুমার
	নন্দকুমার, নন্দকুমার॥
শ্রাবণ আনন্দ নূপুর ছন্দ রুনুঝুনু বাজে
নন্দের আঙিনায় নন্দন চন্দ, নাচিছে হেলে দুলে গোপাল সাজে।
টলমল টলে রাঙা পদতলে লঘু হ’য়ে বিপুল ধরণীর ভার —
	নন্দকুমার, নন্দকুমার, নন্দকুমার॥
রূপ নেহারিতে এলো লুকায়ে দেবতা
কেহ গোপগোপী হলো, কেহ তরুলতা;
আনন্দ-অশ্রু নদী হ’য়ে বয়ে যায়, উতল যমুনায়।
প্রণতা প্রকৃতি নিরালা সাজায়,
বনডালায় পূজা ফুল সম্ভার।
	নন্দকুমার, নন্দকুমার, নন্দকুমার॥