কে বলে গো তুমি আমার নাই

বাণী

কে বলে গো তুমি আমার নাই?
তোমার গানে পরশ তব পাই।।
তোমায়-আমায় এই নীরবে
জানাজানি অনুভবে,
তোমার সুরের গভীর রবে আমারি কথাই।।
হে বিরহী আমায় বারে বারে
স্মারণ করো সুরের সিন্ধু পারে
ওগো গুণী পেয়ে মায়
যদি তোমার গান থেমে যায়,
উঠবে কাঁদন সুরের সভায় চাই না কাছে তাই।।

আমি গো-রাখা রাখাল

বাণী

আমি গো-রাখা রাখাল।
যারা গোপের মতন চির-সরলমন —
তাদেরি সাথে আমি খেলি চিরকাল গো।।
নয়ন বুঁজে ধ্যানী আমারে খুঁজে যে গিরি-গুহায়,
(সেই) গিরি ধরিয়া রহি গিরিধারী ওরা দেখিতে না পায়।
আমি নন্দ-লালার বেশে
কাছে আসি মৃদু হেসে,
ওরা ভাবে হরি শুধু বিপুল বিশাল।।
(ওরা প্রেম যে পায়নি,
ওরা সহজে গোপীর মত ভালোবেসে চায়নি
প্রেম যে পায়নি!)

নাটক : ‘অর্জুন-বিজয়’

কলহংসিকা বাহনা পদ্মিনী-পাণি

বাণী

কলহংসিকা বাহনা পদ্মিনী-পাণি
মণি মঞ্জীরা শোভনা, ছন্দিতা বাণী।
বন্দে দামিনী-বর্ণা রাধা বৃন্দা-বন-চন্দে
মত্ত-ময়ূর-ছন্দে নাচে কৃষ্ণ প্রেমানন্দে।।
পল্লব-ঘন চক্ষে ঝরে অশ্রু-রস-ধারা
পূব হাওয়াতে বংশী ডাকে আয় রে পথ-হারা,
রুমঝুম ঝুম্ মঞ্জীর বাজে কঙ্কণ মণি বন্ধে।।
রিম্ ঝিম্ রিম্ ঝিম্ ঝিম্ কেকা-বন ঘন বর্ষে
তৃষ্ণ-তৃপ্ত আত্মা নাচে নন্দালোক হর্ষে,
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর তাল বাজে শূন্যে মেঘ মন্দ্রে।।

এ কি অপরূপ রূপের কুমার

বাণী

এ কি অপরূপ রূপের কুমার হেরিলাম সখি যমুনা কূলে,
তার	এ সুনীল লাবনি গলিয়া গলিয়া ঢলিয়া পড়িছে গগন-মূলে ॥
যেন	কমল ফুটেছে সখি, সহস্র-দল রূপে-কমল ফুটেছে,
	রূপের সাগর মন্থন করি’ সখি চাঁদ যেন উঠছে। সখি গো —
	কালো সে রূপের মাঝে হয়ে যায় হারা
	কোটি আলো-রাধিকা-রবি, শশী, তারা,
	প্রেম-যমুনার তীরে সই আমি রিবধি দেখি তারে,
		দেখি আর চেয়ে রই।
	আমি এই রূপ চেয়ে থাকি
সখি	জনমে জনমে জীবনে মরণে এই রূপ চেয়ে থাকি।
ঐ	মোহন কালোর গহন কাননে হারাইয়া যাক আঁখি ॥

আমি যার নূপুরের ছন্দ

বাণী

আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
কে সেই সুন্দর কে! 
আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যাহার গানের আমি বনমালা 
আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
না-দেখা সুদূর - 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
সে রহে কোথায় হায়! 
আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
কে সেই সুন্দর কে।। 

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম

বাণী

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম
যে নাম শুনি পবনে, যে নাম হৃদি-ভবনে
(সখি) যে নাম ত্রিভুবনে বাজে অবিরাম।।
নাম শোনা লো, শোনা লো
যে নাম শুনে কুলনারী হয় আনমনা লো।
সখি, ধেয়ায় যে নাম প্রতি ঘরে প্রতি জনা লো।
সখি ভোলায় যে গৃহকাজ, ভোলায় যে কুললাজ
যে নাম শুনিতে লো কান পেতে রই
সাধ যায় যে নাম-নামাবলী গায়ে দিয়ে যোগিনী হই।
নহে শুধু রাধিকার, সাধকের সাধিকার, যে নাম জপমালা সই,
তোরা শোনা সেই নাম লো,
তোরা বাহিরে শোনা, তোরা গাহিয়া শোনা
যে নাম অন্তরে জপি অবিরাম লো।।