নাম-হারা ঐ গাঙের পারে বনের-কিনারে

বাণী

নাম-হারা ঐ গাঙের পারে বনের-কিনারে
বেতস-বেণুর বনে কে ঐ বাজায় বীণা রে।।
	লতায় পাতায় সুনীল রাগে
	সে-সুর সোহাগ-পুলক লাগে,
সে সুর ঘুমায় দিগঙ্গনার শয়ন-লীলা রে।
আমি কাঁদি, এ সুর আমার চির-চেনা রে।।
ফাগুন মাঠে শিস দিয়ে যায় উদাসী তার সুর,
শিউরে ওঠে আমের মুকুল ব্যথায় ভারাতুর।
	সে সুর কাঁপে উতল হাওয়ায়,
	কিশলয়ের কচি চাওয়ায়,
সে	চায় ইশারায় অস্তাচলের প্রাসাদ-মিনারে।
	আমি কাঁদি, এই ত আমার চির-চেনা রে।।

ওরে আলয়ে আজ মহালয়া

বাণী

ওরে	আলয়ে আজ মহালয়া মা এসেছে ঘর।
তোরা 	উলু দে রে, শঙ্খ বাজা, প্রদীপ তুলে ধর্‌।।
		(এলো মা, আমার মা)
		মাকে ভুলে ছিলাম ওরে
		কাজের মাঝে মায়ার ঘোরে,
আজ	বরষ পরে মাকে ডাকার মিলল অবসর।।
	মা ছিল না ব’লে সবাই গেছে পায়ে দ’লে,
	মার খেয়েছি যত তত ডেকেছি মা ব’লে।
		মা এসেছে ছুটে রে তাই 
		ভয় নাইরে আর ভয় নাই,
মা	অভয়া এনেছে রে দশ হাতে তাঁর বর।।

দেখা দাও দাও দেখা ওগো দেবতা

বাণী

দেখা দাও, দাও দেখা, ওগো দেবতা।
মন্দিরে পূজারিণী আশাহতা॥
ধূপ পুড়িয়া গেছে, শুকায়েছে মালা,
বন্ধ হ’ল বা দ্বার, একা কুলবালা।
প্রভাতে জাগিবে সবে, রটিবে বারতা॥
জাগো জাগো দেবতা শূন্য দেউলে,
আরতি উঠিছে মোর বেদনার ফুলে।
বাণীহীন মন্দির, কহ কহ কথা॥

যৌবন-সিন্ধু টলমল্ প্রেমের ইন্দু

বাণী

যৌবন-সিন্ধু টলমল্, প্রেমের ইন্দু আকাশে টলমল্।
হৃদয়-তটিনী জোয়ারে নেচে যায়, তরঙ্গ-রঙ্গে ছল্ ছল্ ছল্ ছল্।।
	অন্তর-মন্দির-বাসিনী আজি
	আসিল আলোকে ফুল-সাজে সাজি’,
নাচিয়া ছন্দে চলে সে আনন্দে মৃদুল মন্দে দুলায়ে বন-তল।।
মল্লিকা, অতসী ওঠে বনে বিকশি’ তার তনু-চন্দন-গন্ধে
বাজে চুড়ি ও কঙ্কণ মণি-বন্ধে,
কোকিল কুহরে ‘কুহু কুহু’ অবিরল।।

আমার খোকার মাসি শ্রীঅমুকবালা দাসী

বাণী

(ওগো)আমার খোকার মাসি শ্রীঅমুকবালা দাসী,
মোরে দেখেই সর্বনাশী ফেলে ফিক্ করে সে হাসি।।
	তার চোখ প্রায় পুটী মৎসই
	তার চেহারাও নয় জুৎসই
আবার(তার) আছে তিনটি বৎসই কিন্তু সে স্বাস্থ্যে খোদার খাসি।।
	সে খায় বটে পান-জর্দা
	তার চেহারাও মর্দ্দা-মর্দা
তবু বুঝলে কি না বড়দা আমি তারেই ভালোবাসি।।
শালী অর্থাৎ কি না বউ সে পনর আনাই,
তারে দিয়ে একটা ‌‘আনি’ দাদা ঘরে যদি আনি
সে বউ হয় ষোল আনাই।কি বল দাদা এ্যা?
আমি তারই লাগি জেলে, মরবো ঘানি ঠেলে,
তারে নিয়ে ভাগ্‌বো রেলে, না হয় পর্‌বো গলায় ফাঁসি।।

বাঁকা চোখে চাহে ও কে

বাণী

‌
		বাঁকা চোখে চাহে ও কে
		ওকি ভয়ে, না লাজে, না ভালোবাসায়?
		বটের ঝুরি ধ’রে হেসে তাকায়
		দীঘির জলে কভু কল্‌সি ভাসায়।।
(আমার)	পাখি শিকার দেখে তাহার আঁখি ছলছল
যেন		দুটি ঝিনুক ভরা কাজলা দীঘির জল
তার		আঁজলা ভরা শাপলা কাঁপে টলমল্ গো
সে		বাঁকিয়ে জোড়া ভুরু মোরে শাসায়।।
কভু		এলায়ে গা বাঁধে খোঁপা কোমরে জড়ায় আঁচল
		মট্‌কায় আঙুল, কভু ঘসে সে পা গো
কভু		জলে ডোবে কভু সাঁতার কাটে
		নানান ছলে সে দেরি করে জলের ঘাটে
মোরে	জানায় যেন ও সে আছে ব’সে
		কাহার আসার আশায়।।