চুড়ির তালে নুড়ির মালা

বাণী

চুড়ির তালে নুড়ির মালা রিনিঝিনি বাজে লো –
খোঁপায় দোলে বুনো ফুলের কুঁড়ি।
কালো ছোঁড়ার কাঁকাল ধ’রে নাচে মাতাল ছুঁড়ি লো।।
মহুয়া মদের নেশা পিয়ে বুঁদ হয়েছে বৌয়ে–ঝিয়ে
চাঁদ ছুটছে মনকে নিয়ে
ডুরি ছেঁড়া ঘুড়ি (যেন) লো।।
বাজে নুপূর পাঁইজোড় সারা গায়ে নাচের ঘোর
ওলো লেগেছে, মন হ’ল নেশায় বিভোর;
ওই আকাশে চাঁদ হের মেঘের সাথে যেন করে খুনসুড়ি লো।।

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি

বাণী

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি
আঁখিতে মোর কাজল মেখো ঘন শ্যামের বরণগুলি।।
	বঁধুর কথা মধুর প্রিয়
	কর্ণ মূলে দুলিয়ে দিও
বক্ষে আমার হার পরিও বঁধুর পায়ের নূপুর খুলি।।
তার পীত বসন দিয়ে ক'রো এই যোগিনীর উত্তরীয়
হবে অঙ্গেরই চন্দন আমার কলঙ্ক তার মুছে নিও।
	সে দেয় যা ফেলে মনের ভুলে
	তাই অঞ্চলে মোর দিও তুলে
তার বনমালার বাসি ফুলে ভ'রো আমার ভিক্ষা ঝুলি।।

আজ শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে

বাণী

আজ	শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে মন চলে মোর ভেসে',
	রেবা নদীর বিজন তীরে মালবিকার দেশে।।
		মন ভেসে যায় অলস হাওয়ায়
		হালকা-পাখা মরালী-প্রায়
	বিরহিনী কাদেঁ যথা একলা এলাকেশে।।
	কভু মেঘের পানে কভু নদীর পানে চেয়ে,'
	লুকিয়ে যথা নয়ন মোছে গায়েঁর কালো মেয়ে,
	একলা বধূ বসে থাকে যথায় বাতায়নে
				বাদল দিনের শেষে।।

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে

বাণী

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে হেসেছ বুকে মোর মধু-হাসিনী।
পরেছ গলায় আমার দেওয়া ফুল সে কি গো সবি ভুল বিজন-বাসিনী।।
		যেচেছ কত না আদর সোহাগ
		ক্ষণে অভিমান ক্ষণে অনুরাগ,
কত প্রিয় নামে ডেকেছ আমায় সে কি গো গেছ ভুলে মধুভাষিণী।।
		আমার সাধ-আশ-সাধনা-সুখ-হাসি
		তোমার সনে প্রিয় সকলি গেছে ভাসি,
কেন ফেলে দিলে নিরাশার কূলে, কোন্ অপরাধে বল উদাসিনী।।

বনের তাপস কুমারী আমি গো

বাণী

বনের তাপস কুমারী আমি গো, সখি মোর বনলতা।
নীরবে গোপনে দুইজনে কই আপন মনের কথা।।
যবে 	গিরিপথে ফিরি সিনান করিয়া,
	লতা টানে মোর আঁচল ধরিয়া,
হেসে বলি, ওরে ছেড়ে দে, আসিছে তোদের বন-দেবতা।।
ডাকি যদি তারে আদর করিয়া — ওরে বন বল্লরি,
আনন্দে তার ফোটা ফুলগুলি অঞ্চলে পড়ে ঝরি'।
	লুকায়ে যখন মোর দেবতায়
	আবরিয়া রাখে কুসুমে পাতায়,
চরণে আমার (ও সে) আসিয়া জড়ায় যবে হই ধ্যানরতা।।

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ

বাণী

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ আমার সনে
লুকাতে চাও বৃথা হে শ্যাম, ধরা পড় ক্ষণে ক্ষণে।।
গহন মেঘে লুকাতে চাও অম্‌নি রাঙা, চরণ লেগে
যে পথে ধাও সে পথ ওঠে ইন্দ্রধনুর রঙে রেঙে,
চপল হাসি চম্‌কে বেড়ায় বিজলিতে নীল গগনে।।
রবি-শশী-গ্রহ-তারা তোমার কথা দেয় প্রকাশি’
ঐ আলোতে হেরি তোমার তনুর জ্যোতি মুখের হাসি।
হাজার কুসুম ফুটে’ ওঠে লুকাও যখন শ্যামল বনে।
মনের মাঝে যেম্‌নি লুকাও, মন হয়ে যায় অম্‌নি মুনি,
ব্যথায় তোমার পরশ যে পাই, ঝড়ের রাতে বংশী শুনি
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে লুকাও আমার এই নয়নে
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে থাক আমার এই নয়নে।।