নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা

বাণী

নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা নিশি-শেষে।
বাদল-অবসানে আকাশ উঠেছে হেসে।।
চখার পাশে আসে বিরহ-রাতের চখি
আঁধার লুকাল ঐ দূর বনে এলোকেশে।।
শরম-রাঙা গালে জাগিল কুমারী ঊষা,
তরুণ অরুণ ঐ এসো রাঙা বর-বেশে।।

কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন

বাণী

কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন-লোকের বন্ধু গোপন
নাইতে আমার গানের ধারায় এলে সুরের মানসী কোন।।
	গান গেয়ে যাই আপন মনে
	সুরের পাখি গহন-বনে
সে সুর বেঁধে কার নয়নে জানে শুধু তারি নয়ন।।
	সুরের গোপন বাসর-ঘরে
	গানের মালা বদল ক'রে
সকল আঁখির অগোচরে না দেখাতেই মোদের মিলন।।

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে

বাণী

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে।
দিনের চিতা জ্বলে অস্ত আকাশে।।
দিন শেষে শুভদিন এলো বুঝি মম
মরণের রূপে এলে মোর প্রিয়তম,
গোধূলির রঙে তাই দশ দিশি হাসে।।
দিন গুণে নিরাশার পথ-চাওয়া ফুরালো,
শ্রান্ত এ জীবনের জ্বালা আজ জুড়ালো।
ওপার হ’তে কে এলো তরী বাহি’
হেরিলাম সুন্দরে, আর ভয় নাহি,
আঁধারের ’পারে তার চাঁদ-মুখ ভাসে।।

হৃদি-পদ্মে চরণ রাখো বাঁকা ঘনশ্যাম

বাণী

নারদ	:	হৃদি-পদ্মে চরণ রাখো বাঁকা ঘনশ্যাম।
ধ্রুব	:	বাঁকা শিখী-পাখা নয়ন বাঁকা বঙ্কিম ঠাম॥
নারদ	:	তুমি দাঁড়ায়ো ত্রিভঙ্গে!
ধ্রুব	:	অধরে মুরলী ধরি দাঁড়ায়ো ত্রিভঙ্গে॥
নারদ	:	সোনার গোধূলি যেন নিবিড় সুনীল নভে
		পীতধড়া প’রো কালো অঙ্গে (হরি হে)
ধ্রুব	:	নীল কপোত সম চরণ দুটি
		নেচে যাক অপরূপ ভঙ্গে (হরি হে)
উভয়	:	যেন নূপুর বাজে
		হরি সেই পায়ে যেন নূপুর বাজে।
		বনে নয় শ্যাম মনোমাঝে যেন নূপুর বাজে।
		ঐ চরণে জড়ায়ে পরান আমার
		(যেন) মঞ্জির হয়ে বাজে॥

চলচ্চিত্রঃ ‘ধ্রুব’ (ধ্রুব ও নারদের গান)

কথা কও কও কথা থাকিও না চুপ ক'রে

বাণী

কথা কও, কও কথা, থাকিও না চুপ ক'রে।
মৌন গগনে হের কথার বৃষ্টি ঝরে।।
ধীর সমীরণ নাহি যদি কহে কথা
ফোটে না কুসুম, নাহি দোলে বনলতা।
কমল মেলে না দল, যদি ভ্রমর না গুঞ্জরে।।
শোন কপোতীর কাছে কপোত কি কথা কহে,
পাহাড়ের ধ্যান ভাঙি মুখর ঝর্ণা বহে।
আমার কথার লঘু মেঘগুলি হায়!
জ'মে হিম হয়ে যায় তোমার নীরবতায়;
এসো আরো কাছে এসো কথার নূপুর প'রে।।

গীতিচিত্রঃ অতনুর দেশ

এরি লাগি তপস্যা কি করে

বাণী

এরি লাগি তপস্যা কি করে আঁধার রাতি।।
সই দেখলো চেয়ে রূপ-সায়রে জ্বলে এ কোন্ বাতি
লক্ষ চাঁদের জোছনা হেথা কে রেখেছে পাতি’?

নাটক : ‘মধুমালা’ (স্বপনপরীর গান)