আমি চিরতরে দূরে চলে যাব

বাণী

আমি চিরতরে দূরে চলে যাব
তবু আমারে দেব না ভুলিতে
আমিবাতাস হইয়া জড়াইব কেশ
বেণী যাবে যবে খুলিতে।।
তোমার সুরের নেশায় যখন
ঝিমাবে আকাশ কাঁদিবে পবন
রোদন হইয়া আসিব তখন
তোমার বক্ষে দুলিতে।।
আসিবে তোমার পরমোৎসব —
কত প্রিয়জন কে জানে,
মনে প’ড়ে যাবে কোন্‌ সে ভিখারি
পায়নি ভিক্ষা এখানে।
তোমার কুঞ্জ-পথে যেতে হায় 
চমকি’ থামিয়া যাবে বেদনায়
দেখিবে কে যেন ম’রে মিশে আছে
তোমার পথের ধূলিতে।। 

তরুণ-তমাল-বরণ এসো

বাণী

তরুণ-তমাল-বরণ এসো শ্যামল আমার।
ঘন শ্যাম তুলি বুলায়ে মেঘ-দলে এসো দুলায়ে আঁধার।।
কাঁদে নিশীথিনী তিমির কুন্তলা
আমারি মত সে উতলা,
এসো তরুণ দুরন্ত ভাঙি’ হৃদয় দুয়ার।।
তপ্ত গগনে ঘনায়ে ঘন দেয়া
ফুটায়ে কদম কেয়া,
আমার নয়ন-যমুনায় এসো জাগায়ে জোয়ার।।

আজি নাচে নটরাজ এ কী ছন্দে

বাণী

আজি নাচে নটরাজ এ কী ছন্দে ছন্দে।
	কী জানি কী সুখাভাসে
	মৃদু মৃদু মধু হাসে
কে জানে মাতিল কোন আনন্দে।।
	ধুতুরা খুলিয়া ফেলি’
	পড়েছে চম্পা বেলি
অপরূপ রূপ হেরি সবে বন্দে।।
সুরধুনী গঙ্গে তরল তরঙ্গে,
ছন্দে তুলিল ধ্বনি তরঙ্গ রঙ্গে।
	উমারে লইয়া বুকে
	মহাকাল দোলে সুখে
রবি শশী গ্রহতারা অভিবন্দে।।

মোর না মিটিতে আশা ভাঙিল খেলা

বাণী

মোর না মিটিতে আশা ভাঙিল খেলা,
জীবন প্রভাতে এ লো বিদায় বেলা।।
আঁচলের ফুলগুলি করুণ নয়ানে
নিরাশায় চেয়ে আছে মোর মুখপানে,
বাজিয়াছে বুকে যেন, কার অবহেলা।।
আঁধারের এলোকেশ দু’ হাতে জড়ায়ে
যেতে যেতে নিশীথিনী কাঁদে বনছায়ে।
		বুঝি দুখ-নিশি মোর
		হবে না হবে না ভোর,
ভিড়িবে না কূলে মোর বিরহের ভেলা।।

ছিটাইয়া ঝাল নুন এলো ফাল্গুন মাস

বাণী

ছিটাইয়া ঝাল নুন এলো ফাল্গুন মাস
কাঁচা বুকে ধরে ঘুণ, শ্বাস ওঠে ফোঁস ফাঁস।।
শিমুল ফুলের মত ফটাফট্‌ ফাটে হিয়া
প্রেম-তুলো বের হয়ে পড়ে গো ছড়াইয়া,
সবে বালিশ ধরিয়া করে ছটপট হাঁসফাঁস।।
চিবুতে সজ্‌’নে খাড়া সজনীরা ভুলে যায়,
আনাগোনা করে প্রেম পরানের দরজায়,
হৃদয়ের ইঞ্জিনে গ্যাস্‌ ওঠে ভোঁস ভাঁস।।
কচি আম-ঝোল-টক খাইয়া গিন্নি মায়
বৌঝির সাথে করে টক্ষাই টক্ষাই।
আইবুড়ো আইবুড়ি জল গেলে ছ’ গেলাস।।
বিরহিণীদের আঁখি-কলসি হয়েছে ফুটো,
গাধাও আজ গাহে গান ফেলিয়া ঘাসের মুঠো,
নোনা-পাকা মন বলে, কবে আসে তালশাঁস।।

জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর

বাণী

উভয়ে	:	জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর মদন মনোহর কাননচারী।
		গোপী-চন্দন আমোদিত তনু বনমালী হরি বংশীধারী।।
ধ্রু	:	চাঁচর চিকুরে শোভে শিখী-পাখা,
		বাঁকা ত্রিভঙ্গিমা চারু নয়ন-বাঁকা।
সু	:	ও বাঁকা রূপ যেন মর্মে রহে আঁকা
		মনে বিরহ কালা বন-বিহারী।।
সু	:	ভক্তি প্রেম প্রীতি তব রাঙা পায়
ধ্রু	:	নূপুর হ’য়ে হরি, যেন বাজিয়া যায়,
সু	:	জনমে জনমে কৃষ্ণ-কথা গায়
		যেন এ দেহ মন শুক-শারি।।

নাটক : ‘ধ্রুব’ (ধ্রুব ও সুনীতির গীত)