এলে কি বঁধু ফুল-ভবনে

বাণী

এলে কি বঁধু ফুল-ভবনে।
মেলিয়া পাখা নীল গগনে।।
একা কিশোরী লাজ বিসরি’
তোমারে স্মরি সঙ্গোপনে,
এসো গোধূলির রাঙা লগনে।।
পাতার আসন শাখায় পাত,
বালিকা কলির মালিকা গাঁথ,
দিনু গন্ধ-লিপি ভোর-পবনে।।

বুনো পাখি বুনো পাখি

বাণী

বুনো পাখি, বুনো পাখি চোখে তোর নেই কেন ঘুম।
ঘুমায় তেপান্তর আকাশ সাগর বন নিঝ্ঝুম।।
	জোছনা-আঁচল জড়াইয়া গায়
	শ্রান্ত ধরণী অঘোর ঘুমায়,
ঘুমায় ভ্রমর লতার কোলে মাখিয়া পরাগ-কুম্‌কুম্‌।।
	আমিও জাগি তোরই মত পাখি
	বিরহ-শয়নে ভবনে একাকী,
হুতাশ পবনে ছড়ায় সুরভি বিফল মালার কুসুম।।

মেঘলা-মতীর ধারা জলে কর স্নান

বাণী

মেঘলা-মতীর ধারা জলে কর স্নান (হে ধরণী)
স্নিগ্ধ শীতল মেঘ-চন্দনে জুড়াও তাপিত প্রাণ (হে ধরণী)।।
	তব বৈশাখী ব্রত শেষে
	শ্যাম সুন্দর বেশে
নব দেবতা এলো হেসে লহ আশিস বারি দান (হে তাপসী)।।
	তব ভূষণ-হীন উপবাস ক্ষীণ কায়
	হোক নবতর শ্যাম সমারোহে, পুষ্পিত সুষমায়।
	তীর্থ-সলিলে কৃষ্ণা
	দূর কর গো তৃষ্ণা
শ্যাম দরশ পরশ ব্যাকুলা হরষে গাহ গান (হে তপতী)।।

যাও যাও তুমি ফিরে

বাণী

	যাও যাও তুমি ফিরে এই মুছিনু আঁখি
	কে বাঁধিবে তোমারে হায় গানের পাখি॥
মোর	আজ এত প্রেম আশা এত ভালোবাসা
	সকলি দুরাশা আজ কি দিয়া রাখি॥
	তোমার বেঁধেছিল নয়ন শুধু এ রূপের জালে
	তাই দুদিন কাঁদিয়া হায় এ বাঁধন ছাড়ালে।
	আমার বাঁধিয়াছে হিয়া আমি ছাড়াব কি দিয়া
	আমার হিয়া তো নয়ন নহে ও সে ছাড়ে না কাঁদিয়া,
	ওগো দুদিন কাঁদিয়া।
	এই অভিমান জ্বালা মোর একেলারি কালা
	ম্লান মিলনেরি মালা দাও ধূলাতে ঢাকি॥

বন্ধু বিদায় যাই চ’লে যাই

বাণী

বন্ধু বিদায় —
যাই চ’লে যাই — তোমার গলার মালা পরায়ে তোমায়।।
	ফুল ঝ’রে যে পথে হারায়
	অশ্রু ঝ’রে যে পথে লুকায়,
যাই যাই — যে আঁধার পথে আশার বাতি নিভে যায়
				বন্ধু বিদায়।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

নিম ফুলের মউ পি’য়ে ঝিম হয়েছে ভোমরা

বাণী

নিম ফুলের মউ পি’য়ে ঝিম হয়েছে ভোমরা।
মিঠে হাসির নূপুর বাজাও ঝুমুর নাচো তোমরা।।
কভু কেয়া কাঁটায়, কভু বাব্‌লা-আঠায়
বারে বারে ভোমরার পাখা জড়ায়ে গো — পাখা জড়ায়
দেখে হেসে লুটিয়ে পড়ে ফুলের দেশের বউরা।।