জয় বাণী বিদ্যাদায়িণী

বাণী

জয় বাণী বিদ্যাদায়িণী
জয় বিশ্বলোক-বিহারিণী।।
	সৃজন-আদিম তমঃ অপসারি'
	সহস্রদল কিরণ বিথারি'
আসিলে মা তুমি গগন বিদারি' মানস-মরাল-বাহিনী।।
	ভারতে ভারতী মূক তুমি আজি
	বীণাতে উঠিছে ক্রন্দন বাজি'
ছিন্ন চরণ-শতদলরাজি কহিছে বিষাদ-কাহিনী।।
	ঊর মা আবার কমলাসীনা, (মাগো)
	করে ধর পুনঃ সে রুদ্রবীণা
নব সুর তানে বানী দীনাহীনা জাগাও অমৃতভাষিণী
			মা জাগাও অমৃতভাষিণী।।

মোর ঘনশ্যাম এলে কি আজ

বাণী

মোর ঘনশ্যাম এলে কি আজ কালো মেঘের বেশে।
দূর মথুরার নীল-যমুনা পার হ’য়ে মোর দেশে।।
		এলে কালো মেঘের বেশে।।
	বৃষ্টি ধারায় টাপুর টুপুর
	বাজে তোমার সোনার নূপুর,
বিজলিতে চপল আঁখির চমক বেড়ায় হেসে।।
তোমার তনুর সুগন্ধ পাই, যুঁই কেতকীর ফুলে
ওগো রাজাধিরাজ! ব্রজে আবার এলে কি পথ ভুলে।
	মেঘ-গরজনের ছলে
	ডাকো ‘রাধা রাধা’ বলে
বাদল হাওয়ায় তোমার বাঁশির বেদন আসে ভেসে।।

এলো এলো রে বৈশাখী ঝড় এলো এলো রে

বাণী

এলো এলো রে বৈশাখী ঝড় এলো এলো রে,
ঐ বৈশাখী ঝড় এলো এলো মহীয়ান সুন্দর।
পাংশু মলিন ভীত কাঁপে অম্বর চরাচর থরথর।।
ঘনবন–কুন্তলা বসুমতী সভয়ে করে প্রণতি,
সভয়ে নত চরণে ভীতা বসুমতী।
সাগর তরঙ্গ মাঝে তারি মঞ্জীর যেন বাজে বাজে রে
পায়ে গিরি–নির্ঝর–ঝরঝর ঝরঝর।।
ধূলি–গৈরিক নিশান দোলে ঈশান গগন চুম্বী,
ডম্বরু ঝল্লরী ঝাঁঝর ঝনঝন বাজে
এলো ছন্দ বন্ধন–হারা এলো রে
এলো মরু–সঞ্চর বিজয়ী বীরবর।।

ঝুলনের এই মধু লগনে

বাণী

ঝুলনের এই মধু লগনে।
মেঘ দোলায় দোলে; দোলে রে বাদল গগনে।।
উদাসী বাঁশির সুরে ডাকে শ্যামরায়,
ব্রজের ঝিয়ারি আয়, পরি নীল শাড়ি আয়,
নীল কমল কুঁড়ি দোলায়ে শ্রবণে।।
বাঁশির কিশোর ব্রজগোপী চিতচোর,
অনুরাগে ডাকে আয় দুলিবি কে ঝুলনে।।
মেঘ মৃদং বাজে, বাজে কী ছন্দে,
রিমঝিম বারিধারা ঝরে আনন্দে।
বুঝি এলো গোকুল ব্রজে নেমে
কৃষ্ণ রাখাল প্রেমে শুনি বাঁশি তায়
ফোটে হাসি গোপীজন আননে।।

কাবেরী নদী–জলে কে গো বালিকা

বাণী

কাবেরী নদী-জলে কে গো বালিকা
আনমনে ভাসাও চম্পা-শেফালিকা।।
প্রভাত-সিনানে আসি আলসে
কঙ্কন-তাল হানো কলসে
খেলে সমীরণ ল’য়ে কবরীর মালিকা।।
দিগন্তে অনুরাগ নবারুণ জাগে
তব জল ঢল ঢল করুণা মাগে।
ঝিলাম, রেবা নদী তীরে,
মেঘদূত বুঝি খুঁজে ফিরে
তোমারেই তন্বী শ্যামা কর্ণাটিকা।।

কেন বারে বারে আমি এসে

বাণী

কেন বারে বারে আমি এসে’ ফিরে যাই তাহারি দুয়ারে।
পাষাণ ভাঙ্গিয়া বহিবে গো কবে নির্ঝর শত ধারে।।
পাষাণে গঠিত দেবতা বলিয়া গলে না হিয়া হায়,
বৃথা বেদীতলে কুসুম শুকায় দেউল আঁধারে।।

নাটক : ‘আলেয়া’