জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে

বাণী

জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে।
আবার উঠিবে চাঁদ নিরাশার তিমিরে।।
	নিঝুম কাননে থাকি
	ডাকিবে গানের পাথি,
দখিন-সমীরণ আবার বহিবে ধীরে।।
আবার গাঙের জলে আসিবে জোয়ার
জ্বলিবে আশায় দীপ, রবে না আঁধার।
	তোমার পরশ লেগে
	ঘুম মোর যাবে ভেঙে,
একদা প্রভাতে প্রিয় আকুল নয়ন-নীরে।।

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে

বাণী

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই কেন মনে রাখো তা’রে।
ভুলে যাও মোরে ভুলে যাও একেবারে।।
আমি গান গাহি আপনার দুখে
তুমি কেন আসি’ দাঁড়াও সুমুখে,
আলেয়ার মত ডাকিও না আর নিশীথ –অন্ধকারে।।
দয়া কর, মোরে দয়া কর, আর আমারে লইয়া খেলো না নিঠুর খেলা,
শত কাঁদিলেও ফিরিবে না প্রিয় শুভ লগনের বেলা।
আমি ফিরি পথে, তাহে কার ক্ষতি
তব চোখে কেন সজল মিনতি,
আমি কি ভুলেও কোনোদিন এসে’ দাঁড়ায়েছি তব দ্বারে।।

১. তারে

গীতিচিত্র: অতনুর দেশ

গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী

বাণী

গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী।
বল গো মনের কথা বনের কিশোরী।।
চৈতালী চাঁদের তিথি যে ফুরায়
কাঁদিয়া কোয়েলিয়া পরদেশে যায়,
মধুমাখা নাম তব, মধুকর গায় মৃদুল গুঞ্জরী।।
বনমালী নিতি আসি' ভাঙায় ঘুম
বনদেবী গাহে জাগো দুলালী কুসুম,
কত মল্লিকা বেলি বকুল চামেলি
বিলায়ে সুবাস হের গিয়াছে ঝরি'।।

আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিণামে লুচি

বাণী

আমার হরিনামে রুচি, কারণ, পরিণামে লুচি
			আমি ভোজনের লাগি করি ভজন।
আমি মালপোর লোভে এ কল্পলোকে তল্পী বাঁধিয়া এসেছি মন।।
‘রাধা-বল্লভী’ লোভে পূজি রাধা-বল্লভে,
আসি রসগোল্লার তরে রাস মোচ্ছবে।
আমার গোল্লায় গেছে মন, দাদা গো, রসগোল্লায় গেছে মন।
ও তো রসগোল্লা কভু নয়
যেন ন্যাড়া-মাথা বাবাজী থালাতে হয়েন উদয়!
(আর) গজা দেখে প্রেম যে গজায় হৃদিতলে রে,
পানতোয়া দেখে প্রাণ নাচে হরি ব’লে রে!
ঐ গোলগাল মোয়া এই মায়াময় সংসার দেয় গো ভুলিয়ে,
আর ক্ষীরের খোয়াতে খোয়াইতে কুল মন ওঠে চুলবুলিয়ে।
(আমার) মন বলে হরি হরি হাত বলে হর হে,
যত অরসিকে তেড়ে আসে বলে ব্যাটায় ধর হে!
আর এই সংসারে রসিক শুধু রাঁধুনী ও ময়রাই —
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
যারা ময়দা খেয়ে মালপো ঢালে
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
আমি চিনি মেখে গায় যোগী হব দাদা যাব ময়রার দেশে,
আর রসকরার কড়াই-এ ডুবিয়া মরিব গলে সন্দেশ ঠেসে।
ভোজন ভজহরি-র শোনো এই তথ্য
গো-ময় সংসারে ভজনই সত্য।।

ত্রিংশ কোটি তব সন্তান ডাকে তোরে

বাণী

ত্রিংশ কোটি তব সন্তান ডাকে তোরে
ভুলে আছিস দেশ জননী কেমন ক’রে॥
ব্যথিত বুকে মাগো তোমার মন্দির গড়ি
করি পূজা আরতি মাগো যুগ যুগ ধরি’
ধূপ পুড়িয়া মাগো চন্দন শুকায়ে যায়
এসো মা এসো পুন রানীর মুকুট প’রে॥
দুঃখের পসরা মা আর যে বহিতে নারি
কাঁদিয়া কাঁদিয়া শুকায়েছে আঁখি-বারি
এ গ্লানি লাজ মাগো সহিতে নাহি পারি
বিশ্ব বন্দিতা এসো দুখ-নিশি-ভোরে॥
অতীত মহিমা ল’য়ে এসো মহিমাময়ী
হীনবল সন্তানে কর মা ভুবনজয়ী
দুখ তপস্যা মা কবে তব হবে শেষ
আয় মা নব আশা রবির প্রদীপ ধ’রে॥

ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত

বাণী

ওরে		আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে।
যেথা		সকল জাতির সকল মানুষ নির্ভয়ে মা’র চরণ ছোবে।
		(সেথা) এবার মায়ের পূজা হবে॥
সেথা		নাই মন্দির নাই পূজারি নাই শাস্ত্র নাইরে দ্বারী,
সেথা		মা বলে যে ডাকবে এসে মা তাহারেই কোলে লবে॥
মা		সিংহ-আসন হ’তে নেমে বসেছে দেখ্ ধূলির তলে
মার		মঙ্গল ঘট পূর্ণ হবে সবার ছোঁওয়া তীর্থ জলে।
মোরা		জননীকে দেখিনি, তাই ভাইকে আঘাত হেনেছে ভাই,
আজ		মাকে দেখে বুঝবি মোরা এক মা’র সন্তান সবে।
এবার		ত্রিলোক জুড়ে পড়বে সাড়া মাতৃ মন্ত্র মাভৈঃ রবে॥