আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়

বাণী

	আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, চাঁদ নেহারিয়া প্রিয়
	মোরে যদি মনে পড়ে, বাতায়ন বন্ধ করিয়া দিও।।
		সুরের ডুরিতে জপমালা সম
		তব নাম গাঁথা ছিল প্রিয়তম,
	দুয়ারে ভিখারি গাহিলে সে গান, তুমি ফিরে না চাহিও।।
	অভিশাপ দিও, বকুল-কুঞ্জে যদি কুহু গেয়ে ওঠে,
	চরণে দলিও সেই যুঁই গাছে আর যদি ফুল ফোটে।
		মোর স্মৃতি আছে যা কিছু যেথায়
		যেন তাহা চির-তরে মুছে যায়,
(মোর)	যে ছবি ভাঙিয়া ফেলেছ ধূলায় (তারে) আর তু’লে নাহি নিও।।

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে

বাণী

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।

জগতের নাথ তুমি তুমি প্রভু প্রেমময়

বাণী

জগতের নাথ তুমি, তুমি প্রভু প্রেমময়।
আমি জগতের বাহিরে নহি দেহ চরণে আশ্রয়।।
যাহাদের তরে আমি খাটিনু দিবস-রাতি,
(আমার)যাবার বেলায় কেহ তাদের হ’ল না সাথের সাথি।
সম্পদ মোর পাঁচ ভূতে খায়, কর্ম কেবল সঙ্গে রয়।।
ভুলিয়া সংসার মোহে লই নাই তোমারি নাম —
তরাতে এমন পাপী পাবে না হে ঘনশ্যাম।
শুনেছি তোমারে যদি কাঁদিয়া কেহ ডাকে —
তুমি অমনি তারে কর ক্ষমা চরণে রাখ তাকে।
আমি সেই আশাতে এসেছি নাথ যদি তব কৃপা হয়।।

তোর নামেরই কবচ দোলে

বাণী

		তোর নামেরই কবচ দোলে দোলে আমার বুকে, হে শঙ্করী।
		কি ভয় দেখাস্? আমি তোকেও ভয় করি না, ভয় করি না ভয়ঙ্করী।।
			মৃত্যু প্রলয় তাদের লাগি
			নয় যারা তোর অনুরাগী।
		(মাগো) তোর শ্রীচরণ আশ্রয় মোর (দেখে) মরণ আছে ভয়ে মরি’।।
		তোর যদি না হয় মা বিনাশ, আমিও মা অবিনাশী;
(আমি)	তোরই মাঝে ঘুমাই জাগি, তোরই কোলে কাঁদি হাসি।
			তোর চরণ ছেড়ে পলায় যারা (মা)
			মায়ার জালে মরে তারা
		তোর মায়া-জাল এড়িয়ে গেলাম মা তোর অভয়-চরণ ধরি, মা।।

আনো আনো অমৃত বারি

বাণী

আনো আনো অমৃত বারি।
পিপাসিত চিত্তের তৃষ্ণা নিবারি।।
আনো নন্দন হতে পারিজাত-কেশর
তীর্থ-সলিল আনো ভরি’ মঙ্গল-হেম-ঝারি।।
প্রখর সূর্যকরে দহিছে দিগন্তর,
মন্দাকিনী-ধারা সঞ্জীবনী আনো নারী।।

জল দাও দাও জল

বাণী

জল দাও, দাও জল!
মরু-পথে মরি তৃষ্ণায় সাহারার মত হৃদি-তল।।
	আঁখিজল পিয়া, পিয়া এতদিন —
	বেঁচেছিনু, সে-আঁখি আজ জলহীন!
সে কি ছল? তব নয়ন সদাই করিত যে ছল ছল।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘কাফেলা’