আমার মানস-বনে ফুটেছে রে

বাণী

আমার	মানস-বনে ফুটেছে রে শ্যামা-লতার মঞ্জরি।
সেই	মঞ্জু-বনে ফির্‌ছে রে তাই ভক্তি-ভ্রমর গুঞ্জরি।।
	সেথা	আনন্দে দেয় করতালি
		প্রেমের কিশোর বনমালী,
সেই	লতামূলে শিবের জটার গঙ্গা ঝরে ঝর্ঝরি।।
	কোটি তরু শাখা মেলি’ এই সে-লতার স্পর্শ চায়,
	শিরে ধ’রে ধন্য হ’তে এই শ্যামারই শ্যাম শোভায়।
		এই লতারই ফুল-সুবাসে
		কোটি চন্দ্র সূর্য আসে১ নীল আকাশে,
এই	লতার ছায়ায় প্রাণ জুড়াতে ত্রিলোক আছে প্রাণ ধরি’।।

১. হাসে

সকরুণ নয়নে চাহ আজি মোর

বাণী

সকরুণ নয়নে চাহ আজি মোর বিদায়-বেলা
ভুলিতে দাও বিদায়-দিনে হেনেছ যে অবহেলা॥
হাসিয়া কহ কথা আজ হাসিতে যেমন আগেতে
হেরিবে মোর জীবন-সাঁঝে গোধূলি রঙের খেলা॥
হে বন্ধু, বন্ধুর পথে কে কাহার হয়েছে সাথি
তেমনি থাকিয়া যায় সব যাবার যে যায় সে একেলা॥

এসো এসো এসো ওগো মরণ

বাণী

	এসো এসো এসো ওগো মরণ!
এই	মরণ-ভীতু মানুষ-মেষের ভয় কর গো হরণ।।
	না বেরিয়েই পথে যা’রা পথের ভয়ে ঘরে
	বন্ধ-করা অন্ধকারে মরার আগেই মরে,
তাতা	থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ তাদের বুকের ’পরে —
ভীম	রুদ্রতালে নাচুক তোমার ভাঙন-ভরা চরণ।।
		দীপক রাগে বাজাও জীবন-বাঁশি
		মড়ার মুখেও আগুন উঠুক হাসি’।
	কাঁধে পিঠে কাঁদে যথা শিকল জুতোর ছাপ
	নাই সেখানে মানুষ সেথা বাঁচাও মহাপাপ,
সে	দেশের বুকে শ্মাশান মশান জ্বালুক তোমার শাপ,
সেথা	জাগুক নবীন সৃষ্টি অবার হোক নব নাম-করণ।।
		হাতের তোমার দণ্ড উঠুক কেঁপে’,
		এবার দাসের ভুবন ভবন ব্যেপে’।
	মেষগুলোকে শেষ ক’রে দেশ-চিতার বুকে নাচো!
	শব ক’রে আজ শয়ন, হে শিব, জানাও তুমি আছ।
	মরায় ভরা ধরায়, মরণ! তুমিই শুধু বাঁচো —
এই	শেষের মাঝেই অশেষ তুমি, করছি তোমায় বরণ।।
		জ্ঞান-বুড়ো ঐ বলছে জীবন মায়া,
		নাশ কর ঐ ভীরুর কায়া ছায়া!
	মুক্তি-দাতা মরণ! এসো কাল-বোশেখীর বেশে;
	মরার আগেই মরলো যারা, নাও তাদেরে এসে।
	জীবন তুমি সৃষ্টি তুমি জরা-মরার দেশে,
তাই	শিকল বিকল মাগ্‌ছে তোমার মরণ-হরণ-শরণ।।

‘মরণ-বরণ’

সুনয়না চোখে কথা ক’য়ে যায়

বাণী

সুনয়না চোখে কথা ক’য়ে যায়
বনের রানী, দুটি ফুলে শুনি
নয়ন ফাঁকে প্রাণ লুকিয়ে চায়॥
দেহ দেউলে, দুটি দীপ দুলে
হেরি সারা অন্তর তায়॥

পথে পথে ফের সাথে মোর বাঁশরিওয়ালা

বাণী

পথে পথে ফের সাথে মোর বাঁশরিওয়ালা।
		নওলকিশোর বাঁশরিওয়ালা।।
তোমার নূপুর আমার চরণে
		আপনি সাধিয়া পরালে কালা।।
নিভাইয়া মোর ভবন-প্রদীপ
		দেখালে নিখিল ভুবনে আলা।।
কুল লাজ মান সকল হরি’
		হরি করিলে মোরে ব্রজের বালা।।

সই ভালো করে বিনোদ বেণী

বাণী

সই		ভালো ক’রে বিনোদ–বেণী বাঁধিয়া দে
মোর		বঁধু যেন বাঁধা থাকে বিননী–ফাঁদে।।
সই		বাঁধিতে সে বাঁধন–হারা বনের হরিণ
সই		জড়ায়ে দে জরীণ ফিতা মোহন ছাঁদে।।
সই		চপল পুরুষ সে তাই কুরুশ কাঁটায়
		রাখিব খোঁপারি সাথে বিঁধিয়া লো তায়।
তাহে		রেশমি জাল বিছায়ে দে ধরিতে চাঁদে।।
		প্রথম প্রণয়–রাগের মত আলতা রঙে
		রাঙায়ে দে চরণ মোর এমনি ঢঙে।
সই		পায়ে ধ’রে সে যেন লো আমারে সাধে।।