গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ

বাণী

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ
করুণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
আদম নূহ, ইব্রাহিম দাউদ সোলেয়মান মুসা আর ঈসা,
সাক্ষ্য দিল আমার নবীর, সবার কালাম হ'ল রদ।
যাঁহার মাঝে দেখল জগৎ ইশারা খোদার নূরের,
পাপ-দুনিয়ায় আনলো যে রে, পুণ্য বেহেশতী সনদ।।
হায় সিকান্দর খুঁজল বৃথাই আব-হায়াত এই দুনিয়ায়
বিলিয়ে দিল আমার নবী, সে সুধা মানব সবায়।
হায় জুলেখা মজল ঐ ইউসুফেরই রূপ দেখে,
দেখলে মোদের নবীর সুরত, যোগীন হত ভসম মেখে'।
শুনলে নবীর শিঁরিন জবান, দাউদ মাগিত মদদ।।
ছিল নবীর নূর পেশানিতে, তাই ডুবল না কিস্তি নূহের
পুড়ল না আগুনে হযরত ইব্রাহিম সে নমরুদের
হায়, দোজখ আমার হারাম হ'ল পিয়ে কোরানের শিঁরিন শ্যহদ।।

নমঃ নমঃ নমো বাঙলাদেশ মম

বাণী

নমঃ নমঃ নমো		বাঙলাদেশ মম
চির মনোরম		চির মধুর
বুকে নিরবধি		বহে শত নদী
চরণে জলধির		বাজে নূপুর।।
গ্রীষ্মে নাচে বামা		কালবোশেখি ঝড়ে
সহসা বরষাতে		কাঁদিয়া ভেঙ্গে পড়ে
শরতে হেসে চলে		শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী		গীতি বিধুর।।
হরিত অঞ্চল		হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে		শিশির ভেজা পায়ে
শীতের অলস বেলা		পাতা ঝরারি খেলা
ফাগুনে পরে সাজ		ফুল-বধূর।।
এই দেশের মাটি		জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা		নাহি ভূমণ্ডলে
এই মায়েরি বুকে		হেসে খেলে সুখে
ঘুমাবো এই বুকে		স্বপ্নাতুর।।

কালো পাহাড় আলো করে কে

বাণী

কালো পাহাড় আলো করে কে ও কে কালো শশী,
নিতুই এসে লো বাজায় বাঁশি কদম তলায় বসি।।
	সই লো মানা কর্‌ না ওকে,
	ও চায় না যেন অমন চোখে,
ওর চাউনি দেখে অলপ বয়সে হলাম দোষী।।
গুরুজনের সে ভয় করে না,
বাঁকিয়ে ভুরু ডাকে — সে ডাকে, আমারে সে ডাকে।
রাতের বেলায় চোরের মত চাহে বেড়ার ফাঁকে।
	আমি না চাহিলে নূপুর ছুঁড়ে
	কলসি ভেঙে পালায় দূরে,
আমি মরেছি সই প'রে তাহার বনমালার রশি।।

ওমা তোর চরণে কি ফুল দিলে

বাণী

ওমা	তোর চরণে কি ফুল দিলে পূজা হবে বল।
	রক্ত-জবা অঞ্জলি মোর হ’লো যে বিফল।।
		বিশ্বে যাহা আছে মাগো
		তাতেও পূজা হবে নাকো,
	তাই তো দুঃখে নয়নে মোর শুধুই আসে জল।।
	মনের কোণে অর্ঘ্য রচি’ আঁধার ঘরে একা,
	ডাকলে তোরে সকল ভুলে দিবি না তুই দেখা।
		তখন কি মা দুঃখ-হরা
		শেষ হবে না অশ্রুধারা,
	কি ফুলে তোর পূজা হবে বল — কেন করিস্ ছল।।

আসল যখন ফুলের ফাগুন

বাণী

আসল যখন ফুলের ফাগুন, গুল্-বাগে ফুল চায় বিদায়।
এমন দিনে বন্ধু কেন বন্ধুজনে ছেড়ে যায়॥
মালঞ্চে আজ ভোর না হতে বিরহী বুলবুল কাঁদে,
না ফুটিতে দলগুলি তার ঝর্‌ল গোলাব হিম-হাওয়ায়॥
পুরানো গুল-বাগ এ ধরা, মানুষ তাহে তাজা ফুল,
ছিঁড়ে নিঠুর ফুল-মালী আয়ুর শাখা হতে তায়॥
এই ধূলিতে হল ধূলি সোনার অঙ্গ বে-শুমার,
বাদশা অনেক নূতন বধূ ঝরল জীবন-ভোরবেলায়॥
এ দুনিয়ার রাঙা কুসুম সাঁজ না হতেই যায় ঝ’রে,
হাজার আফ্‌সোস, নূতন দেহের দেউল ছেড়ে প্রাণ পালায়॥
সামলে চরণ ফেলো পথিক, পায়ের নিচে মরা ফুল
আছে মিশে এই সে ধরার গোরস্থানে এই ধূলায়॥
হল সময় — লোভের ক্ষুধা মোহন মায়া ছাড় হাফিজ,
বিদায় নে তো ঘরের কাছে দূরের বঁধূ ডাকছে আয়॥