বসিয়া বিজনে কেন একা মনে

বাণী

বসিয়া বিজনে		কেন একা মনে
পানিয়া ভরণে		চলো লো গোরী
চলো জলে চলো		কাঁদে বনতল
ডাকে ছলছল		জল-লহরি।।
দিবা চ’লে যায়		বলাকা-পাখায়
বিহগের বুকে		বিহগী লুকায়।
কেঁদে চখা-চাখি		মাগিছে বিদায়
বারোয়াঁর সুরে		ঝুরে বাঁশরি।।
ওগো বে-দরদি		ও রাঙা পায়ে
মালা হয়ে কে গো		গেল জড়ায়ে।
তব সাথে কবি		পড়িল দায়ে
পায়ে রাখি তারে		না গলে পরি।।

উঠুক তুফান পাপ-দরিয়ায়

বাণী

উঠুক তুফান পাপ-দরিয়ায় ওরে আমি কি তায় ভয় করি।
			ও ভাই আমি কি তায় ভয় করি।
পাক্কা ঈমান তক্তা দিয়ে গড়া যে আমার তরী।
			ও ভাই গড়া যে আমার তরী।।
‌‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু'র পাল তুলে,
ঘোর তুফানকে জয় ক'রে ভাই যাবই কূলে,
মোহাম্মদ মোস্তফা নামের (ও ভাই) গুণের রশি ধরি'।।
খোদার রাহে সঁপে দেওয়া ডুববে না মোর তরী,
সওদা ক'রে ভিড়বে তীরে সওয়াব-মাণিক ভরি'।
দাঁড় এ তরীর নামাজ, রোজা, হজ্ ও জাকাত,
উঠুক না মেঘ, আসুক বিপদ — যত বজ্রপাত,
আমি যাব বেহেশত্-বন্দরেতে রে এই সে কিশতিতে চড়ি'।।

শ্রীকৃষ্ণ মুরারী গদাপদ্মধারী

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ মুরারী গদাপদ্মধারী
মধুবন-চারী গিরিধারী ত্রিভুবন-বিহারী।।
	লীলা-বিলাসী গোলকবাসী
	রাধা তুলসী প্রেম-পিয়াসী
মহা বিরাট বিষ্ণু ভূ-ভার হরণকারী।।
	নব-নীরদ-কান্তি-শ্যাম
	চির কিশোর অভিরাম
রসঘন-আনন্দ-রূপ মাধব বনোয়ারী।।

ছাড়িয়া যেও না আর

বাণী

ছাড়িয়া যেও না আর।
বিরহের তরী মিলনের ঘাটে লাগিল যদি আবার।।
	কত সে-বিফল জনমের পর
	পথ-চাওয়া মোর ফিরে এলে ঘর,
এলো শুভ দিন, কাটিল অসহ রাতের অন্ধকার।।
দেবতা গো ফিরে চাও,
মোর বেদনার তপস্যা-শেষ, মিলনের বর দাও।
	ল’য়ে জীবনের সঞ্চিত ব্যথা
	তোমার চরণে হলাম প্রণতা,
লহ পূজা মোর নয়নের লোর শীর্ণা তনুর হার।।

কি দিয়ে পূজি ভগবান

বাণী

	কি দিয়ে পূজি ভগবান!
আমার ব’লে কিছু নাহি হরি সকলি তোমারি যে দান
	মন্দিরে তুমি, মূরতিতে তুমি
	পূজার ফুলে তুমি, স্তব-গীতে তুমি,
ভগবান দিয়ে ভগবান পূজা করিতে — তুমি যদি ভাব অপমান॥
	কেমন তব রূপ দেখিনি হরি
	আপন মন দিয়ে তোমারে গড়ি,
কাঁদ না হাস তুমি সে-রূপ হেরি — বুঝিতে পারি না আমি তাই কাঁদে প্রাণ॥
	কোটি রবি-শশী আরতি করে যারে,
	প্রদীপ জ্বালিয়া খুঁজি আমি তারে।
বন-ডালা যাঁর পূজার সম্ভার, যোগী মুনি করে যুগযুগ ধ্যান।
কোথা শ্রীমুখ তব কোথা শ্রীচরণ, চন্দন দিব কোন্‌খান ॥

ঝাঁকড়া-চুলো তালগাছ তুই দাঁড়িয়ে কেন

বাণী

ঝাঁকড়া-চুলো তালগাছ তুই দাঁড়িয়ে কেন ভাই।
আমার মত পড়া কি তোর মুখস্থ হয় নাই।।
	আমার মত একপায়ে ভাই
	দাঁড়িয়ে আছিস্‌ কান ধ’রে ঠায়,
একটুখানি ঘুমোয় না তোর পণ্ডিত মশাই।।
	মাথায় তুলে পাত্‌তাড়ি তোর
	কি ছাই বকিস্‌ বকর বকর,
আম্‌তা আম্‌তা করে নাম্‌তা পড়িস্‌ কি সদাই।।
	তালগাছ তোর পাতার কোলে
	বাবুই পাখির বাসা ঝোলে,
কোচড়-ভরা মুড়ি যেন, দেনা দুটি খাই।।
	পাখিরা তোর মাথায় এসে
	উড়ে এসে জুড়ে বসে,
ঠুক্‌রে ওরা দেয় কি মাথায় পাতা নাড়িস্‌ তাই।।