ফুল চাই চাই ফুল টগর চম্পা চামেলি

বাণী

ফুল চাই — চাই ফুল — টগর চম্পা চামেলি
ফিরি ফুলওয়ালী নিয়ে ফুল ডালি —
	মল্লিকা মালতী যুঁই বেলি।।
যার প্রাণে বিরহ জ্বালা
লহ এ অশোক মাধবী মালা,
এ হাস্নুহানা নেবে যে বালা —
	কাটিবে জীবন তার হাসি খেলি।।
মোর এই বকুল মালা পরে যে আদর ক’রে
বঁধু তার ব্যাকুল হয়ে ফিরিয়া আসে ঘরে।
আমার এই পলাশ জবা রঙন ও কৃষ্ণচূড়া
বিনোদ বেণীতে খোঁপায় পরে নববধূরা,
শুনি মোর ফুলের বাণী সন্ধ্যারানী পরে গোধূলি রাঙা চেলি।।

আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

বাণী

আমি	সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
তুমি	সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি।।
		আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
		সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
	রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী।।
	রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
	ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাশিঁ।
		পরিয়া তোমার রূপ-অঞ্জন
		ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
	উছলি' উঠুক মোর সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি।।

মা আমি আর কি ভুলি

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে

বাণী

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে
হেসে নদীকুলে এলো হেলে দুলে!
	নূপুর রিনিকি ঝিনি বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।
দূরে মন উদাসি বাজে বাঁশের বাঁশি,
	বকুল-শাখে পাপিয়া ডাকে —
হেরিয়া বুঝি এই বন-বালিকায়
	রঙিন সাজে রে, বাজে রে।।
	এ বুঝি নদীর কেউ
তাই অধীর হলো জলে ঢেউ।
	চন্দন-মাখা যেন চাঁদের পুতলি,
	যত চলে তত রূপ ওঠে উথলি
মেঘে লুকালো পরী লাজে রে, বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।

দুপুর বেলাতে একলা পথে

বাণী

দুপুর বেলাতে একলা পথে,
	ও কে হেলিয়া দুলিয়া চলিয়া যায়।
ক্ষ্যাপা হাওয়াতে উড়িছে আঁচলা,
খোঁপা খুলিয়া খুলিয়া খুলিয়া যায়।।
	ছল ক’রে জল যায় সে আনিতে
	দেখিয়া গুরুজন ঘোমটা দিতে,
ও সে ভুলিয়া ভুলিয়া ভুলিয়া ভুলিয়া যায়।।
	কাহার গলার মালার তরে
	আপন মনে আঁচল ভ’রে,
ফুল তুলিয়া তুলিয়া তুলিয়া তুলিয়া যায়।।
	কার বিরহে পরান দহে
	কিসের নেশায় মদির মোহে,
ও সে ঢুলিয়া ঢুলিয়া ঢুলিয়া ঢুলিয়া যায়।।

আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো

বাণী

আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো, চলো আমার বাড়ি
ওগো ভিনগেরামের নারী
তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো চুড়ি বেলোয়ারি।।
তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো কলমিলতার বালা,
রক্ত-শালুক দিবো পায়ে, পরবে আলতা তা'রি।।
হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাবো ওই গায়!
ঠোঁটে দিবো রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
বকুল-ডালে ডাকবে পাখি, 'বউ গো কথা কও!'
আমি সব দিবো গো, যা পারি আর যা দিতে না পারি।।