রংমহলের রংমশাল মোরা

বাণী

রংমহলের রংমশাল মোরা আমরা রূপের দীপালি।
রূপের কাননে আমরা ফুলদল কুন্দ মল্লিকা শেফালি।।
	রূপের দেউলে আমি পূজারিণী
	রূপের হাটে মোর নিতি বিকিকিনি,
	নৌবতে আমি প্রাতে আশাবরি,
			আমি সাঁঝে কাঁদি ভূপালী।।
	আমি শরম-রাঙা চোখের নেশা,
	লাল শারাব আমি আঙুর-পেষা,
	আঁখিজলে গাঁথা আমি মোতি-মালা,
			দীপাধারে মোরা প্রাণ জ্বালি।।

বনে বনে দোলা লাগে

বাণী

বনে বনে দোলা লাগে।
মনে মনে দোলা লাগে
	দখিনা-সমীর জাগে।।
একি এ বেদনা লয়ে
ফুটিল কুসুম হৃদয়ে
আবেশে পুলকে ভয়ে
	না-জানা পরশ মাগে।।
কিশোর হৃদয় পুটে
অশোক রঙিন ফোটে
কপোল রাঙিয়া ওঠে
	অতনুর অনুরাগে।।

আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি

বাণী

আমি	রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
সেথা	করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী।।
মোর	কামনার কালীদহ করি মন্থন
	কালীয় নাগে হরি করিও দমন
আছে	গিরি-গোরবর্ধন মোর অপরাধ
যদি	সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী।।
আছে	ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
আছে	অবিদ্যা পুতনা শোক দাবানল
আছে	শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগণ
আছে	অসহায় রোদনের যমুনা-বারি
আছে	জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
হরি	সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
তুমি	আসিলে হরি ব্রজে রাসেশ্বরী
	আসিবেন হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী।।

চাঁদ হেরিছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে

বাণী

চাঁদ হেরিছে চাঁদ–মুখ তার সরসীর আরশিতে।
ছুটে তরঙ্গ বাসনা–ভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।।
হেরিছে রজনী – রজনী জাগিয়া
চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া,
কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া
		কুমুদীরে কাঁদাইতে।।
না জানি সজনী কত সে রজনী কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া,
হেরেছে শশীরে সরসী–মুকুরে ভীরু ছায়া–তরু কাঁপিয়া।
কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরণী
চির–বিরহিণী রোহিণী ভরণী
অবশ আকাশ বিবশা ধরণী
		কাঁদানীয়া চাঁদিনীতে।।

তোমারেই আমি চাহিয়াছি প্রিয়

বাণী

তোমারেই আমি চাহিয়াছি প্রিয় শতরূপে শতবার।
জনমে জনমে চলে তাই মোর অনন্ত অভিসার।।
		বনে তুমি যবে ছিলে বনফুল
		গেয়েছিনু গান আমি বুল্‌বুল্‌,
ছিলাম তোমার পূজার থালায় চন্দন ফুলহার।।
তব সংগীতে আমি ছিনু সুর নৃত্যে নূপুর–ছন্দ,
আমি ছিনু তব অমরাবতীতে পারিজাত ফুল–গন্ধ।
		কত বসন্তে কত বরষায়
		খুঁজেছি তোমায় তারায় তারায়,
আজিও এসেছি তেমনি আশায় ল’য়ে স্মৃতি–সম্ভার।।

ঐ কাজল-কালো চোখ

বাণী

			ঐ কাজল-কালো চোখ।
আদি কবির আদি রসের যেন দু’টি শ্লোক।।
	দু’টি কুসুম আছে ফু’টে
	পুষ্প-লতার পত্র-পুটে,
সেই আলোকে রেঙে উঠে — বনের গহন লোক।।
রূপের সাগর সাঁত্‌রে বেড়ায় পান কৌড়ি পাখি
			ঐ কাজল-কালো আঁখি,
মদির আঁখির নীল পেয়ালায় শরাব বিলাও নাকি,
			ওগো কাজল-কালো আঁখি।
	তোমার দু’টি আঁখি-তারা
	তারার মত তন্দ্রাহারা,
আমার মুখে চেয়ে চেয়ে অশ্রু-সজল হোক।।

১. হাসিতে