ওরে সর্বনাশী মেখে এলি

বাণী

ওরে	সর্বনাশী! মেখে এলি এ কোন চুলোর ছাই!
	শ্মশান ছাড়া খেলার তোর জায়গা কি আর নাই॥
	মুক্তকেশী, কেশ এলিয়ে
ওমা	বেড়াস কখন কোথায় গিয়ে
আমি	এক নিমেষ তোকে নিয়ে (আমি) শান্তি নাহি পাই॥
ওরে	হাড়-জ্বালানী মেয়ে, হাড়ের মালা কোথায় পেলি,
	ভুবন-মোহন গৌরী রূপে কালি মেখে এলি!
তোর	গায়ের কালি চোখের জলে
আমি	ধুইয়ে দেব আয় মা কোলে;
তোরে	বুকে ধরেও মরি জ্ব’লে, আমি দিই মা গালি তাই॥

পরমাত্মা নহ তুমি মোর

বাণী

পরমাত্মা নহ তুমি মোর (তুমি) পরমাত্মীয় মোর।
হে বিপুল বিরাট! মোর কাছে তুমি, প্রিয়তম চিতচোর॥
তোমারে যে ভয় করে হে বিশ্বত্রাতা
তার কাছে তুমি রুদ্র দন্ডদাতা,
প্রেমময় বলে তোমারে যে বাসে ভালো
তার কাছে তুমি মধুর লীলা কিশোর॥
দ্যাখে ভীরু চোখ আষাঢ়ের মেঘে বজ্র তব বিপুল,
মোর মালঞ্চে সেই মেঘে হেরি, ফোটায় নবমুকুল।
আকাশের নীল অসীম পদ্ম পরে
চরণ রেখেছ, হে মহান লীলা ভরে
সেই অনন্ত জানি না কেমন ক’রে
আমার হৃদয়ে খেল দিবানিশি ভোর॥

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী

বাণী

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী কোরানের মধু-বাণী।
আয়েশা খাতুন শোনেন বসিয়া, নয়নে ঝরিছে পানি।।
	বে-দ্বীন দিওয়ানা হ’য়ে
	কাঁদে যে কোরান ল’য়ে,
বিশ্ববাসী আনিল ঈমান যে পাক কোরান মানি’।।
চন্দ্র-তারকা-গ্রহ আদি ঐ তরুলতা মরু-বায়,
কোরানের সেই আয়াত শুনিয়া লুটায় নবীর পায়।
	কোরানে জাগাও ওরে
	জ্ঞান-গরিমায় মোরে,
মরিতে আমায় দিও গো ল’য়ে বক্ষে কোরানখানি।

কেন ঘুম ভাঙালে প্রিয়

বাণী

কেন ঘুম ভাঙালে প্রিয় যদি ঠেলিবে পায়ে।
বৃথা বিকশিত কুসুম কি যাবে শুকায়ে,
একা বন-কুসুম ছিনু বনে ঘুমায়ে।।
ছিল পাশরি’ আপন-বেভুল কিশোর-হিয়া,
বধূর বিধূর-যৌবন কে দিলে জাগায়ে।।
প্রিয় গো প্রিয় —
আকাশ-বাতাস কেন ব্যথার রঙে তুমি দিলে রাঙায়ে।।

নাটক : ‘আলেয়া’

মোর গানের কথা যেন আলোকলতা

বাণী

মোর গানের কথা যেন আলোকলতা, যেন স্বর্ণলতা।
মূল নাই ফুল নাই আছে শুধু বনের বিহ্বলতা।।
	আকাশ-বনস্পতি জড়ায়ে
	ধরণীর বুকে পড়ে গড়ায়ে,
কখন কি আবেশে কার কথা ভাবে সে — কে জানে কেন অযথা।।
রহে কারো বক্ষে, রহে কারো চক্ষে বিরহের অশ্রুজলে,
কণ্ঠলগ্না কারো রহে সে গীত-কলি মুঞ্জরে অধরতলে।
	রাখি হয়ে কারও হাতে বাঁধে সে
	কাহারও চরণতলে কাঁদে সে,
সুরে সুরে গুঞ্জিত ও-যেন পূঞ্জিত — অকারণ মৌন ব্যথা।।

আধখানা চাঁদ হাসিছে আকাশে

বাণী

আধখানা চাঁদ হাসিছে আকাশে
	আধখানা চাঁদ নিচে
	প্রিয়া তব মুখে ঝলকিছে
গগনে জ্বলিছে অগণন তারা
	দু’টি তারা ধরণীতে
	প্রিয়া তব চোখে চমকিছে।।
তড়িৎ-লতার ছিঁড়িয়া আধেকখানি
জড়িত তোমার জরীণ ফিতায় রানী!
অঝোরে ঝরিছে নীল নভে বারি
	দুইটি বিন্দু তারি
	প্রিয়া তব আঁখি বরষিছে।।
মধুর কণ্ঠে বিহগ বিলাপ গাহে,
গান ভুলি’ তা’রা তব অঙ্গনে চাহে,
তাহারও অধিক সুমধুর সুর তব
	চুড়ি কঙ্কনে ঝনকিছে।।