ছল্‌কে গাগরি গোরী ধীরে

বাণী

ছল্‌কে গাগরি গোরী ধীরে ধীরে যাও,
পলকে পরান নিতে বারেক ফিরে চাও।।
	যৌবন-ভার-নত
	ক্ষীণ তনু সহে কত,
পরানের বিনিময়ে তব ভার মোরে দাও।।
ঝলকে বিজলি-জ্বালা মদির নয়ন তলে
পতঙ্গ পোড়ে অনলে তবু সে পড়ে না জলে,
নয়নে চাহিয়া দহি, নয়ন ফিরায়ে দাও।।

সেদিন ছিল কি গোধূলি

বাণী

সেদিন ছিল কি গোধূলি–লগন শুভদৃষ্টি ক্ষণ।
চেয়েছিল মোর নয়নের পানে যেদিন তব নয়ন।।
সেদিন বকুল শাখে কি গো আঙিনাতে
ডেকে উঠেছিল কুহু–কেকা এক সাথে,
অধীর নেশায় দুলে উঠেছিল মনের মহুয়া বন।।
হে প্রিয়, সেদিন আকাশ হতে কি তারা পড়েছিল ঝ’রে,
যেদিন প্রথম ডেকেছিলে তুমি মোর ডাকনাম ধ’রে।
(প্রিয়) যেদিন প্রথম ছুঁয়েছিলে ভালবেসে
আকাশে কি বাঁকা চাদ উঠেছিল হেসে,
শঙ্খ সেদিন বাজায়েছিল কি পাষাণের নারায়ণ।।

দাও শৌর্য দাও ধৈর্য্য

বাণী

দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য্য, হে উদার নাথ,
			দাও প্রাণ।
দাও অমৃত মৃত জনে,
দাও ভীত –চিত জনে, শক্তি অপরিমাণ।
			হে সর্বশক্তিমান।।
দাও স্বাস্থ্য, দাও আয়ু,
স্বচ্ছ আলো, মুক্ত বায়ু,
দাও চিত্ত অ–নিরুদ্ধ, দাও শুদ্ধ জ্ঞান।
			হে সর্বশক্তিমান।।
দাও দেহে দিব্য কান্তি,
দাও গেহে নিত্য শান্তি,
দাও পুণ্য প্রেম ভক্তি, মঙ্গল কল্যাণ।
ভীতি নিষেধের ঊর্ধে স্থির,
রহি যেন চির — উন্নত শির
যাহা চাই যেন জয় করে পাই, গ্রহণ না করি দান।
			হে সর্বশক্তিমান।।

‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি

বাণী

‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি ব’সে শোকের ঘোর শ্মশানে।
মা অভয়ার নাম গুণে শান্তি যদি পাই এ প্রাণে।।
	এই শ্মশানে ঘুমিয়ে আছে
	যে ছিল মোর বুকের কাছে,
সে হয়ত আবার উঠবে জেগে মা ভবানীর নাম-গানে।।
সকল সুখ শান্তি আমার নিল হ’রে যে-পাষাণী,
শূন্য বুকে বন্দী ক’রে রাখব আমি তারেই আনি’।
	মোর, যাহা প্রিয় মাকে দিয়ে
	জাগি আশার দীপ জ্বালিয়ে,
মা’র সেই চরণের নিলাম শরণ, যে-চরণে মা আঘাত হানে।।

১. বুকে চিতা, ২. যে চরণে প্রলয় আনে

ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায়

বাণী

দ্বৈত	:	ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায় (লো)।
		নাচন দুজন মাদল, বাঁশি, নূপুর নিয়ে আয় (লো)।।
স্ত্রী	:	আর জনমে চোরকাঁটা তুই ছিলি (রে)
		এই জনমে আঁচল ছিঁড়ে হৃদয়ে বিঁধিলি।
পুরুষ	:	চোরকাঁটা নয় ছিলাম পানের খিলি লো
		গয়না ছিলাম গায় (লো)।।
স্ত্রী	:	ঝিলমিলয়ে ঝিলের জল নাচায় শালুক ফুল —
পুরুষ	:	শালুক যেন মুখাখানি তোর লো ঝিলের ঢেউ যেন এলোচুল।
স্ত্রী	:	কুহু কুহু ডেকে কোকিল কাহার কথা কহে
পুরুষ	:	সেই কথা কয় কোয়েলা আর জনমে করেছি যা তোরই বিরহে।
দ্বৈত	:	সে জনমের দু’টি হৃদয় এ জনমে হায়
		এক হতে যে চায় লো এক হতে যে চায়।।

তোর কালো রূপ দেখতে মাগো

বাণী

(মাগো)	তোর কালো রূপ দেখতে মাগো, কাল্ হ’ল মোর আঁখি,
		চোখের ফাঁকে যাস পালিয়ে মা তুই কালো পাখি॥
আমার		নয়ন দুয়ার বন্ধ ক’রে এই দেহ পিঞ্জরে,
		চঞ্চলা গো বুকের মাঝে রাখি তোরে ধ’রে;
		চোখ্ চেয়ে তাই খুঁজে বেড়াই পাই না ভুবন ভ’রে
		সাধ যায় মা জন্ম জন্ম অন্ধ হ’য়ে থাকি॥
		কালো রূপের বিজলি চমক কোটি লোকের জ্যোতি,
		অনন্ত তোর কালোতে মা সকল আলোর গতি।
		তোর কালো রূপ কে বলে মা ‘তমঃ’,
		ঐ রূপে তুই মহাকালি মাগো নমঃ নমঃ
তুই		আলোর আড়াল টেনে মাগো দিস্ না মোরে ফাঁকি॥