হায় স্মরণে আসে গো অতীত কথা

বাণী

হায় স্মরণে আসে গো অতীত কথা।
নয়নে জল ভরে তাই হৃদয় করে ব্যথা,
মুখ তার রহি’ রহি’ পড়ে মোর মনে।।
তার স্মৃতি ভুলিতে চাহি যতই
সখি মনে পড়ে তারে ততই,
সে কাঁদায় সখি মোরে ঘুমে জাগরণে।।
তার সাথে গেছে প্রাণ, দেহ আছে প’ড়ে,
বাঁচার অধিক আমি সখি গো আছি ম’রে।
নাহি ফুল, আছে কাঁটার স্মৃতি
নাহি আর সে-চাঁদিনী তিথি,
নাহি আর সুখ শান্তি সখি এ জীবনে।।

ও কে বিকাল বেলা ব’সে

বাণী

ও কে বিকাল বেলা ব’সে নিরালা বাঁধিছে কেশ।
হেরি’ আর্শিতে নিজেরই চারু-মুখ (চোখে) জাগে আবেশ।।
বসনের শাসন নাই অঙ্গে তাহার
উথ্‌লে পড়ে মুক্ত-দেহে যৌবন-জোয়ার,
খুলে’ খুলে’ পড়ে কেশের কাঁটা বেণীর লেশ।।
আঙুলগুলি নাচের ভঙ্গিতে,
খেলে বেড়ায় বেণীর বিনুনিতে।
কভু বাঁকায় ভুরু কভু বাঁকায় গ্রীবা
ঠিক্‌রে পড়ে আয়নায় রূপের বিভা,
জাগে সহসা গালে তা’র সিঁদুর-ডিবার রঙের রেশ।।

শুক্লা জোছনা তিথি ফুল্ল পুষ্পবীথি

বাণী

শুক্লা জোছনা তিথি, ফুল্ল পুষ্পবীথি গন্ধ-বন-গীতি আকুল উপবন।
চিত্ত স্মপ্নাতুর, তঙ্গ চুর চুর মাগে হৃদি-পুর সুন্দর-পরশন।।
	চন্দন-গন্ধিত মন্দ দখিনা-বায়
	নন্দন-বাণী ফুলে ফুলে ক’য়ে যায়,
তনুমন জাগে রাঙা অনুরাগে, মনে লাগে আজ (আজি মাধবী) বাসর-জাগরণ।।

নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

ভুবনময়ী ভবনে এসো

বাণী

ভুবনময়ী ভবনে এসো সীমার মাঝে এসো অসীমা।
ভক্ত মনের মাধুরী দিয়ে গড়িয়াছি মা তোমার প্রতিমা।।
	চিন্ময়ী গো ধর মৃন্ময়ীরূপ
	কত যুগ মাগো জ্বলিবে পূজাধূপ
মানসপটে বোধন ঘটে হও চির আসীনা করুণাময়ী মা।।
সে কোন অতীতে সুদূর ত্রেতায় এসেছিলে মা অশিব নাশিনী
আসিলে না আর ধূলির ধরায় দিলে না মা বর অমৃত ভাষিণী।
	কত যুগ গেল কত বরষ মাস
	কত বিফল পূজা কত কাঁদন হুতাশ
জাগ যোগমায়া যোগনিদ্রা ভোল পুন বিশ্বে প্রচার হোক্‌ তব মহিমা।।

শ্যামা নামের লাগলো আগুন

বাণী

শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধূপ–কাঠিতে।
যত জ্বলি সুবাস তত ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে।।
		ভক্তি আমার ধূমের মত
		উর্দ্ধে ওঠে অবিরত,
শিব–লোকের দেব–দেউলে মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।।
ওগো অন্তর–লোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ–সুবাসে,
মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে।
		যা কিছু মোর পুড়ে কবে
		চিরতরে ভস্ম হবে
মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই ভস্ম–বিভূতিতে।।

আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী

বাণী

আমার	কোন্‌ কূলে আজ ভিড়লো তরী
			এ কোন সোনার গাঁয়
আমার	ভাটির তরী আবার কেন
			উজান যেতে চায়
		তরী	উজান যেতে চায়
	কোন কূলে মোর ভিড়লো তরী
	এ কোন্‌ সোনার গাঁয়।।
আমার	দুঃখেরে কান্ডারী করি’
আমি	ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরী
তুমি	ডাক দিলে কে স্বপন–পরী
			নয়ন ইশারায়।।১
	নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
	ডেকেছিলে ঝড়ের রাতি
তুমি	কে এলে মোর সুরের সাথী গানের কিনারায়।
তুমি 	কে এলে? ওগো কে এলে মোর সুরের সাথী
			গানের কিনারায়?
	সোনার দেশের সোনার মেয়ে,
ওগো তুমি	হবে কি মোর তরীর নেয়ে,
	ভাঙ্গা তরী চলো বেয়ে রাঙা অলকায়।।

১. ‘অন্তরা’ অংশ গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।