ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়

বাণী

ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়।
খুলে পড়ে গো বাজুবন্দ ধরিতে আঁচল
কোন ঘূর্ণি বাতাস এলো ছন্দ-পাগল
লাগে নাচের ছোঁয়া দেহের কাঁচ মহলায়
হয়ে পায়েলা উতলা সাধে ধরিয়া পায়।।
খুলিয়া পড়ে খোঁপায়, কবরীর ফুলহার
হাওয়ার এই রূপে গো এলো কি বঁধু আমার
এমনি দুরন্ত আদর সোহাগ তার
একি পুলক-শিহরেণে পরান মূরছায়।।

তোমার হাতের সোনার রাখি

বাণী

তোমার হাতের সোনার রাখি আমার হাতে পরালে।
আমার বিফল বনের কুসুম তোমার পায়ে ঝরালে।।
		খুঁজেছি তোমায় তারার চোখে
		কত সে-গ্রহে কত সে-লোকে,
আজ কি তৃষিত মরুর আকাশ বাদল-মেঘে ভরালে।।
দূর অভিমানের স্মৃতি কাঁদায় কেন আজি গো!
মিলন-বাঁশি সহসা ওঠে ভৈরবীতে বাজি’ গো!
		হেনেছ হেলা, দিয়েছ ব্যথা
		মনে পড়ে আজ কেন সে-কথা,
মরণ-বেলায় কেন এ গলায় মালার মতন জড়ালে।।

আয় ঘুম আয় সাপিনীর দংশনে

বাণী

আয় ঘুম আয়!
সাপিনীর দংশনে যেমন অবশ তনু —
তেমনি ঢলিয়া পড় মায়া-নিদ্রায়।।
সংসার অহিফেন বিষ পিয়ে হায়
যেমন অচেতন জীব অসাড়ে ঘুমায়,
যেমন পাতাল তলে ঘুমায় দৈত্যদলে
তেমনি ঘুমাও জড় পাষাণের প্রায়।।

নাট্যগীতি : ‘দেবী দুর্গা’

মধুকর মঞ্জির বাজে

বাণী

মধুকর মঞ্জির বাজে বাজে
		গুন্‌ গুন্‌ মঞ্জুল গুঞ্জরণে।
মৃদুল দোদুল নৃত্যে
		বন শবরী মাতে কুঞ্জবনে।।
বাজাইছে সমীর দখিনা
পল্লবে মর্মর বীণা,
বনভুমি ধ্যান–আসীনা
		সাজিল রাঙা কিশলয়–বসনে।।
ধূলি ধূসর প্রান্তর পরেছিল গৈরিক সন্ন্যাস–সাজ
নব–দূর্বাদল শ্যাম হলো আনন্দে আজ।
লতিকা–বিতানে ওঠে ডাকি’
মুহু মুহু ঘুমহারা পাখি
নব নীল অঞ্জন মাখি’
		উদাসী আকাশ হাসে চাঁদের সনে।।

কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু

বাণী

কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু হে ফুল-দেবতা লহ প্রণাম।
বিটপী লতায় চিকন পাতায় ছিটাও হাসি কিশোর শ্যাম।।
পূজার থালা এ অর্ঘ্য-ডালা এনেছি দিতে তোমার পায়
দেহ শুভ বর কুসুম-সুন্দর হোক নিখিল নয়নাভিরাম
এ বিশ্ব বিপুল কুসুম-দেউল হোক তোমার ফুল কিশোর
মুরলী করে এসো গোলক-বিহারী হোক ভূ-লোক আনন্দ-ধাম।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

মোর শ্যাম সুন্দর এসো

বাণী

মোর শ্যাম সুন্দর এসো।
প্রেমের বৃন্দাবনে এসো হে ব্রজধাম-সুন্দর এসো।।
এসো হৃদয়ে হৃদয়েশ মোর নয়নের আগে এসো হে।
মোর নব-অনুরাগে এসো শ্যাম কোটি-কাম-সুন্দর এসো।।
রস মানস গঙ্গার কূলে রসরাজ এসো এসো হে।
এসো মুরলী বাজায়ে এসো হে, এসো ময়ূর নাচায়ে এসো হে মধাব,
মধু-বনমাঝে, এসো এসো হে।।
মোর মুখের ভাষায় এসো, মোর প্রাণের আশায় এসো।
নবীন নীরদ ঘনশ্যাম রূপে রূপ-পিপাসায় এসো
এসো মদন-মোহন শোভন অভিরাম-সুন্দর এসো।।