ফুলের বনে ফুলের সনে

বাণী

ফুলের বনে ফুলের সনে
	ফুলেল হাওয়া নাচে দুলিয়া দুলিয়া।
টগর হেনা চামেলি মালতি বেলি
	ফুটিল দল মেলি’ শরম ভুলিয়া।।
	মউ বিলাসী প্রজাপতি
	নেচে ফেরে অথির মতি,
	নাচে হরিণ চপল গতি —
		চটুল আঁখি তুলিয়া।।

জানি জানি প্রিয় এ জীবনে মিটিবে না সাধ

বাণী

জানি	জানি প্রিয়, এ জীবনে মিটিবে না সাধ
আমি	জলের কুমুদিনী ঝরিব জলে
তুমি	দূর গগনে থাকি’ কাঁদিবে চাঁদ।।
	আমাদের মাঝে বঁধু বিরহ বাতাস
	চিরদিন ফেলে যাবে দীরঘ শ্বাস
	পায় না বুকে কভু পায় না বুকে তবু মুখে মুখে
	চাঁদ কুমুদীর নামে রটে অপবাদ।।
তুমি	কত দূরে বঁধু, তবু বুকে এত মধু কেন উথলায়?
	হাতের কাছে রহো রাতের চাঁদ গো
	ধরা নাহি যায় তবু ছোঁওয়া নাহি যায়।
	মরু-তৃষা ল’য়ে কাঁদে শূন্য হিয়া
	সকলে বলে আমি তোমারি প্রিয়া
সেই	কলঙ্ক-গৌরব সৌরভ দিল গো
	মধুর হ’ল মোর বিরহ-বিষাদ।।

ভুলি কেমনে আজো যে মনে

বাণী

ভুলি কেমনে	আজো যে মনে
বেদনা-সনে	রহিল আঁকা।
আজ সজনী	দিন রজনী
সে বিনে গনি	সকলি ফাঁকা।।
আগে মন		করলে চুরি
মর্মে শেষে		হানলে ছুরি
এত শঠতা		এত যে ব্যথা
তবু যেন তা	মধুতে মাখা।।
চকোরী		দেখলে চাঁদে
দূর থেকে সই	আজো কাঁদে
আজো বাদলে	ঝুলন ঝুলে
তেমনি জলে	চলে বলাকা।।
বকুলের		তলায় দোদুল
কাজলা মেয়ে	কুড়োয় লো ফুল
চলে নাগরী	কাঁখে গাগরি
চরণ ভারি		কোমর বাঁকা।।
ডালে তোর	করলে আঘাত
দিস্ রে কবি	ফুল সওগাত
ব্যথা-মুকুলে	অলি না ছুঁলে
বনে কি দুলে	ফুল-পতাকা।।

পিয়াল তরুতে হেরিয়াছিল প্রিয়া

বাণী

পিয়াল তরুতে হেরিয়াছিল প্রিয়া তোমার দীঘল তনু।
ফুল-ভারনত শাখাতে তাহার বাঁকা তব ভুরু-ধনু।।

নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’ (মজনু গান)

ঝুলনের এই মধু লগনে

বাণী

ঝুলনের এই মধু লগনে।
মেঘ দোলায় দোলে; দোলে রে বাদল গগনে।।
উদাসী বাঁশির সুরে ডাকে শ্যামরায়,
ব্রজের ঝিয়ারি আয়, পরি নীল শাড়ি আয়,
নীল কমল কুঁড়ি দোলায়ে শ্রবণে।।
বাঁশির কিশোর ব্রজগোপী চিতচোর,
অনুরাগে ডাকে আয় দুলিবি কে ঝুলনে।।
মেঘ মৃদং বাজে, বাজে কী ছন্দে,
রিমঝিম বারিধারা ঝরে আনন্দে।
বুঝি এলো গোকুল ব্রজে নেমে
কৃষ্ণ রাখাল প্রেমে শুনি বাঁশি তায়
ফোটে হাসি গোপীজন আননে।।

তুমি আরেকটি দিন থাকো

বাণী

তুমি		আরেকটি দিন থাকো।
		হে চঞ্চল, যাবার আগে মোর মিনতি রাখো।।
আমি		ভালো ছিলাম ভুলে’ একা
		কেন নিঠুর দিলে দেখা,
তুমি		ঝরা-ফুলে গাঁথ্‌লে মালা গলায় দিলে না কো।।
তোমার	কাজের মাঝে আমায় ভোলা সহজ হবে, স্বামী!
		কেমন ক’রে এক্‌লা ঘরে থাক্‌বো ভুলে আমি।
		নিবু নিবু প্রদীপ আশার
তুমি		জ্বালিয়ে দিলে যদি আবার —
প্রিয়		নিভ্‌তে তারে দিও না আর আদর দিয়ে রাখো।।