ব্রজবাসী মোরা এসেছি মথুরা

বাণী

ব্রজবাসী মোরা এসেছি মথুরা, দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।
মথুরার রাজা হ’য়েছে মোদের কানাই গোঠ বিহারী।।
[মথুরার রাজা হয়েছে হায় তোমাদের রাজা হয়েছে ভাই —
কানাই গোঠ বিহারী, দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।]*
রাজ-দণ্ড কেমন মানায় শোভিত যে হাতে বাঁশি
[শোভিত যে হাতে বাঁশি]*
মুকুট মাথায় কেমন দেখায় শিরে শিখী-পাখা ধারী।।
[সে শিরে শিখী-পাখা ধারী
দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।]*
শ্যামলী ধেনুর দুগ্ধের ক্ষীর এনেছি কানুর লাগিয়া
পাঠায়েছে তারে মথিয়া নবনী, যশোদা-নিশীথ জাগিয়া,
বনমালী লাগি নব-নীপ-মালা আনিয়াছি হের [মোরা] গাঁথিয়া,
কুড়ায়ে এনেছি ফেলে এসেছিল যে বাঁশরি বনচারী।।
ব্রজের দুলাল রাখাল ব’সেছে রাজার আসন ’পরে,
সারা গোকুলের এনেছি আশিস তাই রে তাহার তরে।
পাঠায়েছে গোপী-চন্দন তাই রাই অনুরাগ ভরে
(পাঠায়েছে রাই অনুরাগ ভরা গোপী চন্দন,
পাঠায়েছে রাই [তাই] হরির লাগিয়া হরি চন্দন।)
নয়ন-যমুনা ছানিয়া এনেছি আকুল অশ্রুবারি।।
[দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।।]*

* রেকর্ডে গীত

মোর প্রথম মনের মুকুল

বাণী

মোর	প্রথম মনের মুকুল
	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
			উড়ে গেল গহন-বনে।।
	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।

মোর পুষ্প-পাগল মাধবী-কুঞ্জে

বাণী

মোর পুষ্প-পাগল মাধবী-কুঞ্জে এই ত প্রথম মধুপ গুঞ্জে,
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।
মম চন্দ্র-হসিত মাধবী নিশীথ বিষাদের মেঘে ছেয়ো না।।
	হের তরুণ তমাল করুণ ছায়ায়
	আসন বিছায়ে তোমারে সে চায়;
তোমার বাঁশির বিদায় সুরে, বন কদম্ব-কেশর ঝুরে;
ওগো অকরুণ! ঐ সকরুণ নীতি গেয়ো না।
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।।
তোলা বন-ফুল রয়েছে আঁচলে হয়নি ক মালা গাঁথা,
বকুলের ছায়ে নব কিশলয়ে হয়নি আসন পাতা।
	মুকুলিয়া মোর কামনা সলাজ
	দলিও না পায়ে, হে রাজাধিরাজ!
মম অধরের হাসি করিও না বাসি, পরবাসী যেতে চেয়ো না!
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।।

এলো আবার ঈদ ফিরে

বাণী

	এলো আবার ঈদ ফিরে এলো আবার ঈদ, চলো ঈদগাহে।
	যাহার আশায় চোখে মোদের ছিল না রে নিদ, চলো ঈদ্গাহে।।
	শিয়া সুন্নী, লা-মজহাবী একই জামাতে
	এই ঈদ মোবারকে মিলিবে এক সাথে,
	ভাই পাবে ভাইকে বুকে, হাত মিলাবে হাতে;
আজ	এক আকাশের নীচে মোদের একই সে মসজিদ, চলো ঈদগাহে।।
	ঈদ এনেছে দুনিয়াতে শিরণী বেহেশ্‌তী,
	দুশ্‌মনে আজ গলায় ধ'রে পাতাব ভাই দোস্তী,
	জাকাত দেব ভোগ-বিলাস আজ গোস্‌সা ও বদ্‌মস্তি;
	প্রাণের তশ্‌তরীতে ভ'রে বিলাব তৌহীদ — চলো ঈদ্গাহে।।
	আজিকার এই ঈদের খুশি বিলাব সকলে,
	আজের মত সবার সাথে মিল্‌ব গলে গলে,
	আজের মত জীবন-পথে চলব দলে দলে
	প্রীতি দিয়ে বিশ্ব-নিখিল ক'রব রে মুরীদ্ — চলো ঈদগাহে।।

কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্

বাণী

কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্, আদি আকাশ বাণী।
কোন্ মহামৌনীর ধ্যান ভাঙে কোন্ বিরহের বীণাপাণি —
			নাহি জানি নাহি জানি।।
	নিথর শূন্য অসীমে কোথায়
	কে সে প্রণব-শঙ্খ বাজায়,
সেই ধ্বনি বুঝি জ্যোতির্জ্জগতে বাহিরে আনিছে টানি।।
কোন্ অজানার অলখ-জটায় কথার গঙ্গা কাঁদে
কোন্ মায়াতীত সুন্দর হ’ল পড়িয়া মায়ার ফাঁদে।
	কার সাথে এত কথা কহিবার
	এত সে-গোপন সাধ ছিল তার,
তাহারি বাঁশরি-ধ্বনির কথা কি ব্রজে হয় কানাকানি।।

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে

বাণী

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে
এমনি ক'রে জনম কি মোর কেঁদেই যাবে।।
	ওগো চপল বনের পাখি
	ধরা তুমি দেবে না কি,
অন্তরালে থাকি' শুধু গান শোনাবে।।
কেন এলে নিঠুর তুমি পথিক হাওয়া
তোমার স্বভাব ফুল ফুটিয়েই ঝরিয়ে যাওয়া
	হে বিরহী, লীলা-চত্বর,
	অশ্রু কি মোর এতই মধুর!
কবে এসে আমার অভিমান ভাঙাবে।।