সন্ধ্যা-আঁধারে ফোটাও দেবতা

বাণী

সন্ধ্যা-আঁধারে ফোটাও দেবতা, শুভ্র রজনীগন্ধা।
নিরাশা-শুষ্ক পরানে বহাও প্রেমের অলকানন্দা।।
	অশ্রু-জলের অকূল সায়রে
	ফুটুক কমল তব শুভ্র বরে
বেদনা-আহত কবির চিত্তে বাণী দাও মধু-ছন্দা।।
	দুঃখ আসিলে, সে-দুখ ভুলিলে
	দাও আনন্দ দুঃখীর চিতে,
আঁধার-গহন নিবিড় নিশীথে ভাঙিয়ো না সুখ-তন্দ্রা।।

মহান তুমি প্রিয়

বাণী

মহান তুমি প্রিয়!
এই কথাটির গৌরবে মোর চিত্ত ভ’রে দিয়ো।।
অনেক আশায় ব’সে আছি যাত্রা শেষের পর,
তোমায় নিয়েই পথের ’পরে বাঁধবো আমার ঘর —
					হে চির-সুন্দর!
পথ-শেষে সেই তোমায় যেন করতে পারি ক্ষমা,
			হে মোর কলঙ্কিনী প্রিয়তমা!
সেদিন যেন বলতে পারি, — ‘এসো এসো প্রিয়,
বক্ষে এসো, এসো আমার পূত কমনীয়।।’
হায় হারানো লক্ষ্মী আমার! পথ ভুলেছ ব’লে
চির-সাথী যাবে তোমার মুখ ফিরিয়ে চ’লে?
জান্ ওঠে হায় মোচড় খেয়ে, চলতে পড়ি ট’লে
অনেক জ্বালায় জ্বলে’ প্রিয় অনেক ব্যথায় গলে’।
বারে বারে নানান রূপে ছ’ল্‌তে আমায় শেষে,
কলঙ্কিনী! হাতছানি দাও সকল পথে এসে,
			কুটিল হাসি হেসে।।
ব্যথায় আরো ব্যথা হানাই যে সে!
তুমি কি চাও তোমার মতই কলঙ্কী এই আমি?
এখন তুমি সুদূর হ’তে আসবে ঘরে নামি’।
হে মোর প্রিয়া হে মোর বিপথ-গামী!
পথের আজো অনেক বাকী, তাই যদি হয় প্রিয় —
পথের শেষে তোমায় পাওয়ার যোগ্য করেই নিও।।

লক্ষ্মী মাগো নারায়ণী আয়

বাণী

লক্ষ্মী মাগো নারায়ণী আয় এ আঙিনাতে।
সুধার পাত্র সোনার ঝাঁপি ল’য়ে শুভ হাতে।।
	সৌভাগ্যদায়িনী তুই মা এসে
	দারিদ্র্য ক্লেশ নাশ কর মা হেসে
কোজাগরী পূর্ণিমা আন মা দুঃখের আঁধার রাতে।।
আন্‌ কল্যাণ শান্তি শ্রী, জননী কমলা,
এ অভাবের সংসারে থাক মা হয়ে অচঞ্চলা।
	রূপ দে মা যশ দে, দে জয়,
	অভয় পদে দে মা আশ্রয়,
ধরা ভরবে শস্যে ফুলে ফলে মা তোর আসার সাথে।।

ওগো মুর্শিদ পীর বলো বলো

বাণী

ওগো মুর্শিদ পীর! বলো বলো রসুল কোথায় থাকে।
কোথায় গেলে কেমন ক’রে দেখতে পাব তাঁকে।।
	বেহেশ্‌ত — ’পারে দূর আকাশে
	তাঁহার আসন খোদার পাশে,
সে এতই প্রিয়, আপনি খোদা লুকিয়ে তারে রাখে।।
কোরান পড়ি হাদিস শুনি, সাধ মেটে না তাহে,
আতর পেয়ে মন যে আমার ফুল দেখতে চাহে।
	সবাই খুশি ঈদের চাঁদে
	আমার কেন পরান কাঁদে,
দেখ্‌ব কখন আমার ঈদের চাঁদ — মোস্তফাকে।।

দিতে এলে ফুল হে প্রিয়

বাণী

দিতে এলে ফুল,হে প্রিয়,কে আজি সমাধিতে মোর?
এতদিনে কি আমারে পড়িল মনে মনচোর।।
জীবনে যারে চাহনি তাহারে ঘুমাইতে দাও।
মরণ-পারে ভেঙো না,ভেঙো না তাহার ঘুম-ঘোর।।
দিতে এসে ফুল কেঁদো না প্রিয় মোর,সমাধি-পাশে
ঝরিল যে ফুল অনাদরে হায়,নয়ন-জলে বাঁচিবে না সে!
সামাধি-পাষাণ নহে গো তোমার সমান কঠোর।।
কত আশা,সাধ মিশে যায় মাটির সনে
মুকুলে ঝরে কত ফুল কীটেরি দহনে।
কেন অসময়ে আসিলে,ফিরে যাও,মোছ আঁখি -লোর।।

মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়

বাণী

কিশোরীরা		:	মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়।
১ম কিশোরী	:	আমি অনুরাগ-রাঙা, আমি গোলাব-শাখায়।।
২য় কিশোরী	:	বন-কুন্তলে গরবী, আমি কানন-করবী।
৩য় কিশোরী	:	আমি সরসী-কমলা, আমি ষোড়শী কমলা
৪র্থ কিশোরী	:	আমি চম্পক খোঁপায়।।
				নিভিল আলেয়া-আলো পথ চলিতে,
প্রজাপতিদ্বয়	:	তোমরা আসিলে কি গো মন ছলিতে।
কিশোরীরা		:	মোরা অনির্বাণ-শিখা দীপ্তিমতী,
				আমরা কুসুম-রাঙা আমরা জ্যোতি।
প্রজাপতিদ্বয়	:	আমরা চাহি নাকো প্রেম, চাহি মোহিনী মায়ায়।।

নাটক : ‘আলেয়া’