খেলো না আর আমায় নিয়ে

বাণী

	খেলো না আর আমায় নিয়ে, প্রিয় অলস খেলা।
	নিঠুর খেলা খেল এবার ফুরায় খেলার বেলা।।
		(তুমি) অন্ধকারের আড়াল হতে
		লও হে টানি’ বাহির পথে,
	চঞ্চলতার বিপুল স্রোতে, দাও ভাসাতে ভেলা।।
(তুমি)	সবার চেয়ে ভালোবাসো, আঘাত যারে হানো,
	স্মরণ যারে করো তারে মরণ টানে টানো।
		ঠাঁই যারে দাও চরণ-তলে
		ভোলাও না তায় সুখের ছলে,
	মালার নামে দাও না গলে তোমার অবহেলা।।

তোমারি আশায় সব সুখ ছাড়িনু

বাণী

তোমারি আশায় সব সুখ ছাড়িনু
আর কেন রাখ প্রভু দূরে।
তুমি ছেড়ো না মোরে মোর গিরিধারী
বাঁধো মোরে চরণ-নূপুরে।।
বিরহ বেদনা মোর জ্বলে হৃদিকন্দরে
মুছাইয়া দাও আঁখিলোর।
তব চিত্তে মিলায় আজি চিত্ত হে মম
অঙ্গে মিলাও তব অঙ্গ পীতম।
জনমে জনমে মীরা তোমারি দাসী
হৃদি-বৃন্দাবনে নিতি ঝুরে।।

থাক্ এ গৃহ ঘিরিয়া সদা মঙ্গল কল্যাণ

বাণী

থাক্ এ গৃহ ঘিরিয়া সদা মঙ্গল কল্যাণ হে ভগবান।
দাও পুত পবিত্রতা প্রশান্তি অফুরান, হে ভগবান॥
অন্তরে দেহে দাও বিমল্-জ্যোতি
কর্মে প্রেরণা দাও ধর্মে মতি;
এ গৃহের নারী হোক পুণ্যবতী
বীরত্বে ত্যাগে হোক পুরুষ মহান; হে ভগবান॥
এ গৃহের বারি হোক নির্মল সুশীতল হে ভগবান,
এ গৃহের আলো হোক পুণ্যে সমুজ্জ্বল হে ভগবান।
সকলের সাথে হেথা প্রীতি যেন রয়
যেন নাহি থাকে হেথা রোগ শোক ভয়;
দূর কর হিংসা পাপ সংশয়
সার তব পায়ে নিবেদিত সকলের মনপ্রাণ, হে ভগবান॥

বিজলি চাহিনী কাজল কালো নয়নে

বাণী

বিজলি চাহিনী কাজল কালো নয়নে।
রহি’ রহি’ কেন হানিছ ক্ষণে ক্ষণে।।
	ভীরু প্রণয় মম
	ঝড়ের পাখির সম,
শরণ মাগে তোমার মনো-বনে।।
আমার প্রণয়-প্রদীপ-শিখা তোমারে শ্বাসে থেকে থেকে,
কেঁপে মরে, ওগো প্রিয়, বাঁচাও তারে আঁচল-ঢেকে।
ধ্যান যাহার ওই রাঙা চরণ, বেঁধো না তারে বেণীর ফাঁদে
কি হবে পিঞ্জরে রাখি’, বেঁধেছ যা’য় বাহুর বাঁধে,
	কেন হান আঘাত যে হেরে আছে রণে।।

আসিবে তুমি জানি প্রিয়

বাণী

আসিবে তুমি, জানি প্রিয়!
আনন্দে বনে বসন্ত এলো —
ভুবন হ’ল সরসা প্রিয়–দরশা, মনোহর।।
বনান্তে পবন অশান্ত হ’ল তাই, কোকিল কুহরে,
ঝরে গিরি–নির্ঝরিণী ঝর ঝর।।
ফুল্ল–যামিনী আজি ফুল–সুবাসে
চন্দ্র অতন্দ্র সুনীল আকাশে,
আনন্দিত দীপান্বিত অম্বর।।
অধীর সমীরে দিগঞ্চল দোলে
মালতী বিতানে পাখি পিউ পিউ বোলে,
অঙ্গে অপরূপ ছন্দ আনন্দ–লহর তোলে;
দিকে দিকে শুনি আজ আসিবে রাজাধিরাজ প্রিয়তম সুন্দর।।

মাগো চিন্ময়ী রূপ ধরে আয়

বাণী

মাগো চিন্ময়ী রূপ ধ’রে আয়।
মৃন্ময়ী রূপ তোর পূজি শ্রী দুর্গা তাই দুর্গতি কাটিল না হায়।।
	যে মহা-শক্তির হয় না বিসর্জন
	অন্তরে বাহিরে প্রকাশ যার অনুখন
মন্দিরে দুর্গে রহে না যে বন্দী সেই দুর্গারে দেশ চায়।।
আমাদের দ্বিভুজে দশভুজা-শক্তি দে পরম ব্রহ্মময়ী।
শক্তিপূজার ফল ভক্তি কি পাব শুধু হব না কি বিশ্বজয়ী?
এই পূজা-বিলাস সংহার কর্‌ যদি, পুত্র শক্তি নাহি পায়।।