আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে

বাণী

মা, মা গো —
আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে কাঠুরিয়ার মেয়ে,
কত নিরস তরু হ'ল মঞ্জুরিত তোর চরণ-পরশ পেয়ে।।
রোদে পুড়ে জলে ভিজে মা দিয়েছি ফুল ফল
শাখায় আমার, নীড় বেঁধেছে বিহঙ্গের দল।
বটের মত সারা দেহ মাগো মায়ার জটে আছে ছেয়ে।।
ও মা মূল আছে তাই বৈতরণীর কূলে আছি পড়ি
নইলে হ'তাম খেয়াঘাটের পারাপারের তরী।
	তুই খড়গের ভয় দেখাস মিছে
	মুক্তি আছে এরি পিছে মাগো
তোর হাসির বাঁশি শুনতে পাবো অসির আঘাত খেয়ে।।

কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই

বাণী

উভয়ে : 	কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই সুদূর বিমানে আমরা দু’জনে।
		কানন-কান্তর শিহরি’ ওঠে মোদের প্রণয়-মদির কূজনে।।
স্ত্রী 	:	ভ্রমর গুঞ্জে মঞ্জুল গীতি, হেরিয়া আমার বঁধূর প্রীতি,
পুরুষ :	আমার প্রিয়ার নয়নে চাহি’ কুসুম ফুটে ওঠে বিপিনে বিজনে।।
স্ত্রী 	:	তোমা ছাড়া স্বর্গ চাহি না, প্রিয়!
		মোদের প্রেমে চাঁদ আসে নেমে মাটির পাত্রে পান করি অমিয়।।
পুরুষ :	বিশ্ব ভুলায়ে ও-রাঙা পায়ে আমারে বেঁধেছে জীবনে মরণে।।

কারো ভরসা করিসনে তুই

বাণী

		কারো ভরসা করিসনে তুই (ও মন) এক আল্লার ভরসা কর।
		আল্লা যদি সহায় থাকেন (ও তোর) ভাবনা কিসের, কিসের ডর।।
		রোগে শোকে দুঃখে ঋণে নাই ভরসা আল্লা বিনে রে
তুই		মানুষের সহায় মাগিস (তাই) পাস্‌নে খোদার নেক্‌-নজর।।
		রাজার রাজা বাদশাহ্‌ যিনি গোলাম হ তুই সেই খোদার,
		বড় লোকের দুয়ারে তুই বৃথাই হাত পাতিস্‌নে আর।
		তোর দুখের বোঝা ভারি হ’লে ফেলে প্রিয়জনও যায় রে চ’লে
সেদিন	ডাক্‌লে খোদায় তাঁহার রহম (ওরে) ঝরবে রে তোর মাথার ’পর।।

বরষ গেল আশ্বিন এলো উমা এলো কই

বাণী

বরষ গেল, আশ্বিন এলো, উমা এলো কই
শূন্য ঘরে কেমন করে পরান বেঁধে রই।।
‌	ও গিরিরাজ! সবার মেয়ে
	মায়ের কোলে এলো ধেয়ে,
আমারই ঘর রইল আঁধার, আমি কি মা নই?
নাই শাশুড়ি ননদ উমার, আদর করার নাই (কেহ)
মা অনাদরে কালী সেজে বেড়ায় নাকি তাই।
	মোর গৌরী বড় অভিমানী,
	সে বুঝবে না মার প্রাণ-পোড়ানী;
আনতে তারে সাধতে হবে তার যে স্বভাব ঐ।।

নামিল বাদল রুমু রুমু ঝুমু

বাণী

নামিল বাদল! রুমু রুমু ঝুমু নূপুর চরণে
চল লো বাদল-পরী, আকাশ-আঙিনা ভরি’
			নৃত্য-উছল।।
চামেলি কদম যূঁথী মুঠি মুঠি ছড়ায়ে
উতল পবনে দে অঞ্চল উড়ায়ে,
তৃষিত চাতক-তৃষ্ণারে জুড়ায়ে চল্ ধরাতল।।

নাটক : ‘আলেয়া’ (বৃষ্টিধারার গান)

নিশুতি রাতের শশী গো

বাণী

নিশুতি রাতের শশী গো।
ঘুমায় সকলে নিশীথ নিঝুম
হরিল কে নয়নেরই ঘুম,
কার অভিসারে জাগো গগন-পারে —
চাঁদ ভুলানো সে-কোন্ রূপসী।।
লুকায়ে হেরি আমি অভিসার তব
তারকারা হেরে লুকায়ে নীরব,
কপট ঘুম ভেঙে হের হাসিছে সব —
দূর অলকার বাতায়নে বসি’।।

নাটকঃ ‘সাবিত্রী’